
কম্বোডিয়াভিত্তিক অনলাইন প্রতারণা চক্রের তিন বাংলাদেশী সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পিবিআই ঢাকা মেট্রো (উত্তর)। এক অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তার কাছ থেকে ৩৪ লাখ ৫৪ হাজার ২৮৬ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
সোমবার পিবিআই ঢাকা মেট্রো (উত্তর)-এর অতিরিক্ত ডিআইজি মো: এনায়েত হোসেন মান্নান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
পিবিআই জানায়, দারুস সালাম থানার একটি মামলার তদন্তে প্রতারণার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে মো: মেহেদী হাসান ওরফে সোহাগ (২৭), আবুল হাসান ওরফে নাঈম (২৪) ও সুমাইয়া খাতুন ওরফে শান্তাকে (২৪) গ্রেফতার করা হয়েছে। খুলনা জেলার হরিণটানা, খালিশপুর ও আড়ংঘাটা থানা এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, টেলিগ্রামে যোগাযোগের মাধ্যমে বাদীকে একটি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি হিসেবে পরিচয় দিয়ে অনলাইনে বিমানের টিকিট কেনাবেচার ব্যবসায় বিনিয়োগের প্রস্তাব দেয়া হয়। অধিক মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন সময়ে টাকা জমা দিতে বলা হয়। পরে টাকা উত্তোলনের জন্য নিরাপত্তা জামানত, ভিআইপি চ্যানেল ও বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্লিয়ারেন্সের কথা বলে আরো অর্থ নেয়া হয়। এভাবে বাদীর কাছ থেকে বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব ও বিকাশ নম্বরে মোট ৩৪ লাখ ৫৪ হাজার ২৮৬ টাকা নেয়া হয় বলে মামলার নথিতে উল্লেখ রয়েছে।
পিবিআই জানায়, তদন্তে বিভিন্ন ব্যাংক ও বিকাশের লেনদেনের তথ্য সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্টদের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। গ্রেফতার তিনজনের কাছ থেকে আল-আরাফা ইসলামী ব্যাংক, ডাচ-বাংলা ব্যাংক ও প্রাইম ব্যাংকের তিনটি এটিএম/ডেবিট কার্ডসহ বিভিন্ন আলামত জব্দ করা হয়েছে।
তদন্তে আরো জানা গেছে, মেহেদী হাসান কম্বোডিয়ায় অবস্থানকালে সুমাইয়া খাতুনের নামে ব্যাংক হিসাব খোলান। এসব হিসাব ব্যবহার করে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে অর্থ গ্রহণ এবং পরে অন্য ব্যাংক হিসাবে অর্থ স্থানান্তর করা হতো বলেও পিবিআই জানিয়েছে।
পিবিআইয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, কম্বোডিয়ায় অবস্থানরত প্রতারণা চক্রের সদস্যরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নারীদের ছবি ব্যবহার করে ভুয়া অ্যাকাউন্ট খুলে টার্গেট ব্যক্তিদের সাথে যোগাযোগ করত। পরে নির্দিষ্ট স্ক্রিপ্ট অনুসারে তাদের সাথে সম্পর্ক তৈরি করে হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর সংগ্রহ করা হতো। এরপর অনলাইন ব্যবসায় বিনিয়োগের প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ নেয়া হতো।
গ্রেফতার তিন আসামি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পিবিআই। তাদের জবানবন্দিতে আরো কয়েকজনের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান চলছে।
মামলার সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী প্রথমে সিআর মামলা দায়ের করেন। তদন্তে প্রতারণার প্রমাণ ও অর্থ লেনদেনের তথ্য পাওয়ার পর দারুস সালাম থানায় মামলা করা হয়। গত ১৭ সেপ্টেম্বর মামলাটি পিবিআই ঢাকা মেট্রো (উত্তর) তদন্তের জন্য গ্রহণ করে।
পিবিআই জানিয়েছে, ঘটনায় আরো কেউ জড়িত আছে কি না এবং প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাৎ করা অর্থের বিষয়ে অতিরিক্ত তথ্য পাওয়া যায় কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।








