সম্পাদকীয়
সম্পাদকীয় লোগো। নয়া দিগন্ত

বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নে নজিরবিহীন ধীরগতি দেখা যাচ্ছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিক, অর্থাৎ গত তিন মাসে এডিপির বাস্তবায়ন আদৌ শুরুই হয়নি। সরকারের গুরুত্বপূর্ণ তিনটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ এডিপি বরাদ্দের এক টাকাও ব্যয় করেনি। আরো ছয়টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ ব্যয় করেছে বরাদ্দের ১ শতাংশের কম অর্থ। সব মিলিয়ে অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে এডিপি বাস্তবায়নের সার্বিক হার দাঁড়িয়েছে বরাদ্দের মাত্র ৩ দশমিক ৮৯ শতাংশ। দেশের ইতিহাসে এ এক নতুন রেকর্ড। প্রকল্প বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যয়ান তদারকি প্রতিষ্ঠান আইএমইডির রোববার প্রকাশিত হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
সহযোগী একটি দৈনিকে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, এমনকি কোভিড মহামারীর সময় ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকেও এডিপি বাস্তবায়নের হার ছিল ৮ দশমিক শূন্য ৬ শতাংশ। ২০২৪ সালের যুগান্তকারী রাজনৈতিক পট-পরিবর্তনের পরও কিন্তু এডিপি বাস্তবায়নের হার গতি হারায়নি। 
বর্তমান দুরবস্থার কারণ দৃশ্যত সরকারের অদক্ষতা ছাড়া অন্য কিছু বলে মনে করার কারণ নেই। দেশে যুদ্ধ পরিস্থিতি নেই, রাজনৈতিক গোলযোগ বা অস্থিরতাও নেই। জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় আছে। এমনকি পতিত ফ্যাসিবাদী দলটির মতো হরতাল, অবরোধ, নাশকতার মাধ্যমে পদে পদে বাধা সৃষ্টিকারী বিরোধী দলও নেই। এর পরও উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের প্রায় স্থবিরতা সরকার ও প্রশাসনের দক্ষতা নিয়ে যুগপৎ বিস্ময় ও হতাশা সৃষ্টি করেছে। 
জানা মতে, এডিপি বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করতে সরকার এরই মধ্যে বেশ কিছু পদক্ষেপও নিয়েছে। ধীরগতির প্রকল্প ছাঁটাই ও বরাদ্দ যৌক্তিক করা হচ্ছে, প্রয়োজনে প্রকল্প বাতিলের উদ্যোগ,  প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়মিত মনিটরিংয়ের জন্য আধুনিক পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা চালু, প্রকল্প পরিচালক নিয়োগে পেশাগত যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা বিবেচনায় নেয়া, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের ঘন ঘন বদলি না করে ধারাবাহিকতা বজায় রাখার কথা বলা হচ্ছে। যথাসময়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়ার কথাও শোনা যাচ্ছে। 
কিন্তু কার্যক্ষেত্রে পদক্ষেপগুলো যে কার্যকর হয়নি, এডিপি বাস্তবায়নের মন্থরতাই তার প্রমাণ। এটি সত্য যে, একটা সময়ে তড়িঘড়ি করে যেনতেন প্রকারে এডিপি বাস্তবায়নে ঝাঁপিয়ে পড়বে প্রতিটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ। বছর শেষে বাস্তবায়নের হার ঠিকই ৮০ শতাংশ বা তার বেশি দেখানো হবে। তবে তাতে প্রকৃত উন্নয়ন কতটা হবে আর কতটা জনগণের চোখে মায়াজাল বিছানো হবে— সেটিই প্রশ্ন। 
দেশের উন্নয়নে বিএনপির অতীতের ভূমিকা ইতিবাচক। অর্থনৈতিক সংস্কার ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় দলের প্রতিষ্ঠাতা প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার নাম স্মরণীয় হয়ে আছে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর কাছেও সেই ধারাবাহিকতা জনগণ আশা করে। পতিত স্বৈরাচারের ধ্বংস করে যাওয়া অর্থনীতির দোষ দিয়ে লাভ নেই। কারণ, অন্তর্বর্তী সরকারের উদাহরণ জাতির সামনে আছে। একেবারে খাদের কিনারে দাঁড়িয়েও অন্তর্বর্তী সরকার ৬৮ শতাংশের ওপরে এডিপি বাস্তবায়ন করে। বর্তমানে বিশ্বে সঙ্কট আছে। যুদ্ধের কারণে সমস্যা বাড়ছে; কিন্তু সেটির সাথে বরাদ্দ করা এডিপির অর্থ ব্যয়ের গতিহীনতার কোনো সম্পর্ক নেই। এখানে সরকারের দক্ষতাই নিয়ামক।  

Advertisement