ট্রাম্প-শুল্প-ইউরোপ-ইইউ-কানাডা
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ছবি: সংগৃহীত

কানাডাকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন বা ইইউর প্রথম সহযোগী সদস্য করার প্রস্তাব এগিয়ে নিলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লেয়েনের এই প্রস্তাবকে ‘হাস্যকর’ বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। 

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর), এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

উত্তর ক্যারোলিনায় একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যাওয়ার পথে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘তারা যদি প্রস্তাব বাস্তবায়ন করে, আর একে যদি আমার কোনোভাবে বৈরী পদক্ষেপ মনে হয়, তাহলে আমি ইউরোপের ওপর খুব কঠিন শুল্ক আরোপ করব, অথবা অনেক পণ্যের ক্ষেত্রে ইউরোপের সাথে বাণিজ্য বন্ধ করে দেব।’

তিনি আরো বলেন, ‘যদি এর পেছনে ভালো উদ্দেশ্য থাকে, তাহলে ঠিক আছে। কিন্তু উদ্দেশ্য খারাপ হলে ইউরোপের ওপর খুব বড় শুল্ক আরোপ করব।’

ইউরোপীয় কমিশন জানিয়েছে, ফন ডার লেয়েনের প্রস্তাব এখনো বিস্তারিতভাবে চূড়ান্ত হয়নি। এটি কার্যকর করতে হলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্যদেশগুলোর অনুমোদন প্রয়োজন। তবে কমিশনের মতে, এই প্রস্তাব কোনো বৈরী পদক্ষেপ নয়।

ইউরোপীয় কমিশনের মুখপাত্র ওলোফ গিল বলেন, ‘আমাদের প্রেসিডেন্ট গতকাল যেমনটি স্পষ্ট করেছেন, কানাডার সাথে অংশীদারত্ব জোরদারের প্রস্তাব অন্য কারো বিরুদ্ধে নয়। বরং এটি আমাদের সম্মিলিত শক্তি বাড়ানোর জন্য।’

ইইউর সিদ্ধান্ত ট্রাম্প নিতে পারেন না : ফ্রান্স

ফ্রান্সের ইউরোপবিষয়ক মন্ত্রী বেঞ্জামিন হাদাদ বলেছেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের ভূরাজনৈতিক সিদ্ধান্তে ভেটো দেয়ার ক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের নেই।

পাবলিক সেনা টেলিভিশনকে তিনি বলেন, ‘ইউরোপীয়দের রাজনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক দিকনির্দেশনা কী হবে, তা যুক্তরাষ্ট্র বা অন্য কারো ঠিক করার বিষয় নয়।’

বুধবার ইউরোপীয় ইউনিয়নের বার্ষিক ‘স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন’ ভাষণে কানাডাকে সহযোগী সদস্য করার প্রস্তাব দেন ফন ডার লেয়েন। কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নিও ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। মিত্রদের মধ্যে সম্পর্ক আরো গভীর করার লক্ষ্যে প্রস্তাবটি দেন তিনি। ফন ডার লেয়েন বর্তমান বিশ্বকে ‘প্রকাশ্যভাবে বৈরী’ বলে উল্লেখ করেন।

ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের কারণে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সীমান্তে যুদ্ধের ঝুঁকি রয়েছে। একই সাথে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাণিজ্যিক উত্তেজনা এবং ক্রমবর্ধমান প্রভাবশালী চীনের মোকাবিলা করতে হচ্ছে ইইউ ও কানাডাকে।

কার্নির ইউরোপীয় পার্লামেন্টে ভাষণ

চলতি মাসের শুরুতে কানাডার প্রধানমন্ত্রী কার্নি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথে একটি ‘অনন্য জোট’ গঠনের আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। ট্রাম্প আবারো হোয়াইট হাউসে ফেরার পর অটোয়া ও ওয়াশিংটনের সম্পর্কের অবনতি হয়েছে। এর ফলে দুই দেশের মধ্যে কয়েক হাজার কোটি ডলারের বাণিজ্যে শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় বিকেল সাড়ে ৩টায় (গ্রিনিচ মান সময় সকাল সাড়ে ৯টা) ইউরোপীয় পার্লামেন্টে ভাষণ দেয়ার কথা কার্নির।

তবে সহযোগী সদস্যপদের প্রস্তাবটি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্যদেশগুলো কিংবা কানাডা সমর্থন করবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

এক ইউরোপীয় কূটনীতিক বুধবার প্রস্তাবটি নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, ‘এর অর্থ কী, তা আসলে কেউ জানে না।’ তাঁর আশঙ্কা, ইউরোপীয় কমিশনের প্রধান অতিরিক্ত প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন, যা তিনি বাস্তবায়ন করতে পারবেন না। আরেক কূটনীতিক বৃহস্পতিবার প্রস্তাবটিকে ‘দুর্ভাগ্যজনক’ বলে অভিহিত করেন। তিনি জানান, সদস্যদেশগুলোর সাথে এ বিষয়ে আগে কোনো আলোচনা হয়নি।

একজন কূটনীতিক মন্তব্য করেন, ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়া ফন ডার লেয়েনের প্রস্তাবের চেয়ে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক সম্পর্কে ট্রাম্পের দৃষ্টিভঙ্গিই বেশি তুলে ধরেছে। তাঁর মতে, কোনো দেশের সাথে ঘনিষ্ঠ অংশীদারত্ব মানেই অন্য দেশের সার্বভৌম সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা কমে যাওয়া—এমন একটি শূন্য-সম ধারণা এতে প্রকাশ পেয়েছে।