বাংলাদেশ, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, সিলেট টেস্ট, সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম, মেহেদী হাসান মিরাজ, নাজমুল হোসেন শান্ত
বাংলাদেশ বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজের মধ্যকার টেস্ট ম্যাচের একটি দৃশ্য। সংগৃহীত

সিলেট টেস্টে জয়ের আশা বাঁচিয়ে রাখতে হলে কঠিন এক সমীকরণ মেলাতে হবে বাংলাদেশকে। চতুর্থ দিনের দ্বিতীয় সেশন শেষে ওয়েস্ট ইন্ডিজের লিড ২৩৯ রান। হাতে আছে ৮ উইকেট। ফলে শেষ ইনিংসে বাংলাদেশের সামনে অপেক্ষা করছে বড় লক্ষ্য। 

Advertisement

আর সেই লক্ষ্য পেরোতে হলে নিজেদের টেস্ট ইতিহাসের সর্বোচ্চ রান তাড়ার রেকর্ড ভাঙতে হবে নাজমুল হোসেনের দলকে। তবে ঠিক কতো রান তাড়া করতে হবে—তা জানতে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। ক্যারিবীয়রা যেভাবে ছুটছে, থামার লক্ষণ নেই মোটেও।

টেস্টে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড ২১৫। ২০০৯ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষেই এই রান তাড়া করে জিতেছিল বাংলাদেশ। সেটিই এখন পর্যন্ত টেস্টে বাংলাদেশের একমাত্র ২০০ বা তার বেশি রান তাড়া করে জয়। সিলেটে জিততে হলে এবার সেই রেকর্ড ছাড়িয়ে যেতে হবে।

Advertisement

রোববার দিনের শুরুতে ২৩ রানে পিছিয়ে ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ ছিল। কিন্তু চতুর্থ দিনের প্রথম সেশন থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের দিকে নিতে শুরু করে ক্যারিবীয়রা। ৩০ ওভারে ১২১ রান তুলে ২ উইকেটে ১২৮ রান নিয়ে লাঞ্চে যায় তারা।

এরপর তৃতীয় উইকেটে হজের সাথে যোগ দেন অভিষিক্ত কেভিন উইকহ্যাম। দুজন মিলে দ্রুত রান তুলতে থাকেন। দ্বিতীয় সেশনের ২৮ ওভারে এই জুটি যোগ করেছে ১৩১ রান। ৬৫ ওভার শেষে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সংগ্রহ ২ উইকেটে ২৬৯। 

হজ আছেন সেঞ্চুরির পথে, ১৩৯ বলে ৯৫ রানে ব্যাট করছেন তিনি। উইকহ্যামও অভিষেক টেস্টে দ্বিতীয় ফিফটি তুলে নিয়েছেন (৭১)। দুজনের ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশের বোলাররা এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো চাপ তৈরি করতে পারেননি। 

ফলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ক্রমেই ক্যারিবীয়দের হাতে চলে যাচ্ছে। আর জয়ের পথ কঠিন হচ্ছে বাংলাদেশের জন্য।

বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসে তাওহীদ হৃদয়ের অবিশ্বাস্য ২৪২ রানের অপরাজিত ইনিংসই দলকে ৩৮৬ রানে পৌঁছে দিয়েছিল। তাতে প্রথম ইনিংসে ৩০ রানের লিড পেয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু দ্বিতীয় ইনিংসে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটসম্যানদের দাপটে সেই সুবিধা এখন অনেকটাই ম্লান।

জয়ের জন্য বাংলাদেশকে এখন শুধু বড় রান তাড়া করলেই হবে না, তার আগে দ্রুত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বাকি ৮ উইকেট তুলে নিতে হবে। নইলে লক্ষ্য আরো বড় হবে।