যুক্তরাজ্যের পতাকা
যুক্তরাজ্যের পতাকা। সংগৃহীত ছবি

প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় বাড়ানো ও পরিবারের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে গিয়ে সীমিত আর্থিক সামর্থ্যের চাপে পড়েছে যুক্তরাজ্য সরকার। এ পরিস্থিতিতে বুধবার (২৮ অক্টোবর) দেশটির অর্থমন্ত্রী জন হিলি তার প্রথম বাজেট উপস্থাপন করতে যাচ্ছেন।

Advertisement

মূল্যস্ফীতি ও ঋণ নেয়ার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় সরকারের ঋণের বোঝা বাড়ছে। এর পেছনে অন্যতম কারণ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের প্রভাবকে দেখা হচ্ছে। এতে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও সাধারণ মানুষের ওপরও বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। ফলে নতুন প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম সরকারের জন্য বাজেট প্রণয়ন কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

ক্ষমতাসীন লেবার সরকারের বাজেট ঘোষণার আগের দিন এক বিবৃতিতে হিলি বলেন, ‘যুক্তরাজ্যের ওপর আঘাত হানা এসব ধাক্কা আমরা থামাতে পারব না। এই বাজেটের লক্ষ্য হলো কঠিন এই সময় পার করা।’ 

তার ভাষায়, বাজেটের মাধ্যমে পরিবারগুলোকে আর্থিক চাপ সামাল দেয়ার কিছুটা সুযোগ দেয়া হবে এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তা দেয়া হবে।

গত জুলাইয়ে কিয়ার স্টারমারের স্থলাভিষিক্ত হয়ে প্রধানমন্ত্রী হন বার্নহাম। 

সোমবার তিনি বলেন, সরকারের নতুন বার্ষিক কর ও ব্যয় পরিকল্পনায় তার পূর্বসূরির ঘোষিত প্রতিরক্ষা বিনিয়োগ কর্মসূচির অর্থায়ন কিভাবে করা হবে, তা তুলে ধরা হবে।

ধারণা করা হচ্ছে, ২০৩৫ সালের মধ্যে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৩ দশমিক ৫ শতাংশ প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয়ের ন্যাটোর লক্ষ্যমাত্রা কিভাবে পূরণ করা হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত পরিকল্পনা আগামী বছর পর্যন্ত স্থগিত রাখতে পারেন হিলি।

স্টারমারের সরকারের প্রতিরক্ষামন্ত্রী থাকাকালে পর্যাপ্ত সামরিক অর্থায়ন না দেয়ার অভিযোগ তুলে পদত্যাগ করেছিলেন হিলি।

লেবার পার্টি আয়কর ও মূলধনি মুনাফার ওপর কর না বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। 

বিশ্লেষকদের মতে, এতে সরকারের আয়-ব্যয়ের হিসাব মেলাতে ব্যয় সংকোচনের পথ বেছে নেয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি হিলি ‘চ্যান্সেলর অব দ্য এক্সচেকার’ পদবিও ধারণ করেন। 

তিনি তার পূর্বসূরি র‌্যাচেল রিভসের নির্ধারিত আর্থিক নীতিমালা মেনে চলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। 

ওই নীতিমালা অনুযায়ী, সরকারের দৈনন্দিন ব্যয় কর থেকে পাওয়া আয়ের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে।

জ্বালানি বিল বেড়ে যাওয়ায় পরিবারগুলোকে সহায়তা দিতে কয়েকটি ব্যয়মূলক পদক্ষেপের অর্থ জোগাতে ব্যাংকগুলোর ওপর আরোপিত অতিরিক্ত কর থেকে পাওয়া অর্থ ব্যবহার করতে পারেন অর্থমন্ত্রী।

অক্সফোর্ড ইকোনমিকসের যুক্তরাজ্যবিষয়ক অর্থনীতিবিদ আলেকজান্ডার হার্ভে বলেন, ‘এই বাজেট মূলত একটি অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা হবে। এর মাধ্যমে সরকার ২০২৭ সালে আরো বড় নীতিগত পরিবর্তন আনার আগপর্যন্ত সময় পার করতে পারবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে কিছু সীমিত পদক্ষেপ নেয়া হবে। পাশাপাশি তুলনামূলক কম ব্যয়ের অন্যান্য নীতিও থাকতে পারে।’

ইতোমধ্যেই তুলনামূলক কম ব্যয়ের কয়েকটি পদক্ষেপ ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে ১০০টির বেশি আমদানি করা পণ্যের ওপর শুল্ক কমানো এবং অভিভাবকদের বেতনসহ ছুটির সুবিধা সম্প্রসারণের বিষয় রয়েছে।

বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন বাজেটে জ্বালানি তেলের ওপর শুল্ক বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখার মেয়াদ বাড়ানো, দরিদ্র পরিবারগুলোকে আরো লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তা দেয়া এবং ন্যূনতম মজুরি বাড়ানোর মতো পদক্ষেপ থাকতে পারে।

জ্বালানি পাম্পে ডিজেলের দাম দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় গত সেপ্টেম্বরে যুক্তরাজ্যের বার্ষিক মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৩ দশমিক ৫ শতাংশে দাঁড়ায়, যা প্রায় এক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।

বাজেটের সাথে প্রকাশিত হালনাগাদ হিসাবে যুক্তরাজ্য সরকারের আর্থিক সুরক্ষা-সীমা বা অতিরিক্ত ব্যয় করার সুযোগ ব্যাপকভাবে কমে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। 

বর্তমানে এ সীমার পরিমাণ ২৩ দশমিক ৬ বিলিয়ন পাউন্ড, যা ৩১ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারের সমান।

ঋণ নেয়ার ব্যয় বাড়ায় সরকারের ঋণের সুদ পরিশোধে বেশি অর্থ ব্যয় হচ্ছে। ফলে অন্যান্য খাতে ব্যয় করার সুযোগ কমে আসছে।

স্বাধীন আর্থিক পর্যবেক্ষক সংস্থা ‘অফিস ফর বাজেট রেসপনসিবিলিটি’ বুধবার যুক্তরাজ্যের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতি নিয়ে তাদের সর্বশেষ পূর্বাভাস প্রকাশ করবে।

মধ্যপ্রাচ্য ও ইউক্রেনের যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়ছে। 

এর প্রভাবে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে বিভিন্ন দেশের সরকারি বন্ডের সুদের হার কয়েক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

সূত্র : বাসস