বিশ্বকাপ বিতর্ক, মরক্কো, আয়োজন,  স্পেন,  উচিত,
প্রধান বিরোধী দল কনজারভেটিভ পিপলস পার্টির (পিপি) নেতা আলবার্তো নুনিয়েজ ফেইহো। সংগৃহীত

২০৩০ সালের ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনাল মরক্কোতে আয়োজনের সিদ্ধান্ত হলে যৌথ আয়োজকের পর্ব থেকে স্পেনের সরে দাঁড়ানো উচিত বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রধান বিরোধী দল কনজারভেটিভ পিপলস পার্টির (পিপি) নেতা আলবার্তো নুনিয়েজ ফেইহো।

Advertisement

বৃহস্পতিবার প্রচারিত স্পেনের ফুটবলবিষয়ক অনুষ্ঠান ‘এল চিরিঙ্গিতো’কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন। মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডলইস্ট মনিটর (এমইএম) এ খবর জানায়।

ফেইহো বলেন, ‘বিশ্বকাপের ফাইনাল স্পেনেই আয়োজন করতে হবে। আর তা যদি না হয়, তাহলে আমার মতে, বিশ্বকাপ আয়োজনের সঙ্গে স্পেনেরও যুক্ত থাকা উচিত নয়।’ ফাইনাল আয়োজনের দায়িত্ব মরক্কো পেলে স্পেনের সরে দাঁড়ানোর পক্ষে তিনি অবস্থান নেবেন কি না, সরাসরি এমন প্রশ্ন করা হলে জবাব দেন, ‘হ্যাঁ। আমি বলব হ্যাঁ।’

Advertisement

আগামী ২৯ নভেম্বরের সাধারণ নির্বাচনের পর প্রধানমন্ত্রী হলে তিনি এই অবস্থান বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেবেন বলেও জানান পিপি নেতা।

ফেইহোর যুক্তি, বড় বড় ক্রীড়া আসর আয়োজনের অভিজ্ঞতা বিবেচনায় বিশ্বকাপের ফাইনাল স্পেনে হওয়াই ‘ন্যায্য’, ‘যথাযথ’ এবং ‘এ নিয়ে বিতর্কের কোনো সুযোগ নেই’। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, প্রথমে স্পেন ও পর্তুগাল যৌথভাবে বিশ্বকাপ আয়োজনের প্রস্তাব তৈরি করেছিল। পরে এর সাথে যুক্ত হয় মরক্কো।

শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সেও নিজের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন ফেইহো। তিনি বলেন, স্পেনের জাতীয় গৌরব ফিরিয়ে আনতে হলে অন্যদের দেশটিকে ‘পদদলিত’ করার সুযোগ দেয়া বন্ধ করতে হবে। তার ভাষায়, ‘বিশ্বকাপের ফাইনাল স্পেনেরই প্রাপ্য।’ বিশ্বের শীর্ষ ফুটবল দেশটিকে কোনোভাবেই ‘অপমানিত’ হতে দেয়া উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ফাইনালের ভেন্যু এখনো চূড়ান্ত করেনি ফিফা

২০৩০ সালের বিশ্বকাপের প্রধান যৌথ আয়োজক হিসেবে স্পেন, পর্তুগাল ও মরক্কোর নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে ফিফা। প্রথম বিশ্বকাপের শতবর্ষ উদ্‌যাপনে উরুগুয়ে, আর্জেন্টিনা ও প্যারাগুয়েতে একটি করে শতবর্ষ স্মারক ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। ১৯৩০ সালে উরুগুয়েতে বসেছিল বিশ্বকাপের প্রথম আসর।

ফাইনাল আয়োজনের জন্য স্পেনের প্রধান পছন্দ মাদ্রিদের সংস্কার করা সান্তিয়াগো বার্নাব্যু স্টেডিয়াম। অন্যদিকে, কাসাব্লাঙ্কার কাছে বেনস্লিমানে নির্মাণের পরিকল্পনা করা গ্রঁ স্তাদ হাসান দ্বিতীয় স্টেডিয়ামকে সামনে রাখছে মরক্কো। স্টেডিয়ামটিতে প্রায় ১ লাখ ১৫ হাজার দর্শকের আসন থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নির্মাণ শেষ হলে এটি বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ফুটবল স্টেডিয়ামে পরিণত হতে পারে।

গত সেপ্টেম্বরে মরক্কো ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি ফৌজি লেকজা বলেছিলেন, ‘কেউ পছন্দ করুক বা না করুক, বিশ্বকাপের ফাইনাল মরক্কোতেই হবে।’ তার এই মন্তব্যের পর স্পেনে বিতর্ক আরো তীব্র হয়।

পরে ফিফা জানায়, ফাইনালের ভেন্যু নিয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। যথাসময়ে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। স্পেন সরকার ও দেশটির ফুটবল ফেডারেশনও এর আগে বিশ্বকাপের ফাইনাল স্পেনে আয়োজনের পক্ষে নিজেদের অবস্থান জানিয়েছে।