ফিরিয়ে আনা পাচারের অর্থ ব্যক্তি অ্যাকাউন্টে 
ফিরিয়ে আনা পাচারের অর্থ ব্যক্তি অ্যাকাউন্টে  নয়া দিগন্ত গ্রাফিক্স

 

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর জনগণের পূর্ণ আস্থা আছে এমন নয়। তবে দায়িত্ব পালনে দক্ষতার প্রমাণও কম নেই। সম্প্রতি এমন এক সাফল্যের পরিচয় দিয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। বিদেশে পাচার হওয়া অর্থের কিছু অংশ ফিরিয়ে এনেছে সংস্থাটি। 

কানাডাভিত্তিক ট্রেডিং প্ল্যাটফর্ম মেটাভার্স ফরেন এক্সচেঞ্জ (এমটিএফই) প্রতারণার মাধ্যমে মানুষের বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিয়েছিল। সে অর্থ বিদেশে পাচার করা হয়। সংগঠনটি ক্রিপ্টোকারেন্সি ও ফরেক্স ট্রেডিংয়ে উচ্চ মুনাফার লোভ দেখিয়ে বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করত। শুরুতে ভুয়া মুনাফা দেখিয়ে আস্থা অর্জন করে। অনেকে সম্পদ বিক্রি করে, কেউ ঋণ নিয়ে টাকা বিনিয়োগ করেন। ২০২৩ সালের মাঝামাঝি প্ল্যাটফর্মটি হঠাৎ উধাও হয়ে যায়।

পত্রিকান্তরে প্রকাশিত খবরে জানা যায়, ঢাকার মার্কিন দূতাবাসসহ কয়েকটি বিদেশী প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় সিআইডি প্রায় ৪৫ কোটি টাকা ফিরিয়ে এনেছে। দেশের ইতিহাসে ক্রিপ্টোতে পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনার ঘটনা এটি প্রথম। সহায়তাকারীরা আশা করেছিলেন, অর্থ ফিরে এলে তা প্রতারিত ব্যক্তিদের ফিরিয়ে দেয়া হবে। কিন্তু এখানে গোল বেঁধেছে। অন্তত ছয় মাস আগে ফিরে পাওয়া অর্থ ভুক্তভোগীদের দেয়া হয়নি। এই সংক্রান্ত প্রক্রিয়া শুরু করা হয়নি। টাকা ফিরিয়ে আনার তথ্যও জানানো হয়নি। পুরো বিষয়টি অনিশ্চিত। প্রতারিত অন্তত ৩০ ব্যক্তি তাদের অর্থ বিনিয়োগের প্রমাণসহ মামলা করেছেন। সেই মামলার সূত্রে সিআইডি তদন্ত করে অর্থ উদ্ধার করে। পত্রিকার খবর অনুযায়ী, ফিরিয়ে আনা প্রায় ৪৫ কোটি টাকা সোনালী ব্যাংকের মালিবাগ শাখায় একটি অ্যাকাউন্টে রাখা হয়েছে। অ্যাকাউন্টটি সিআইডির তিন কর্মকর্তার নামে। 

এখন ভুক্তভোগীরা অনিশ্চয়তায় ভুগছেন। ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। জনমনেও নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। অনেকে বলছেন, এ ঘটনা মন্দ নজির তৈরি করল। এতে দেশ থেকে পাচার হওয়া হাজার হাজার কোটি টাকা ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে সমস্যা হবে। কারণ ভবিষ্যতে আর কেউ সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেবেন না। এর আগে রিজার্ভের হাতিয়ে নেয়া অর্থের কিছু উদ্ধার করতেও বিদেশী বিভিন্ন সংস্থার সহায়তা নিতে হয়েছিল। ভবিষ্যতেও নিতে হবে। কারণ পতিত সরকারের সাড়ে ১৫ বছরে প্রায় ২৮ লাখ কোটি টাকা পাচার হয়েছে। তার সামান্যও এখনো উদ্ধার হয়নি। সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলো সম্মিলিতভাবে উদ্যোগ নিলে পাচার করা সব অর্থ ফিরিয়ে আনা সম্ভব। কিন্তু সিআইডির ঘটনা এ ক্ষেত্রে নৈরাশ্যজনক এক উদাহরণ সৃষ্টি করেছে। 

আমরা মনে করি, পাচারের অর্থ ফিরিয়ে এনে সিআইডি যেভাবে আটকে রেখেছে, তাতে শুধু সংস্থাটির তিন কর্মকর্তা নন, এবার প্রতিষ্ঠানটিও তীব্রভাবে প্রশ্নের মুখে পড়েছে। সঙ্গতকারণে সিআইডির উচিত শুধু এই রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের নয় বরং গোটা বাংলাদেশের ভাবমর্যাদা রক্ষায় অবিলম্বে ভুক্তভোগীদের টাকা ফিরিয়ে দিয়ে স্বচ্ছতার প্রমাণ রাখা। এটিকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসাবে দেখার সুযোগ নেই। এই বিষয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ের হস্তক্ষেপ জরুরি।