
মাদক পাচার, চোরাচালান ও সেবন দেশে বরাবর বেড়ে চলেছে। অথচ সবসময় এর বিরুদ্ধে অভিযান চলমান আছে। সময়ে সময়ে এর বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করে দেশব্যাপী অভিযান চালানো হয়েছে। সেসব অভিযানে অনেক কথিত মাদক কারবারির প্রাণও গেছে। তবে দেশে মাদকের উৎপাত কমেনি। এবার সরকারের এক প্রতিমন্ত্রী পুরান ঢাকায় নিজে অভিযানে নেমে পড়েন। প্রশাসনের অংশগ্রহণ ছাড়া নিজ উদ্যোগে অস্ত্র নিয়ে ‘মাদক কারবারিদের’ তাড়া করেছেন তিনি। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, মাদকবিষয়ক অভিযান নজরকাড়ার একটা উপায় হয়ে আছে। অন্যথায় এগুলো মাদক চোরাচালান বন্ধ ও ব্যবহার কমানোর কোনো কাজে আসছে না কেন।
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন গেন্ডারিয়া থানার ৪৫ নম্বর ওয়ার্ডের রেললাইনসংলগ্ন বস্তিতে অভিযান চালান। হ্যান্ডমাইকে ঘোষণা দিয়ে কথিত মাদকসেবীদের ধাওয়া দেন। এ সময় হাতে একটি আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন করে তাদের ভয় দেখান।
অভিযান চালাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ডাকেননি তিনি। স্থানীয় পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা জানাচ্ছেন, তারা প্রতিমন্ত্রীর এ অভিযানের বিষয় জানতেন না। খবর পেয়ে স্থানীয় পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। পরে প্রতিমন্ত্রীর লোকজন আটক ছয়জনকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন।
পুরো ঘটনা প্রতিমন্ত্রীর সহযোগীরা ভিডিও ধারণ করে সামাজিকমাধ্যমে ছড়িয়ে দেন। বিষয়টি জানাজানি হলে তার ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্র ও কয়েক সহযোগীর কাছে থাকা অস্ত্র নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। বিশেষ করে প্রতিমন্ত্রীর কাছে থাকা অস্ত্রটি নির্বাচনী হলফনামায় উল্লেখ নেই। নিবন্ধিত অস্ত্রের ব্যবহার বিধি আছে। আত্মরক্ষা ছাড়া এর ব্যবহার করা যায় না। এই সময় তা লঙ্ঘিত হয়েছে। আইন যথাযথ না মানার অভিযোগ প্রতিমন্ত্রীর বিরুদ্ধে উঠেছে। তিনি যাদের সাথে নিয়েছেন তারা কেউ এ অভিযান চালানোর এখতিয়ার রাখেন না।
মাদক দমনে প্রথাগত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ছাড়াও আছে গোয়েন্দা সংস্থা। এর চেয়েও অগ্রাধিকার প্রাপ্ত মাদক নিয়ন্ত্রক অধিদফতর আছে। সবাইকে পাশ কাটিয়ে মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রীর এই অভিযান চালানো কোনো অবস্থাতেই যুক্তিসঙ্গত নয়।
এদিকে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে আওয়ামী লীগ রীতিমতো বেসাতি করে গেছে। মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণের বদলে বহু অকাজ তখন করা হয়। এখনো দেখা মেলে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার। মুক্তিযুদ্ধের সাথে কোনো সম্পর্ক না থাকলেও তারা বাগিয়ে নিয়েছেন রাষ্ট্রের কাছ থেকে অবৈধ সুযোগ-সুবিধা। প্রতিমন্ত্রী চাইলে এগুলো সংশোধন করতে পারেন। বিশেষ করে মুক্তিযোদ্ধা তালিকা নিয়ে যে জালিয়াতি হয়েছে; তা ঠিক করতে পারেন। আরোপিত দায়িত্ব বাদ দিয়ে তিনি যদি এমন কাজে নেমে পড়েন যা তার আওতায় পড়ে না, তা ন্যায্যতা পাবে না।
মাদক নির্মূল নিঃসন্দেহে ভালো কাজ। একটি ভালো কাজ যখন খারাপ পদ্ধতিতে করা হয় তার নৈতিক ভিত্তি থাকে না। সংশোধন আনার পরিবর্তে সেটি বরং নতুন বিতর্কের জন্ম দেয়। মাদক দমনের প্রধান প্রতিবন্ধকতা হলো এর মদদদাতারা, যারা সবসময় রাজনীতির ছত্রছায়ায় থাকে। পুরান ঢাকার ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম নেই। মূল জায়গায় হাত না দিয়ে লোকদেখানো অভিযান দিয়ে কখনো মাদক নির্মূল করা যাবে না।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








