
আফগানিস্তান প্রিমিয়ার লিগের (এপিএল) ড্রাফটে যুক্তরাজ্যের নাগরিক হিসেবে নাম নিবন্ধন করেছেন পাকিস্তানের সাবেক পেসার মোহাম্মদ আমির। মঙ্গলবার দুবাইয়ে এই ড্রাফট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
বর্তমানে ইংল্যান্ডে বসবাস করা আমির ব্রিটিশ নাগরিকত্ব পেয়েছেন। ড্রাফটের নিবন্ধিত খেলোয়াড়দের তালিকায় তাকে যুক্তরাজ্যের নাগরিক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে তার বসবাসের দেশ হিসেবে পাকিস্তানের নাম রয়েছে। তাকে রাখা হয়েছে প্লাটিনাম ক্যাটাগরিতে।
আরো পড়ুন—অনাবাসিক পদ্ধতিতে যেভাবে মাত্র ২৬ দিনেই হাফেজ হন ১৪ বছরের কিশোর মুহান্নাদ
যুক্তরাজ্যের নাগরিক হিসেবে নিবন্ধন করায় আসন্ন ভারতীয় প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) নিলামেও বিদেশী খেলোয়াড় হিসেবে অংশ নেয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে আমিরের। আগামী ১৬ ডিসেম্বর গোয়ায় আইপিএলের মিনি নিলাম অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। সেখানে কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজি বাঁহাতি এই পেসারকে দলে নিতে আগ্রহী হতে পারে।
ব্রিটিশ পাসপোর্ট নিয়ে আইপিএলে পাকিস্তানি ক্রিকেটারের খেলার নজির রয়েছে। পাকিস্তানি নাগরিকদের টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণে বিধিনিষেধ থাকা সত্ত্বেও ২০১২ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব ও কলকাতা নাইট রাইডার্সের হয়ে খেলেছিলেন আজহার মাহমুদ।
পাকিস্তানের জাতীয় দলের জার্সিতে আমির ৩৬টি টেস্ট, ৬১টি ওয়ানডে এবং ৬২টি টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন। ২০২৪ সালের জুনে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার লডারহিলে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যাচটিই ছিল জাতীয় দলের হয়ে তার সর্বশেষ ম্যাচ।
যুক্তরাজ্যের নাগরিক হিসেবে নিবন্ধন করায় এপিএলে আমিরের খেলার ক্ষেত্রে সুবিধা তৈরি হতে পারে। পাকিস্তানের সাবেক সতীর্থরা জানিয়েছেন, আমিরের এক্ষেত্রে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) কাছ থেকে অনাপত্তিপত্র (এনওসি) নেয়ার প্রয়োজন নাও হতে পারে।
এদিকে ফখর জামান, সাইম আইয়ুব, হাসান আলী, শান মাসুদ, আবদুল্লাহ শফিক, ফাহিম আশরাফ ও ইমাদ ওয়াসিমসহ ৩০ জনের বেশি পাকিস্তানি ক্রিকেটার এপিএল ড্রাফটে নাম নিবন্ধন করেছেন।
তবে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনার কারণে টুর্নামেন্টে পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পিসিবি তাদের খেলোয়াড়দের এই টুর্নামেন্টে অংশ নেয়ার জন্য অনাপত্তিপত্র না-ও দিতে পারে।
আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (এসিবি) ড্রাফটের তালিকাতেও স্পষ্ট করা হয়েছে, পিসিবির অনাপত্তিপত্র পাওয়ার শর্তে পাকিস্তানি খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণ নির্ভর করছে।
এপিএলে পাঁচটি দল অংশ নেবে। প্রতিটি ফ্র্যাঞ্চাইজি সর্বোচ্চ ১৮ জন খেলোয়াড় নিবন্ধন করতে পারবে। এর মধ্যে ১১ থেকে ১২ জন থাকবেন আফগানিস্তানের এবং ছয় থেকে সাতজন বিদেশী ক্রিকেটার।
খেলোয়াড়দের পাঁচটি ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয়েছে। প্লাটিনাম ক্যাটাগরির খেলোয়াড়েরা পাবেন ১ লাখ মার্কিন ডলার। এ ছাড়া ডায়মন্ড ক্যাটাগরিতে ৬৫ হাজার, গোল্ড ৪০ হাজার, সিলভার ২০ হাজার এবং ইমার্জিং ক্যাটাগরিতে ১০ হাজার মার্কিন ডলার পারিশ্রমিক নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রতিটি ফ্র্যাঞ্চাইজির খেলোয়াড় কেনার জন্য মোট বাজেট থাকবে ৬ লাখ ৫০ হাজার থেকে ৭ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলারের মধ্যে।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








