ফ্রান্সে বিক্ষোভে লাখো মানুষ অংশ নিয়েছেন
ফ্রান্সে বিক্ষোভে লাখো মানুষ অংশ নিয়েছেন। সংগৃহীত ছবি

ফ্রান্সজুড়ে বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিক্ষোভে প্রায় ছয় লাখ মানুষ অংশ নিয়েছেন। প্রতিবাদ আন্দোলন শুরুর পর থেকে এটিই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় বিক্ষাভ কর্মসূচি। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রাথমিক হিসাবে এ তথ্য জানা গেছে।

Advertisement

এদিকে, ট্রেড ইউনিয়ন কনফেডারেশন (সিজিটি) দাবি করেছে যে ফ্রান্সজুড়ে প্রায় ১৬ লাখ বিক্ষোভকারী কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন।

এর আগে, গত ১৭ অক্টোবর পাঁচ লাখ ৫০ হাজার, ২৪ অক্টোবর চার লাখ ১০ হাজার এবং ৩১ অক্টোবর তিন লাখ ২০ হাজার মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন।

Advertisement

শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বেতন, ক্রয়ক্ষমতা ও সরকারি পরিষেবা নিয়ে দেশব্যাপী চলমান প্রতিবাদের অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার প্রায় ১৬ শতাংশ শিক্ষক বিক্ষোভে ছিলেন।

সিজিটির মহাসচিব সোফি বিনেট এই বিক্ষোভকে ‘অত্যন্ত কার্যকর’ বলে অভিহিত করেছেন এবং শ্রমিকদের দাবির বিষয়ে সরকারকে সাড়া দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

প্যারিসে বিক্ষোভ চলাকালে তিনি বলেন, ‘আমাদের থামানো যাবে না।’

তিনি সব শ্রমিকের বেতন বৃদ্ধি এবং ন্যূনতম মজুরি ১০ শতাংশ বাড়ানোর দাবি জানান।

সরকারি এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকর্নু ঘোষণা দিয়েছেন যে আগামী ৯ নভেম্বর ম্যাটিগননে ট্রেড ইউনিয়ন ও নিয়োগকারী সংগঠনগুলোর সাথে একটি ‘সামাজিক সম্মেলন’ অনুষ্ঠিত হবে।

এই দেশব্যাপী ধর্মঘটের ফলে স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। উচ্চশিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ১৮৪ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৬০টিতে কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। 

অন্যদিকে এসএনইএস-এফএসইউ ইউনিয়ন জানিয়েছে, মাধ্যমিক ও উচ্চ বিদ্যালয়ের কর্মীদের মধ্যে ৫২ শতাংশ বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন।

স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্যারিস ও বোর্দোসহ বেশ কয়েকটি শহরে শিক্ষার্থীদের অবরোধের মুখে পুলিশ হস্তক্ষেপ করেছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এই বিক্ষোভ পরিস্থিতি সামাল দিতে কর্তৃপক্ষ ৭০ হাজার পুলিশ ও জেন্ডার্ম (সামরিক মর্যাদাসম্পন্ন পুলিশ বাহিনী) মোতায়েন করেছে।

বিক্ষোভকারীদের প্রধান দাবির মধ্যে রয়েছে- ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধি, সব শ্রেণির কর্মীর বেতন বাড়ানো, করব্যবস্থার সংস্কার এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উন্নত পরিবেশ নিশ্চিত করা। 

সূত্র : সিএনএন, আনাদোলু অ্যাজেন্সি