পোল্যান্ড, বন্দুকধারী, হামলা, নিহত, আহত,
ঘটনাস্থলে তৎপর জরুরি সেবার কর্মীরা। সংগৃহীত

 পোল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর ক্রাকোর দুটি স্থানে বন্দুকধারীর হামলায় অন্তত ৯ জন নিহত ও ১৫ জন আহত হয়েছেন। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে চারজন নারী ও দুজন পুরুষ রয়েছেন। আহতদের মধ্যে দুই পুলিশ সদস্যও আছেন। হামলায় নিহত ব্যক্তিদের একজন ব্রিটিশ নাগরিক। পরে বন্দুকধারীর বাড়ি থেকে আরো তিনজনের লাশ উদ্ধার করা হয়। তাদের মধ্যে দুই নারী ও একজন পুরুষ। তাঁরা হামলাকারীর পরিবারের সদস্য বলে ধারণা করা হচ্ছে।

Advertisement

জেরুজালেম পোস্ট ও রয়টার্স জানায়, শনিবার স্থানীয় সময় বিকেল ৩টার দিকে ক্রাকোর প্রধান বাজার চত্বরের কাছে একটি গাড়ি থেকে এলোপাতাড়ি গুলি চালাতে শুরু করেন ওই ব্যক্তি। পরে পুলিশ তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। তাঁকে আটক করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেয়া হয়। পুলিশের ভাষ্য, হামলাকারী ২৪ বছর বয়সী পোলিশ নাগরিক। তাঁর পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।

পুলিশ জানায়, হামলায় এআর-১৫ রাইফেল ব্যবহার করেন বন্দুকধারী। তার পরনে ছিল সামরিক বাহিনীর উর্দির মতো পোশাক। গাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে আরো কয়েকটি অস্ত্র ও বিপুল পরিমাণ গুলি পাওয়া গেছে। তার আগ্নেয়াস্ত্রের বৈধ লাইসেন্সও ছিল।

Advertisement

পোল্যান্ডের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মারচিন কিয়ারভিনস্কি বলেন, ‘সবকিছু দেখে মনে হচ্ছে, হামলাকারী উগ্র ডানপন্থী মতাদর্শে প্রভাবিত ছিলেন। তদন্তের সময় বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।’ আহত ১৬ জনকে হাসপাতালে নেয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, তাঁদের মধ্যে পাঁচজন বিদেশি নাগরিক। তাঁরা অস্ট্রিয়া, জার্মানি, পর্তুগাল, রাশিয়া ও যুক্তরাজ্যের নাগরিক। আহতদের মধ্যে একজন পর্তুগিজ নারী রয়েছেন বলে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।

ঘটনাস্থল নিরাপদ করার পর প্রধান বাজার চত্বর ও আশপাশের সড়ক বন্ধ করে দেয় পুলিশ। হামলাকারীর গাড়িতে বিস্ফোরক আছে কি না, তা পরীক্ষা করা হয়। পুলিশ ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থার সদস্যরা ঘটনাস্থল এবং হামলাকারীর পরিবারের বাড়িতে তদন্ত চালাচ্ছেন।

পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক নিহত ব্যক্তিদের স্বজনদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। হামলাকারীকে আটক করতে গিয়ে জীবনের ঝুঁকি নেয়া পুলিশ সদস্যদেরও প্রশংসা করেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া এক পোস্টে টাস্ক বলেন, হামলার প্রকৃত পরিস্থিতি জানতে তদন্ত চলছে। একই সাথে এই মর্মান্তিক ঘটনাকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার না করতে রাজনীতিকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কিয়ারভিনস্কি বলেন, পুলিশ খবর পাওয়ার মাত্র তিন মিনিটের মধ্যে হামলাকারীর ওপর গুলি চালায়। তাদের দ্রুত পদক্ষেপের কারণে আরো বড় ধরনের হত্যাকাণ্ড ঠেকানো সম্ভব হয়েছে।

পোল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট কারোল নাভরোকির মুখপাত্র জানিয়েছেন, ৮ ও ৯ নভেম্বর দেশে রাষ্ট্রীয় শোক পালন করা হবে। প্রেসিডেন্ট এক্সে লিখেছেন, ‘নিহত ও আহত ব্যক্তিদের এবং তাঁদের পরিবারের প্রতি আমার সমবেদনা।’

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এ হামলাকে ‘মর্মান্তিক ও বিস্ময়কর’ বলে অভিহিত করেছেন। নিহত ব্যক্তিদের স্বজনদের প্রতি ইউক্রেনের জনগণের পক্ষ থেকে সমবেদনা জানিয়েছেন তিনি। ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক প্রধান কায়া কালাস বলেছেন, এ ট্র্যাজেডির অভিঘাত পোল্যান্ডের সীমানা ছাড়িয়ে বহুদূর পর্যন্ত অনুভূত হবে।

অক্টোবরে পোল্যান্ডের বিভিন্ন স্কুলে ছুরিকাঘাতের ধারাবাহিক ঘটনার পর এ হামলা দেশটিতে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, অনলাইনে সহিংস ও উগ্রবাদী বিষয়বস্তু এসব ছুরিকাঘটনার পেছনে প্রভাব ফেলেছিল। এবার ক্রাকোর হামলার সাথে উগ্র ডানপন্থী মতাদর্শের কোনো যোগসূত্র আছে কি না, তা তদন্ত করে দেখছে পুলিশ।