
আগামী ১২ ডিসেম্বর গঙ্গাচুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে। খুব অল্প সময় অবশিষ্ট। কিন্তু চুক্তি নবায়নে ভারত সাড়া দিচ্ছে না। বাংলাদেশে নতুন সরকার আসার পর দুই দেশের বিশেষজ্ঞদের মধ্যে একটি বৈঠক হলেও কোনো অগ্রগতি নেই। ভারতে চলছে চুক্তিবিরোধী বিপুল প্রচারণা। বিহারের রাজনৈতিক নেতারা বাংলাদেশকে পানি না দেয়ার দাবিতে সোচ্চার হয়ে উঠেছেন। এর সাথে সুর মেলাচ্ছেন দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা। যৌথ নদী এমন এক অস্তিত্ব যার ওপর কারো একক কর্তৃত্ব থাকার কথা নয়। নদীর ওপর একতরফা অন্যায় খবরদারি প্রাণ প্রকৃতি ও পরিবেশের ভয়াবহ ক্ষতি বয়ে আনে। ভারতের নেতারা নদীর পানি বণ্টন নিয়ে এমন এক রাজনৈতিক খেলায় মেতেছেন যা ভাটির অঞ্চলের মানুষের জন্য বিপুল বঞ্চনার কারণ। ভারত নিজেও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
১৯৯৬ সালে ১২ ডিসেম্বর ৩০ বছর মেয়াদি চুক্তিটিতে কোনো গ্যারান্টি ক্লজ না থাকলেও আন্তর্জাতিক আইনের বাধ্যবাধকতার কারণে পানির ন্যূনতম হিস্যা বাংলাদেশ পেয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী ফারাক্কা পয়েন্টে পানিপ্রবাহ ৭০ হাজার কিউসেক বা তার কম হলে উভয় দেশ ৫০ শতাংশ করে ভাগাভাগি করবে। এছাড়া শুষ্ক মৌসুমে ১০ দিন মেয়াদি তিনটি ধাপে ৩৫ হাজার কিউসেক করে পানি পাওয়ার সুবিধা ছিল। এর পরও এটিতে ১৯৭৭ সালের মতো গ্যারান্টি ক্লজ না থাকায় বাংলাদেশকে বঞ্চিত করা হয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে গঙ্গাচুক্তি নবায়নের বিরোধিতায় বিহারের নেতাদের নামানো হয়েছে। তারা সভা সেমিনারে দাবি তুলছেন ফারাক্কা দিয়ে বাংলাদেশকে পানি দেয়া যাবে না। অথচ এই নেতারাই বহু দিন ধরে ফারাক্কা ব্যারাজ তুলে দেয়ার কিংবা অন্ততপক্ষে কিছু জলকপাট খুলে দেয়ার দাবি করে আসছিলেন। তাদের ওই দাবি ছিল যথার্থ। ফারাক্কায় বাধা পেয়ে গঙ্গার উজানে বিপুল পলি জমছে। বিহারে প্রতিনিয়ত বন্যা হচ্ছে। বিস্ময়করভাবে তারা এখন সম্পূর্ণ উল্টো সুরে কথা বলছে। এর সাথে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্করও সায় দিচ্ছেন। তিনি ইতোমধ্যে জানিয়েছেন, গঙ্গা চুক্তির বিষয়ে বিহারের উদ্বেগ আমলে নেয়া হবে।
বিহারের নেতাদের কপটতা স্পষ্ট হয়ে যায় যখন একই সময় তারা দাবি তুলছেন বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও পানি ব্যবস্থাপনার। গঙ্গাকে তার স্বাভাবিক প্রবাহে বইতে না দিলে কিভাবে বন্যা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব। গঙ্গাচুক্তির নবায়নকে ভারত যে একটি অস্ত্র বানাতে চাইছে তা নিশ্চিত। এর মাধ্যমে তারা বাংলাদেশের ওপর অন্যায্য চাপ তৈরি করতে চায়। বিভিন্ন ইস্যুতে ভারত একই ধরনের চাপ প্রয়োগের নীতি বাংলাদেশের ওপর বিভিন্ন সময় প্রয়োগ করেছে। নদীর পানির হিস্যা নিয়ে পাকিস্তানের সাথেও ভারত একই নীতি অবলম্বন করছে। তবে আন্তর্জাতিক সালিশি আদালত ভারতের জবরদস্তি নীতির বিপক্ষে রায় দিলেও বিজেপি সরকার তা আমলে নিতে চাইছে না।
বাংলাদেশ ভাটির দেশ হওয়ায় উজানে ভারতের পানি আটকে দেয়ায় নদীভাঙন, বন্যা, কৃষির স্থায়ী ক্ষতি এবং মরুকরণের শিকার হচ্ছে। গঙ্গা চুক্তিকে অস্ত্র হিসেবে প্রয়োগ করলে বাংলাদেশকেও পাল্টা ব্যবস্থা নিতে হবে। বিষয়টি আন্তর্জাতিক ফোরামে নিয়ে যেতে হবে। এ জন্য বিশেষজ্ঞদের সার্বিক প্রস্তুতি নিতে হবে।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








