
পোল্যান্ডের সাংবিধানিক আদালতের প্রধান বিচারপতি বগদান শভিয়েচকোভস্কিকে সাময়িক বরখাস্তের প্রতিবাদে রাজধানী ওয়ারশতে আদালত ভবনের সামনে বিক্ষোভ করেছেন তাঁর সমর্থকেরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আদালত প্রাঙ্গণে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। শুক্রবার পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে।
আল জাজিরা শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) জানায়, আদালতের প্রধান বিচারপতিকে সাময়িক বরখাস্তের ঘোষণার পর শুক্রবার আদালত ভবনের সামনে জড়ো হন বিক্ষোভকারীরা। পুলিশ জানিয়েছে, বিক্ষোভের একপর্যায়ে তাদের লক্ষ্য করে বিভিন্ন বস্তু ছোড়া হলে তারা আদালত প্রাঙ্গণে ঢুকে পড়ে। এ ঘটনায় তিনজনকে আটক করা হয়েছে।
বগদান শভিয়েচকোভস্কির বরখাস্তের পেছনে রয়েছে দেশটির সাংবিধানিক আদালতের নিয়ন্ত্রণ ও বিচার বিভাগের রাজনৈতিকীকরণ নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ। গত ছয় মাসে আদালতের প্রধান হিসেবে নিজের ক্ষমতা ব্যবহার করে বর্তমান সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার মনোনীত কয়েকজন বিচারপতিকে দায়িত্ব গ্রহণে বাধা দিয়ে আসছিলেন তিনি।
বিচারমন্ত্রী ওয়ালদেমার জুরেক শুক্রবার সাংবাদিকদের বলেন, দায়িত্ব পালনে বাধা দেয়ার অভিযোগে তিনি শভিয়েচকোভস্কি ও তাঁর ডেপুটির বিচারিক দায়মুক্তি প্রত্যাহারের আবেদন করেছেন।
পোল্যান্ডের সাবেক জাতীয়তাবাদী আইন ও ন্যায়বিচার পার্টির (পিআইএস) সরকারের আমলে এই পদে নিয়োগ পেয়েছিলেন শভিয়েচকোভস্কি। ২০১৫ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকা দলটির বিরুদ্ধে বিচার বিভাগকে দলীয় নিয়ন্ত্রণে নেয়ার অভিযোগ রয়েছে। সমালোচকদের দাবি, দলটির প্রতি অনুগত বিচারপতিদের নিয়োগের মাধ্যমে আদালতের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন করা হয়েছিল।
শভিয়েচকোভস্কির বরখাস্তের খবর ছড়িয়ে পড়লে পিআইএসের সমর্থকেরা আদালতের ফটকে জড়ো হন। দলটির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকা প্রেসিডেন্ট কারোল নাভরোকি এদিন সেনেগালে একটি ক্রীড়া অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যাওয়ার পথে নিজের বিমান ঘুরিয়ে দেশে ফেরার ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, 'এমন মুহূর্তে প্রেসিডেন্টের পোল্যান্ডে থাকা উচিত।'
২০২৫ সালের মাঝামাঝি নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে নাভরোকি পোল্যান্ডের সংসদ মনোনীত ছয় বিচারপতির মধ্যে তিনজনকে শপথ পড়াতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছেন।
বিচার বিভাগের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে রাজনৈতিক বিরোধ
পোল্যান্ডের সাংবিধানিক আদালত দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক বিরোধের কেন্দ্র। দেশটির ইউরোপপন্থী সরকার ক্ষমতায় আসার পর বিচার বিভাগের স্বাধীনতা পুনঃপ্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু এ লক্ষ্যে নেয়া দুটি উদ্যোগই পিআইএস-ঘনিষ্ঠ দুই প্রেসিডেন্টের ভেটোর মুখে আটকে যায়। তাঁদের একজন বর্তমান প্রেসিডেন্ট নাভরোকি।
নাভরোকি নিয়োগপ্রক্রিয়ায় ত্রুটির অভিযোগ তুলে যে তিন বিচারপতিকে শপথ পড়াতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন, তাঁদের একজন আনা কোরভিন-পিওত্রোভস্কা এখন সাংবিধানিক আদালতের দায়িত্বে রয়েছেন।
শভিয়েচকোভস্কির সাময়িক বরখাস্তের সমালোচনা করেছেন পোল্যান্ডের বর্তমান বৃহত্তম বিরোধী দল পিআইএসের নেতারা। সাবেক বিচারমন্ত্রী জবিগনিয়েভ জিওব্রো শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, 'এটি সাংবিধানিক ব্যবস্থার ওপর প্রকাশ্য অপরাধমূলক আক্রমণ।'
প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক অবশ্য বিচার বিভাগের স্বাধীনতা পুনঃপ্রতিষ্ঠার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। শভিয়েচকোভস্কির বরখাস্তের খবরের পর এক্সে দেয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, পিআইএসের আমলে বছরের পর বছর ধরে চলা আইনহীনতার অবসান ঘটিয়ে আইনের শাসন ফিরিয়ে আনা সরকারের দায়িত্ব।
টাস্ক বলেন, 'আইনহীনতার সেই সময়ের পর এই প্রক্রিয়া কঠিন, কখনো কখনো বেদনাদায়কও। এর জন্য দৃঢ় পদক্ষেপ প্রয়োজন। এর বিকল্প কোনো পথ নেই।' তিনি দেশটির সিভিক কোয়ালিশন পার্টির নেতা।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








