সিঙ্গাপুর, বাংলাদেশ
সচিবালয়ে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনামের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ঢাকায় নিযুক্ত সিঙ্গাপুরের অনাবাসিক হাইকমিশনার ডেরেক লোক। সংগৃহীত

বাংলাদেশ ও সিঙ্গাপুর নিজেদের মধ্যে প্রযুক্তিগত সহযোগিতা সম্প্রসারণে আগ্রহী বলে জানিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।

Advertisement

সচিবালয়ে আজ সোমবার নিজ দফতরে বাংলাদেশে নিযুক্ত সিঙ্গাপুরের অনাবাসিক হাইকমিশনার ডেরেক লোকের সাথে বৈঠককালে মন্ত্রী এ কথা জানান। 

বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরো জোরদার করার পাশাপাশি ডিজিটাল পেমেন্ট, টেলিযোগাযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ই-কমার্স এবং ডিজিটাল অর্থনীতির বিভিন্ন ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়ে আলোচনা করা হয়।

বৈঠকে ফকির মাহবুব আনাম বলেন, বাংলাদেশ সরকার ডিজিটাল রূপান্তর, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কার্যকর প্রয়োগ এবং প্রযুক্তিনির্ভর জনসেবা সম্প্রসারণকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে। এসব ক্ষেত্রে সিঙ্গাপুরের অর্জিত অভিজ্ঞতা, প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও উদ্ভাবনী উদ্যোগ বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। 

তিনি বলেন, বাংলাদেশের বিস্তৃত ডাকঘর নেটওয়ার্ককে আধুনিকায়নের মাধ্যমে ই-কমার্স, পার্সেল ডেলিভারি ও সমন্বিত লজিস্টিকস সেবার কার্যকর কেন্দ্রে রূপান্তরের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে সিঙ্গাপুরের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে যৌথভাবে কাজ করার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে।

মন্ত্রী সরকারি সেবায় ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার সম্প্রসারণ, রাজস্ব আদায়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং স্বাস্থ্যসেবা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। 

তিনি বলেন, প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার নাগরিক সেবার মানোন্নয়ন, সরকারি কার্যক্রমে দক্ষতা বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে আরো গতিশীল করতে পারে। এসব ক্ষেত্রে সিঙ্গাপুরের সাথে প্রযুক্তিগত সহযোগিতা, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং যৌথ উদ্যোগ গ্রহণে আগ্রহী বাংলাদেশ।

সভায় ডেরেক লোক বাংলাদেশের সাথে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণের আগ্রহ প্রকাশ করেন।

তিনি বাংলাদেশের বিস্তৃত ডাক বিভাগের অবকাঠামোকে কাজে লাগিয়ে ই-কমার্স, পার্সেল ডেলিভারি ও লজিস্টিকস সেবার উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। 

একইসাথে সরকারি সেবায় ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা চালু ও সম্প্রসারণের মাধ্যমে রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি, আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত এবং জনসেবার দক্ষতা বাড়ানোর বিষয়ে সিঙ্গাপুরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন তিনি।

তিনি স্বাস্থ্যসেবা, গবেষণা, বায়োমেডিক্যাল প্রযুক্তি এবং সরকারি সেবায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কার্যকর প্রয়োগের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর পরিবর্তনশীল বিশ্বে তরুণ জনগোষ্ঠীকে ভবিষ্যতের কর্মবাজারের উপযোগী করে গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশের সাথে সিঙ্গাপুরের অভিজ্ঞতা, প্রযুক্তিগত জ্ঞান ও দক্ষতা বিনিময়ে কাজ করার ব্যাপক সুযোগ রয়েছে।

উভয় পক্ষ ডিজিটাল অর্থনীতি, প্রযুক্তি উদ্ভাবন, দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং জনসেবার আধুনিকায়নে বাংলাদেশ ও সিঙ্গাপুরের মধ্যে সহযোগিতা সম্প্রসারণের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে বলে মত করে। পারস্পরিক অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে এসব ক্ষেত্রে বাস্তবভিত্তিক যৌথ উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ক আরো সুদৃঢ় করা সম্ভব বলেও তারা মনে করেন।

সভায় সিঙ্গাপুর হাইকমিশনের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ফিলিপ ওং, ডেস্ক অফিসার ম্রিথিনি টিজিট্রিথারান এবং এন্টারপ্রাইজ সিঙ্গাপুরের দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক ডেভেলপমেন্ট পার্টনার বেঞ্জামিন চূ উপস্থিত ছিলেন। সূত্র : বাসস