সম্পাদকীয়
সম্পাদকীয় লোগো। নয়া দিগন্ত

পোশাকশিল্পে কয়েক দিন ধরে শ্রমিক অসন্তোষ এখনো প্রশমিত হয়নি। ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণসহ শ্রম অধিকার-সংক্রান্ত কিছু দাবিতে শ্রমিকরা বিক্ষোভ করেছেন উত্তরা, আশুলিয়া ও মিরপুরে। গত রোববার বিক্ষোভ চরম পর্যায়ে পৌঁছে। শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ, পুলিশের সাথে সংঘর্ষ, যানবাহনে ভাঙচুর ও আগুন দেয়ার মতো কাজে জড়িয়ে পড়েন। এতে মিরপুর এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। গত সোমবারও সাভার ও আশুলিয়ায় সহিংস বিক্ষোভ হয়েছে।
গত রোববার বেলা সাড়ে ১১টায় শ্রমিক-পুলিশের সংঘর্ষ শুরু হয়ে প্রায়  বেলা  ২টা পর্যন্ত চলে। এ সময় শ্রমিকরা পুলিশের গাড়িতে আগুন দেন। এ ছাড়া গাজীপুর, ঢাকার সাভার ও আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলেও শ্রমিকদের বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ ও গাড়িতে আগুন দেয়ার ঘটনা ঘটে। ওইসব এলাকার তিন শতাধিক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। সংঘর্ষের কারণে সংশ্লিষ্ট এলাকায় নারী পুরুষ শিশুসহ সব বয়সের হাজারো মানুষ সীমাহীন দুর্ভোগের শিকার হন। 
সরকার অবশ্য শ্রমিকদের দাবির প্রতি দ্রুত সাড়া দেয়। প্রধানমন্ত্রী রোববার সন্ধ্যায় জরুরি ভিত্তিতে মন্ত্রী-উপদেষ্টাদের সাথে বৈঠকে বসেন। তাতে পোশাকশ্রমিকদের জন্য ছয় সদস্যের নতুন মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়। একই দিনে প্রজ্ঞাপন জারি এবং গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে।
শ্রমমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী রোববার সকালে মজুরি বোর্ড গঠন করা হবে বলে জানিয়েছিলেন। এ ঘোষণার পরও শ্রমিকরা সহিংসতার আশ্রয় নেন। তাই প্রশ্ন ওঠে, মজুরি বোর্ড গঠনের ঘোষণার পরও শ্রমিকদের সহিংস হয়ে ওঠার রহস্য কী? আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, এর পেছনে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের উসকানি ও অংশগ্রহণ আছে। মিরপুরের ঘটনাস্থল থেকে গ্রেফতার করা হয় ১১ জনকে। তারা আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের কর্মী বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পুলিশের দায়িত্বশীল সূত্র বলছে, শ্রমিক আন্দোলন ভিন্ন খাতে বইয়ে দিয়ে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি এবং দেশে অস্থিতিশীলতা তৈরির অপচেষ্টা করছে একটি চক্র।
বর্তমানে পোশাকশ্রমিকদের সর্বনিম্ন মজুরি সাড়ে ১২ হাজার টাকা। এটি বাড়ানোর দাবি যৌক্তিক। কারণ, মূল্যস্ফীতি বহুগুণে বেড়েছে। একটি যৌক্তিক পর্যায়ে মজুরি নির্ধারণ করা বাঞ্ছিত। দেশের অভ্যন্তরীণ এবং আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে গার্মেন্টসহ গোটা শিল্প খাত সঙ্কটে। এক্ষেত্রে শ্রমিক, মালিক সবার স্বার্থ রক্ষা করে কাজ করতে হবে। 
বাংলাদেশে শিল্পের বিকাশ ব্যাহত করতেও একটি মহল সক্রিয়। শ্রমিক বিক্ষোভে সহিংসতা সেই চক্রান্তের বাইরে নয়। পলাতক আওয়ামী লীগ নেত্রীর ডিসেম্বরে দেশে ফেরার রটনা ঘিরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ দলটির অপতৎপরতা এখন আর অপ্রকাশ্য নয়। তারা প্রায়ই ঝটিকা মিছিল করছে, ককটেল ফুটাচ্ছে। আওয়ামী দোসররা সামাজিকমাধ্যমে বিপুল উৎসাহে প্রচারণা চালাচ্ছে। বিভিন্ন হত্যা খুনের সাথে আওয়ামী সংশ্লিষ্টতার আলামত মিলছে। 
এ নিয়ে ক্ষমতাসীন দল নির্বিকার। দলের স্থায়ী কমিটির এক প্রবীণ সদস্য বলেছেন, দলের কিছু লোক টাকার বিনিময়ে আওয়ামী লীগকে নামাচ্ছে। এটি জুলাই শহীদদের রক্তের সাথে বিশ্বাসভঙ্গের শামিল। এ জন্য শুধু ক্ষমতাসীনদের নয়, গোটা দেশ ও জাতিকে চড়া মূল্য দিতে হতে পারে। এসব বিষয়ে সতর্ক থাকা জরুরি।

Advertisement