
পাকিস্তানের উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান মোহাম্মাদ রিজওয়ানের করা রিট আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন লাহোর হাইকোর্ট। একইসাথে তাজে ন্যাশনাল সাইবার ক্রাইমস ইনভেস্টিগেশন অ্যাজেন্সির (এনসিসিআইএ) জিজ্ঞাসাবাদের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) এনসিসিআইএর তলবের বিরুদ্ধে লাহোর হাইকোর্টে রিট করেন রিজওয়ান। তার দাবি ছিল, কী কারণে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে, তা সুনির্দিষ্টভাবে জানানো হয়নি। অনলাইন বাজি বা জুয়া সংক্রান্ত বিষয়ে তদন্তের এখতিয়ারও এনসিসিআইএর নেই বলে আবেদনে উল্লেখ করেন তার আইনজীবীরা।
তবে গতকাল বৃহস্পতিবার সংক্ষিপ্ত শুনানি শেষে রিজওয়ানের আবেদন খারিজ করে দেন আদালত। এখন তিনি এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করবেন, নাকি এনসিসিআইএর জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হবেন, তা এখনো জানা যায়নি।
এর আগে গত সপ্তাহে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিজওয়ানকে তলব করেছিল এনসিসিআইএ। একই দিনে পাকিস্তানের আরেক ব্যাটসম্যান ইমাম-উল-হাককেও সংস্থাটির সামনে হাজির হতে হয়। তিনি অবশ্য জিজ্ঞাসাবাদের প্রশ্নগুলোর লিখিত জবাব দিয়ে এরই মধ্যে তা সংস্থার কাছে পাঠিয়েছেন।
আদালতে করা আবেদনে রিজওয়ান অভিযোগ করেন, ইংল্যান্ডে লর্ডস টেস্টের পর তার মোবাইল ফোন নিয়ে নেয়া হয়। তার দাবি, রাত ১টার দিকে দলের হোটেলের লবিতে তাকে ডেকে নেয়া হয়। সেখানে সরকারি একটি সংস্থার এক কর্মকর্তা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন এবং কোনো পূর্ব নোটিশ বা অনুমোদিত আদেশ দেখানো ছাড়াই ফোনটি জব্দ করেন।
রিজওয়ানের দাবি, ফোনটি তিন ঘণ্টার মধ্যে পরীক্ষা করে ফেরত দেয়ার আশ্বাস দেয়া হলেও সেটি এখনো ফেরত দেয়া হয়নি।
এমনকি আবেদনে এনসিসিআইএর এখতিয়ার নিয়েও প্রশ্ন তোলেন রিজওয়ান। এ ধরনের অভিযোগ তদন্তে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) দুর্নীতিবিরোধী ইউনিট (এসিইউ) রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তার আইনজীবীরা।
এদিকে, ইংল্যান্ড সফর ঘিরে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডও (পিসিবি) আলাদা অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু করেছে। শৃঙ্খলা ও আচরণ নিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনের পর এই তদন্ত শুরু করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বোর্ড।
লর্ডস টেস্টের পর রিজওয়ান ও ইমামকে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ইংল্যান্ড সফরের দলে অন্তর্ভুক্ত করার কারণ ও প্রক্রিয়া নিয়েও নির্বাচকদের কাছে লিখিত ব্যাখ্যা চেয়েছিল পিসিবি। এ ঘটনায় নির্বাচকদের একজন মিসবাহ-উল-হক পদত্যাগ করেন।
ইংল্যান্ড সফরে তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে হেরেছিল পাকিস্তান।







