
টেলিগ্রাম অ্যাপের মাধ্যমে ভুয়া চাকরির প্রস্তাব দিয়ে অধিক মুনাফার প্রলোভনে ৯৪ লাখ ১৯ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সংঘবদ্ধ অনলাইন প্রতারক চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
শুক্রবার সিআইডির এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এর আগে, বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার দিকে কিশোরগঞ্জ সদর থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতাররা হলেন কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলার দামপাড়া এলাকার মোজাম্মেল হকের ছেলে মো: জুলহাস উদ্দিন (৩৯) এবং একই জেলার করিমগঞ্জ উপজেলার গুনধর এলাকার রেনু মিয়ার ছেলে প্রহড় (২৮)।
মামলার এজাহার সূত্রে সিআইডি জানায়, ২০২৫ সালের ২৪ আগস্ট বাদী মেহেদি হক নিয়নকে টেলিগ্রাম অ্যাপের একটি আইডি থেকে Zales জুয়েলারি নামে একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরির প্রস্তাব দেয়া হয়। তিনি প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইট দেখে চাকরিতে আগ্রহী হলে প্রতারক চক্রটি একটি ফিশিং লিংকের মাধ্যমে তাকে ভুয়া ওয়েবসাইটে যুক্ত করে।
প্রথমে অনলাইনে অর্ডার সম্পন্নের মাধ্যমে কমিশন পাওয়ার সুযোগ দেয়া হয়। পরে অধিক মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন অঙ্কের টাকা বিনিয়োগে তাকে প্রলুব্ধ করা হয়। একপর্যায়ে ৯০টি অর্ডার সম্পন্ন করার কথা বলে প্রতিটি ধাপে তার অ্যাকাউন্টে বিভিন্ন অঙ্কের মুনাফা দেখানো হয়। পরে অর্ডার সম্পন্ন এবং প্রদর্শিত মুনাফার টাকা উত্তোলনের জন্য বিভিন্ন অজুহাতে অতিরিক্ত টাকা জমা দিতে বলা হয়। প্রতারক চক্রের কথায় বিশ্বাস করে বাদী বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে একাধিক দফায় টাকা পাঠান। এভাবে তার কাছ থেকে মোট ৯৪ লাখ ১৯ হাজার টাকা আত্মসাৎ করা হয় বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় বাদী ঢাকার পল্টন থানায় ৩ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে মামলা করেন। মামলায় পেনাল কোডের ৪০৬, ৪২০, ৪১৭ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়।
সিআইডির পক্ষ থেকে জানানো হয়, সিআইডি মামলাটির তদন্তভার গ্রহণের পর বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে চক্রটির সদস্যদের শনাক্ত করে। তদন্তে এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে এরই মধ্যে ১২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
এরই ধারাবাহিকতায় ১৭ সেপ্টেম্বর আসামিদের অবস্থান শনাক্ত করে কিশোরগঞ্জ সদর থানা এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় মামলার ১৯ নম্বর এজাহারনামীয় আসামি মো: জুলহাস উদ্দিনকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে প্রহড়কে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতার দুইজনকে রিমান্ডের আবেদনসহ আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








