
রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশনের ২ নম্বর প্ল্যাটফর্মে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে ২০ হাজার চুক্তিতে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মো: সাখাওয়াত হোসেন রায়হান (৩২) নামের এক ব্যক্তিসহ দুজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানায় মতিঝিল বিভাগের উপকমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ।
তিনি জানান, গত ১৯ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক ১০টা ৩৭ মিনিটে রেলস্টেশনের ২ নম্বর প্ল্যাটফর্মের ২৯ ও ৩০ নম্বর পিলারের মাঝামাঝি স্থানে পরপর দুটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়।
বিস্ফোরণের পরপরই রেলওয়ে পুলিশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, ডিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও শাহজাহানপুর থানার কর্মকর্তারা দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। ঘটনার পরেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তথ্য সংগ্রহ, প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ এবং বিশ্বস্ত সোর্সের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে ঘটনার সাথে জড়িতদের শনাক্ত করার কাজ শুরু করে। পরে সফল অভিযান চালিয়ে এ ঘটনায় জড়িত দুই আসামিকে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশের ব্রিফিংয়ে আরো জানানো হয়, ঢাকা শহরে নিয়মিত বিভিন্ন সভা-সমাবেশ ও আন্দোলনের ভিড়ে কিছু নিষিদ্ধ কিংবা কার্যক্রম স্থগিত হওয়া সংগঠনের সমর্থকরা সুনির্দিষ্ট কৌশলে এসব অপরাধ সংঘটিত করছে। এই ধরনের চক্রে একেকজন একেক দায়িত্বে থাকে—কেউ অর্থায়ন করে, কেউ সমন্বয় করে, কেউ পকেটে ককটেল বহন করে বিস্ফোরণ ঘটায়, আবার কেউ কেউ মোবাইলে ভিডিও ধারণ করে। গ্রেফতারকৃত আসামিদের আরো জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে এই চক্রে আর কারা জড়িত বা অন্য কোনো ঘটনায় তাদের সংশ্লিষ্টতা আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
রেলস্টেশনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও পুলিশের তৎপরতা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, পুলিশ আইন ও বিধি অনুযায়ী সার্বিক প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে থাকে। এ ঘটনার ক্ষেত্রে পুলিশের কোনো গোয়েন্দা ব্যর্থতা ছিল না উল্লেখ করে জানানো হয়, গোয়েন্দা তথ্যের ওপর নির্ভর করেই দ্রুততম সময়ে জড়িতদের গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে এবং পুলিশ নিয়মিত তাদের অপরাধবিরোধী কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।







