
ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের প্রাণকেন্দ্রে মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) শিক্ষার্থী ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের পূর্বনির্ধারিত বিক্ষোভ মিছিল নিষিদ্ধ করেছে প্যারিস পুলিশ প্রিফেকচার। সোমবার এ সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞার আদেশ জারি করা হয়।
তবে পুলিশের প্রস্তাবিত বিকল্প রুট প্রত্যাখ্যান করে প্রশাসনিক আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার ঘোষণা দিয়েছে আন্দোলনকারী সংগঠন ইন্টারফ্যাক ইল-দ্য-ফ্রঁস। ফলে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের স্থান ও রুট নির্ধারণ নিয়ে আয়োজক ও প্রশাসনের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়েছে।
ফরাসি বার্তাসংস্থা এএফপিকে দেয়া বক্তব্যে সংগঠনটির সদস্য কপেলিয়া মোরো বলেন, কর্তৃপক্ষ তাদের জানিয়েছে, প্যারিসের কেন্দ্রস্থলে মিছিল করার অনুমতি দেয়া হবে না।
তিনি এ সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে বলেন, এর মাধ্যমে কার্যত প্যারিসে বিক্ষোভ কর্মসূচি আয়োজনের সুযোগ সীমিত করা হচ্ছে।
ইন্টারফ্যাক ইল-দ্য-ফ্রঁস নিজেদের ইল-দ্য-ফ্রঁস অঞ্চলের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সাধারণ পরিষদ হিসেবে পরিচয় দেয়। সংগঠনটির ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, মিছিলটি প্যারিসের পঞ্চম অ্যারোঁদিসমঁর ঐতিহাসিক প্যানথিওন চত্বর থেকে শুরু হয়ে সপ্তম অ্যারোঁদিসমঁতে অবস্থিত ফরাসি ব্যবসায়ী সংগঠন মেডেফের সদর দফতর পর্যন্ত যাওয়ার কথা ছিল।
আয়োজকদের নির্ধারিত এই রুটের অনুমতি না দেয়ার পক্ষে নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়েছে পুলিশ প্রিফেকচার। কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, বর্তমান সামাজিক পরিস্থিতি অত্যন্ত উত্তেজনাপূর্ণ। এ অবস্থায় বিদ্যমান নিরাপত্তাব্যবস্থার সাথে প্রস্তাবিত মিছিলের রুট সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বিশেষ করে প্যানথিওন চত্বর প্যারিসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পর্যটনকেন্দ্র হওয়ায় সেখানে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষের সমাগম ঘটে। ফলে বিক্ষোভ মিছিলের কারণে জননিরাপত্তা ও চলাচল ব্যবস্থাপনায় জটিলতা তৈরি হতে পারে বলে মনে করছে পুলিশ।
পুলিশের পক্ষ থেকে বিক্ষোভ আয়োজনের বিকল্প হিসেবে প্যারিসের উপকণ্ঠে পোর্ট দ্য শারঁতঁ ও পোর্ট দ্য মনত্রয় এলাকার মধ্যবর্তী একটি রুট প্রস্তাব করা হয়েছে।
তবে আয়োজকরা এ প্রস্তাব গ্রহণে রাজি নন। তাদের দাবি, রাজধানীর কেন্দ্রস্থলে নির্ধারিত কর্মসূচি পালনের সুযোগ দিতে হবে। পুলিশের বিকল্প রুট মেনে নিলে তাদের ঘোষিত কর্মসূচির মূল পরিকল্পনা পরিবর্তন করতে হবে।
কপেলিয়া মোরো এএফপিকে বলেন, তারা পুলিশের প্রস্তাবিত বিকল্প রুট গ্রহণ করছেন না। একইসাথে নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক আদালতে আইনি প্রতিকার চাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ বিষয়ে জরুরি ভিত্তিতে আদালতে আবেদন করা হবে।
আন্দোলনকারীরা তাদের দাবির পক্ষে গত ২২ অক্টোবরের একটি আদালতের সিদ্ধান্তের কথাও তুলে ধরেছেন। ওই দিন প্যারিসের পিতিয়ে-সালপেত্রিয়ের হাসপাতাল এলাকা থেকে বাস্তিল পর্যন্ত ইন্টারফ্যাক ইল-দ্য-ফ্রঁসের আয়োজিত আরেকটি বিক্ষোভ মিছিল নিষিদ্ধ করেছিল পুলিশ প্রিফেকচার।
পরে আন্দোলনকারীদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রশাসনিক আদালত জরুরি শুনানিতে পুলিশের নিষেধাজ্ঞার আদেশ স্থগিত করেন। এ ঘটনাকে সামনে রেখে এবারের নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধেও আদালতে সাফল্য পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী আয়োজকরা।
তবে আগের মামলার ক্ষেত্রে আদালতের সিদ্ধান্তের কারণ-সংবলিত লিখিত ব্যাখ্যা হাতে না পাওয়ার কথা উল্লেখ করে পুলিশ প্রিফেকচার জানিয়েছিল, নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় ওই পথে মিছিলের অনুমতি দেয়া সম্ভব নয়। শেষ পর্যন্ত মিছিলের পরিবর্তে নির্দিষ্ট স্থানে অবস্থানভিত্তিক সমাবেশের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল।
এবারো একই ধরনের পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি হতে পারে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। একদিকে পুলিশ নিরাপত্তা ও জনসমাগম নিয়ন্ত্রণের যুক্তিতে প্যারিসের কেন্দ্রস্থলে মিছিলের অনুমতি দিতে নারাজ, অন্যদিকে আয়োজকরা বিকল্প রুট প্রত্যাখ্যান করে নির্ধারিত পথে কর্মসূচি পালনের অবস্থানে অনড়।
ফলে মঙ্গলবারের বিক্ষোভ কর্মসূচি শেষ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে কি না, কিংবা প্রশাসনিক আদালতের হস্তক্ষেপে পুলিশের নিষেধাজ্ঞা পরিবর্তিত হবে কি না, তা এখন দেখার বিষয়।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








