
আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করে আদালতটির ওপর নতুন করে আরোপ করা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)।
তুরস্কের বার্তা সংস্থা আনদোলু শনিবার (১০ অক্টোবর) জানায়, ইইউর পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক প্রধান কাজা কালাস জোটের পক্ষে দেয়া এক লিখিত বিবৃতিতে বলেন, ‘আমরা যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি সর্বশেষ আরোপ করা এসব পদক্ষেপও প্রত্যাহারের আহ্বান জানাচ্ছি।’
বিবৃতিতে রোম সংবিধির সদস্য দেশগুলোর সাথে নিজেদের উদ্বেগ নিয়ে আলোচনায় বসতে ওয়াশিংটনের আগ্রহকে স্বাগত জানানো হয়েছে। একই সাথে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা কার্যকরের সময় পিছিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্তের বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে।
আইসিসির ওপর মার্কিন পদক্ষেপের বিষয়ে আবারো দুঃখ প্রকাশ করে কালাস বলেন, আদালত, এর নির্বাচিত কর্মকর্তা, কর্মী এবং আদালতের সাথে সহযোগিতাকারীদের বিরুদ্ধে হামলা বা হুমকি গ্রহণযোগ্য নয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আন্তর্জাতিক আইনকে সম্মান করার ভিত্তিতে গড়ে ওঠা নিয়মভিত্তিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার প্রতি ইইউ তার অবিচল অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করছে। আইসিসি এই ব্যবস্থার একটি মৌলিক অংশ।’
কালাস বলেন, আন্তর্জাতিক উদ্বেগের সবচেয়ে গুরুতর অপরাধ সংঘটনকারী এবং আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনকারীদের জবাবদিহির আওতায় আনতে আন্তর্জাতিক অপরাধবিচারব্যবস্থার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বিবৃতিতে বলা হয়, আইসিসি কোনো সার্বভৌম রাষ্ট্রকে লক্ষ্যবস্তু করে না। বরং কোনো রাষ্ট্র গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধ বা মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য দায়ীদের তদন্ত বা বিচারে অনিচ্ছুক কিংবা অক্ষম হলেই আদালতটি পদক্ষেপ নেয়।
কালাস বলেন, ‘আইসিসিকে চাপ ও বাইরের হস্তক্ষেপমুক্ত থেকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দিতে হবে। আদালত, এর কর্মী এবং সহযোগিতাকারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ইইউ পূর্ণ সমর্থন অব্যাহত রাখবে।’ আদালতটি যাতে কার্যকরভাবে কাজ করতে পারে এবং তার অপরিহার্য দায়িত্ব পালন করে যেতে পারে, সে জন্য প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেয়ার প্রস্তুতির কথাও জানিয়েছে জোটটি।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও আইসিসির বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা ঘোষণার পর ইইউর এই প্রতিক্রিয়া এলো। আইসিসি তার ‘হুমকি’ বন্ধ না করলে আদালতটিকে ‘শেষ করে দেয়ার’ হুমকি দিয়েছেন রুবিও।
নেদারল্যান্ডসের হেগে অবস্থিত আইসিসি একটি স্বাধীন আন্তর্জাতিক আদালত। গণহত্যা, মানবতাবিরোধী অপরাধ, যুদ্ধাপরাধ ও আগ্রাসনের অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিচারের দায়িত্ব পালন করে আদালতটি।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








