
ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ মানেই বাড়তি উত্তেজনা। সিনিয়র হোক কিংবা জুনিয়র, দুই দেশ মুখোমুখি হলেই উন্মাদনা তুঙ্গে উঠে। রোববার ওমানের মাসকটে অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপের গ্রুপ এ-র ম্যাচেও তার ব্যতিক্রম হলো না। ‘ট্র্যাডিশন’ বজায় রেখে হাত মেলালেন না দু’দলের ক্রিকেটাররা। এই ম্যাচে বাড়তি নজর ছিল ভারতের দুই ক্রিকেট কিংবদন্তি বীরেন্দ্র শেবাগ ও রাহুল দ্রাবিড়ের ছেলেদের দিকে। ভারতের প্রথম একাদশে ছিলেন আর্যবীর শেবাগ ও অন্বয় দ্রাবিড়। কিন্তু বড় ম্যাচে প্রত্যাশা পূরণ করতে পারলেন না দু’জনের কেউই। আর্যবীর ফিরলেন ২২ রানে, অন্বয়ের সংগ্রহ মাত্র ১০। অর্জুনের সেঞ্চুরিতে ২ শ’র গণ্ডি পেরলেও শেষ পর্যন্ত ৩ উইকেটে পাকিস্তানের কাছে হেরেছে ভারত।
নেপালের বিপক্ষে আগের ম্যাচে ৫২ বলে ৭০ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলে নজর কেড়েছিলেন আর্যবীর। ৫২ বলে ৭০ রানের ইনিংসে ছিল সাতটি চার ও চারটি ছক্কা। কিন্তু পাকিস্তানের বিপক্ষে সেই ছন্দ ধরে রাখতে পারলেন না শেবাগ-পুত্র। শুরু থেকেই পাকিস্তানের দুই পেসার আলি রাজা ও সায়মের বোলিংয়ের সামনে ছন্দে দেখায়নি তাকে। সবুজ উইকেটের সুবিধা কাজে লাগিয়ে ভারতীয় ব্যাটারদের চাপে রাখেন পাকিস্তানের পেসাররা। শেষ পর্যন্ত ৪০ বলে ২২ রান করে ফিরতে হয় আর্যবীরকে। বাঁহাতি স্পিনার নকাব শফিকের বলে সুইপ করতে গিয়ে ডিপ মিড উইকেটে ক্যাচ দেন তিনি। তার ইনিংসে ছিল একটি চার ও একটি ছক্কা।
আরো পড়ুন—বৃষ্টিতে ভেসে গেছে ৭০ হাজার তাঁবু, গাজায় আশ্রয়হীন অসংখ্য মানুষ
দ্রাবিড়-পুত্র অন্বয়েরও দিনটা ভালো গেল না। মিডল অর্ডারে ব্যাট করতে নেমে মাত্র ১০ রান করে আউট হন তিনি। নকাব শফিকের বলে ইনসাইড-আউট শট খেলতে গিয়ে ব্যাটের কানায় বল লাগান অন্বয়। ডিপ কভারে সহজ ক্যাচ নিতে ভুল করেননি পাকিস্তানের ফিল্ডার। নেপালের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে ব্যাট করার সুযোগই পাননি তিনি। ফলে পাকিস্তানের বিপক্ষে নিজেকে প্রমাণ করার সুযোগ ছিল অন্বয়ের সামনে। কিন্তু সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারলেন না দ্রাবিড়-পুত্রও।
আজ টসে জিতে ব্যাট করতে নামা ভারতের আর্যবীর-অন্বয় ব্যর্থ হলেও ভারতের ইনিংসের ভরসা হয়ে উঠেছিলেন অর্জুন রাজপুত। ভারত যখন ৪২ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে বিধ্বস্ত, সেখান থেকে দলের ইনিংসের হাল ধরেন তিনি।
৮৫ বলে ১০৭ রানের দুরন্ত ইনিংস খেলেন অর্জুন। মাত্র ৮০ বলে সেঞ্চুরি করেন তিনি। ফারহান ইউসুফের বলে সিঙ্গল রান নিয়ে তিন অঙ্কের রান স্পর্শ করেন ভারতীয় ব্যাটার। তার ইনিংসের সুবাদেই লড়াই করার মতো জায়গায় পৌঁছায় ভারত। শেষ পর্যন্ত ২০৮ রানে অলআউট হয় ভারত। অর্জুনের সেঞ্চুরি ছাড়া কাব্য প্যাটেল করেন ২৩ রান।
পাকিস্তানের হয়ে বল হাতে সফল আলি রাজা, রিজওয়ানুল্লাহ ও নকাব শফিক। তিনজনেই ৩টি করে উইকেট নেন। আলি রাজা ১০ ওভারে ৩৭ রান দিয়ে ৩টি এবং রিজওয়ানুল্লাহ ৭ ওভারে ২৪ রান দিয়ে তিনটি উইকেট নেন।
২০৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই পাকিস্তানকে চাপে রাখার চেষ্টা করেন ভারতের বোলাররা। ১৪.৪ ওভারে পাকিস্তানের স্কোর ছিল ৫ উইকেটে ৬১। বল হাতে নজর কাড়েন মনল চৌহান। দুরন্ত ছিলেন ঈশান সুদ, মোহিত উলভা ও কাব্য প্যাটেল। ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ তখনো ভারতের হাতেই ছিল।
ঠিক সেই সময় রুখে দাঁড়ান হামজা জাহুর। তাকে যোগ্য সঙ্গ দেন হাসনাইন আব্বাস দার। ষষ্ঠ উইকেটের জুটিতে তারা যোগ করেন ১০৭ রান। তবে ভারতকে ম্যাচে ফেরান মনল চৌহান। ব্যক্তিগত ৩৮ রানে ফেরেন হাসনাইন। যদিও তাতে ভারত পাকিস্তান দলের জয় আটকাতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত টিকে থেকে সেঞ্চুরি হাঁকান হামজা এবং চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের বিপক্ষে ৩ উইকেটের জয় তুলে নেন।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








