
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দুর্বলতায় চুরি ডাকাতি ও খুনের ঘটনা উচ্চহারে ঘটছে। একইভাবে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তায়ও ঘাটতি দেখা যাচ্ছে। চট্টগ্রামের শাহ আমানত বিমানবন্দরে উপর্যুপরি চুরির ঘটনা ঘটেছে। সুরক্ষিত এলাকায় একের পর এক চুরি উদ্বেগ তৈরি করছে। জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রক্ষার সর্বোচ্চ নির্দেশনা থাকলেও এক ধরনের গাফিলতি দেখা যাচ্ছে। দেশের সার্বিক নিরাপত্তাব্যবস্থায় ফ্যাসিস্ট সরকার যে ঘাটতি তৈরি করেছে তা এখনো কাটিয়ে ওঠা যায়নি। নিরাপত্তা কাঠামোয় শিথিলতার বিষয়টি সরকারকে সর্বোচ্চ গুরুত্বের সাথে বিবেচনায় নিতে হবে।
একটি সহযোগী দৈনিকের খবরে বলা হয়েছে, ১৯ অক্টোবর রাতে বন্দরের জাপান গেট এলাকা থেকে বৈদ্যুতিক তার চুরি হয়। এটি সাধারণ কোনো তার চুরির ঘটনা নয়। চুরি যাওয়া ৫০০ মিটার তারের দাম দুই লাখ টাকা। আশঙ্কার বিষয় হচ্ছে, রাতে জনপরিসর থেকে মাটির গভীর খুঁড়ে চোরেরা এটি নিয়ে যায়। চলতি বছরের আগস্টে ট্রান্সফরমার, ভূগর্ভস্থ তারসহ নানান বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম কয়েক দফায় চুরি হয়। সেপ্টেম্বরেও কয়েক দফায় একই ধরনের চুরির ঘটনা ঘটে। তবে সর্বশেষ চুরির ঘটনাটি প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা সতর্কতার মধ্যে ঘটে।
শাহ আমানত ‘ক’ শ্রেণীর জাতীয় নিরাপত্তা স্থাপনা। এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সংবেদনশীল এলাকা। এর আশপাশের নিরাপত্তা সার্বক্ষণিক কঠোরভাবে নজরদারির মধ্যে রাখা হয়। কাগজ-কলমে এর নিরাপত্তায় একই ধরনের প্রস্তুতি আছে। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) নিরাপত্তা শাখা, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন), বিমানবাহিনীর টাস্কফোর্স এবং আনসার সমন্বয়ে এর নিরাপত্তা দেয়া হয়। উচ্চ নিরাপত্তা সতর্কতার মধ্যে উপর্যুপরি একই ধরনের নিরাপত্তা বিঘ্ন ঘটার বিষয়টি তাই বড় প্রশ্ন জাগিয়েছে। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রীর আগমনের সতর্কতার মধ্যে মাটির গভীরে থাকা তার নিরাপত্তা বলয় ভেদ করে কিভাবে চুরি হয়? বিমানবন্দরের নিরাপত্তা বেষ্টনীর একটি নির্দিষ্ট দূরত্ব পর্যন্ত নিবিড় পর্যবেক্ষণের মধ্যে থাকে। নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা বাহিনী সঠিক দায়িত্ব পালন করলে কোনোভাবে এ উচ্চ নিরাপদ এলাকায় চুরি হতে পারে না। বড়জোর একবার হতে পারে, তাও মানা যায় না। তবে একের পর এক একই ধরনের চুরি শঙ্কার জন্ম দিয়েছে। এসব চুরিতে টাকার অঙ্কে লোকসানের পরিমাণ বেশি নয়। উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে— বিমানবন্দরের সার্বিক নিরাপত্তা দুর্বলতার সুযোগে শত্রুরা ছক কষতে পারে। বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটাতে পারে।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী থেমে থেমে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় অন্তর্ঘাতমূলক কর্মকাণ্ড দেখা গেছে। অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় দফায় দফায় রহস্যজনক অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। ওষুধ কারখানা, বন্দরে নোঙর করা দেশীয় জাহাজে দুর্ঘটনা ঘটেছে। হতাশার দিক হলো— গুরুতর এসব ঘটনার সেভাবে তদন্ত হয়নি। এর কারণ ও দায়ীরা শনাক্ত হয়নি।
একটি রাষ্ট্রের নিরাপত্তাব্যবস্থা কতটা সংহত, দেশটির গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা কতটুকু সংরক্ষিত তা দেখে অনুমান করা যায়। শাহ আমানতের চুরির ঘটনা পুরনো ঘটনাগুলোর মতো হালকাভাবে নেয়ার সুযোগ নেই। উপযুক্ত গুরুত্ব দিয়ে এ ঘটনার তদন্ত করতে হবে। নিরাপত্তা ঘাটতি কোথায় চিহ্নিত করতে হবে। অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা দুর্বলতা শনাক্ত করে তা নিশ্ছিদ্র করতে হবে।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








