সাবেক বিমান কর্মকর্তার লাশ নদীতে : তদন্ত করে মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত করুন
সাবেক বিমান কর্মকর্তার লাশ নদীতে : তদন্ত করে মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত করুন। নয়া দিগন্ত গ্রাফিক্স

ঢাকার তুরাগ নদ থেকে বিমানবাহিনীর সাবেক এক কর্মকর্তার লাশ উদ্ধার হয়েছে। বাড়ি থেকে বের হওয়ার একদিন পর তার লাশ নদীতে পাওয়া গেছে। সুরতহাল প্রতিবেদনে হত্যা বা খুন হওয়ার কোনো লক্ষণ পাওয়া না যাওয়ায় রহস্য বেড়েছে। বাংলাদেশের সশস্ত্রবাহিনীর সদস্যরা বিভিন্ন সময় নিশানা হয়েছে। পিলখানা ইতিহাসের গভীর ট্র্যাজেডির ক্ষত পূরণ হওয়ার মতো নয়। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সময়ে বিচ্ছিন্নভাবে সশস্ত্রবাহিনীর দক্ষ যোগ্য ও দেশপ্রেমিক বহু সদস্য হত্যা গুম ভয়াবহ নির্যাতন ও চাকরিচ্যুতির শিকার হয়েছেন। সম্প্রতি আইনশৃঙ্খলার অবনতির মধ্যে বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির নিহত হওয়ার ঘটনা তার ধারাবাহিকতা কি না সেটি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করতে হবে।  

Advertisement

গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে জানা যাচ্ছে, বাড়ি থেকে বের হওয়ার এক দিনের কম সময়ের মধ্যে তার লাশ উদ্ধার হয়েছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বন্ধু দীপের ডাকে সাড়া দিয়ে বাড়ি থেকে বের হন। বাড়ির সিসি ক্যামেরায় দেখা যায়, নিজের মোটরসাইকেল নিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছেন তিনি। পরদিন বিকেলে তুরাগে তার লাশ উদ্ধার হয়। সুরতহাল রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে, তার শরীরে আঘাতের চিহ্ন নেই। আপাতদৃষ্টিতে এটি কোনো সড়ক দুর্ঘটনাও নয়। তাহসিফ ব্যাপক আলোচনায় আসেন বিমানে করে শেখ হাসিনার পালিয়ে যাওয়ার ভিডিও ফুটেজের কারণে। ওই ফুটেজের সাথে তার সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি আলোচনায় আসে। পরে তাকে ২০২৪ সালের ১ সেপ্টেম্বরে বিমানবাহিনী থেকে বরখাস্ত করা হয়। শেখ হাসিনার সময়ে জঙ্গি উগ্রবাদী তকমা দিয়ে বাহিনীর সদস্যদের এক অংশের ওপর নানা অন্যায় অবিচার হওয়ার বেশ কিছু নজির তৈরি হয়েছে। ওইসব অভিযোগ আদালতে মিথ্যা প্রমাণ হয়েছে। এদিকে তাহসিফের মৃত্যু নিয়ে তার বাবা দাবি করেন, সে আত্মহত্যা করেনি। তদন্ত করলে প্রকৃত অপরাধীদের বের করতে পারবে, খুনিচক্র কারা তা জানা যাবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।  

নদীতে লাশ পাওয়ার ঘটনাটি সন্দেহকে আরো বাড়িয়ে দেয়। খুনিরা তাদের অপরাধ গোপন করতে লাশ নদীতে ফেলে দেয়। মানবশরীর দ্রুত পচে খুনের আলামত নষ্ট হয়। লাশের বড় একটি অংশ শনাক্ত করা যায় না। পরবর্তী পরীক্ষা-নিরীক্ষায় আদালতে উপস্থাপনের মতো তথ্য এর মাধ্যমে এড়ানো সম্ভব হয়। এত অল্প সময়ের মধ্যে তাহসিফের লাশটি তুরাগে কিভাবে গেল সেটি একটি প্রশ্ন। একটি সহযোগী দৈনিক জানিয়েছে, বিগত ২০ মাসে নৌপুলিশ নদী থেকে ৯০০ লাশ উদ্ধার করেছে। এগুলোর মধ্যে ২৬৭ জনের লাশের পরিচয় জানা যায়নি। বেশির ভাগ উদ্ধার হয়েছে ঢাকার আশপাশ থেকে। 

তাহসিফের লাশ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যালে পাঠানো হয়েছে ময়নাতদন্তের জন্য। পাকস্থলী, লিভার, কিডনি ও রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে কী কারণে তিনি প্রাণ হারিয়েছেন তা জানা যেতে পারে। ময়নাতদন্তে বেরিয়ে আসতে পারে কোনো চক্র তাকে খুন করেছে কিনা।

বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তার লাশ তুরাগে পাওয়া যাওয়া কোনো সাধারণ ঘটনা নয়। একে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করতে হবে। কোনো ধরনের অপরাধী চক্র যদি এর সাথে সম্পৃক্ত হয় তাদের বিচারের আওতায় আনতে হবে। এ ব্যাপারে গাফিলতি কিংবা শিথিলতা গ্রহণযোগ্য হবে না।