
এলপিজির দাম ফের বাড়াল সরকার। দেশের বাজারে মাস দেড়েক ধরে জ্বালানিটির সরবরাহ প্রয়োজনের তুলনায় কম। ফলে নির্ধারিত দামে পাওয়া যায় না। এর মধ্যে গত সোমবার ১২ কেজির একটি সিলিন্ডারের দাম ২২৩ টাকা বেড়েছে। এর আগে গত মাসে ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম বেড়েছিল ২১২ টাকা। ফলে দুই দফায় দাম বাড়ল ৪৩৫ টাকা। নভেম্বরে ১২ কেজির সিলিন্ডারের নতুন দর নির্ধারণ করা হয়েছে ২০৬০ টাকা। কিন্তু নির্ধারিত দরে কখনো এলপিজি বিক্রি হয় না। ঢাকার বাজারে এ মাসেও ১২ কেজির সিলিন্ডারের ন্যূনতম দাম আড়াই হাজার টাকা। দেশে এলপিজির গ্রাহকসংখ্যা এক কোটির বেশি। এ বাজারের ৯৯ শতাংশ বেসরকারি খাতের দখলে। এলপিজির ৮০ শতাংশ ব্যবহার হয় রান্নার কাজে।
প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় রান্নায় ব্যবহৃত এলপিজির নির্ধারিত দাম বাংলাদেশে বেশি। যেমন— ঢাকায় কেজিপ্রতি এলপিজির নির্ধারিত দর ১৭১ দশমিক ৬৮ টাকা। কলকাতায় ৮৯ দশমিক ৩০ টাকা। পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা ও নেপালেও দাম আমাদের চেয়ে কম।
এলপিজির দাম নির্ধারণের দায়িত্ব বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন-বিইআরসির। দাম নির্ধারণে শুনানি হয়। এ দফায় শুনানি হয় গত বৃহস্পতিবার। রোববারের মধ্যে শুনানি পরবর্তী মতামত দিতে বলা হয়েছিল। এর এক দিনের মাথায় গত সোমবার সন্ধ্যায় সংবাদ বিজ্ঞপ্তি পাঠিয়ে নতুন দাম ঘোষণা করে সংস্থাটি, যা ওই দিন রাত ৮টা থেকে কার্যকর হয়েছে। দামের সাথে আমদানিকারক, পরিবেশক ও খুচরা বিক্রেতা— সবার বিক্রয় কমিশন বাড়িয়েছে বিইআরসি। এ বিষয়ে ভোক্তা অধিকার সংগঠন-ক্যাবের জ্বালানি উপদেষ্টা এম শামসুল আলম সহযোগী এক দৈনিককে বলেছেন, শুনানির পর এত দ্রুত মতামত মূল্যায়ন কিভাবে শেষ করল বিইআরসি? তারা ব্যবসায়ীদের সুরক্ষা চিন্তা করেছে, ভোক্তার ওপর মূল্যবৃদ্ধির অভিঘাত বিবেচনায় নেয়নি।
এলপিজির দাম বাড়ানো শুধু একটি পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির হিসাব নয়। মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার ওপর আরো একটি আঘাত। এমনিতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে আগুন। পরিবহন খরচ, বাসা ভাড়া— সব মিলিয়ে মূল্যস্ফীতির চাপে মানুষের পিঠ দেয়ালে ঠেকেছে। তাই এলপিজির দরবৃদ্ধি সাধারণ ও স্বল্প আয়ের মানুষের জীবনযাত্রা সঙ্কটে ফেলবে।
বাসাবাড়িতে নতুন গ্যাস সংযোগ বন্ধ থাকায় নিম্ন ও মধ্যবিত্তের একটি বড় অংশ পুরোপুরি এলপিজির ওপর নির্ভরশীল। এদের মধ্যে রয়েছে গ্রামীণ ও শহরতলির স্বল্প আয়ের মানুষ, এমনকি দিন আনে দিন খায় এমন মানুষও। রান্নার বাড়তি খরচ সামলাতে গিয়ে খাবারের বাজেট কাটছাঁট করতে বাধ্য হচ্ছেন।
যদিও আন্তর্জাতিক বাজারদরের ওপর ভিত্তি করে প্রতি মাসে মূল্য সমন্বয় করে বিইআরসি। বাস্তবে সংস্থাটির নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অনেক বেশি দামে ভোক্তাপর্যায়ে এলপিজি বিক্রি হয়। বাজার তদারকি ও নজরদারির অভাবে গ্রাহকরা প্রতিনিয়ত প্রতারিত ও শোষিত হচ্ছেন।
জ্বালানির মতো নিত্যপণ্য সাধারণের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে যাওয়া কোনোভাবে মেনে নেয়া যায় না। সরকারের উচিত এলপিজি খাতে বিশেষ ভর্র্তুকি দেয়া। অথবা শুল্ক ও করকাঠামো পুনর্বিন্যাস করে দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখা। পাশাপাশি, বাজারে নজরদারি করা; যাতে অসাধু ব্যবসায়ী চক্র অতিরিক্ত মুনাফা করে শোষণ করতে না পারে।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








