শ্রীলঙ্কা, ইংল্যান্ড, পাকিস্তান, ত্রিদেশীয় সিরিজ
শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জয়ের পর ইংল্যান্ডের উদযাপন। সংগৃহীত

পাকিস্তানের মাটিতে ইংল্যান্ডের সবশেষ ওয়ানডে জয় এসেছিল ২০০৫ সালের ডিসেম্বরে। এরপর কেটে গেছে প্রায় ২১ বছর। অবশেষে সেই আক্ষেপ ঘুচল থ্রি লায়ন্সদের। শ্রীলঙ্কাকে নাটকীয়ভাবে ৫৫ রানে হারিয়ে তারা।

Advertisement

লাহোরে বৃহস্পতিবার ৩৮৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে জয়ের খুব কাছেই চলে গিয়েছিল শ্রীলঙ্কা। ৪২ ওভার শেষে ৫ উইকেটে ৩১০ রান, দরকার ছিল ৪৬ বলে ৭৭। হাতে তখনো ৫ উইকেট। কিন্তু এরপরই নাটকীয় ধস। 

মাত্র ১৭ বলের মধ্যে ১৬ রান তুলতেই বাকি ৫ উইকেট হারিয়ে ৩৩১ রানে অলআউট শ্রীলঙ্কা। বহুল কাঙ্ক্ষিত জয় দিয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজ শেষ করল ইংল্যান্ড। এর আগে সিরিজের প্রথম তিন ম্যাচের সবগুলোই হেরেছিল থ্রি লায়ন্সরা।

এদিন টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে ইংল্যান্ডকে বড় সংগ্রহ এনে দেন বেন ডাকেট। তার ক্যারিয়ারসেরা ১৬৭ রানের ইনিংসে ৫০ ওভারে ৫ উইকেটে ৩৮৬ রান তোলে ইংলিশরা। গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে ওয়ানডেতে এটিই সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ।

ডাকেট ১৩২ বলে ২৪টি চার মেরে ১৬৭ রান করেন। টম ব্যান্টনের সাথে উদ্বোধনী জুটিতে যোগ করেন ১৬৩ রান। ব্যান্টন করেন ৭৫ বলে ৭৪। এরপর হ্যারি ব্রুকের সাথে ডাকেটের জুটি থেকে আসে আরো ১০৭ রান। ব্রুক ৩৪ বলে করেন ৪৪ রান। 

শেষ দিকে জর্ডান কক্স ২৭ বলে ৪৩, উইল জ্যাকস ২১ বলে ৩০ এবং স্যাম কারান ১২ বলে অপরাজিত ২১ রান করে ইংল্যান্ডকে ৩৮৬ রানে নিয়ে যান।

৩৮৭ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতে কামিন্দু মেন্ডিসকে হারালেও দ্রুত ম্যাচে ফিরে আসে শ্রীলঙ্কা। আভিষ্কা ফার্নান্ডো ও অধিনায়ক কুশল মেন্ডিস মিলে হাল ধরেন দলের, ৮৪ রানের জুটি গড়েন তারা। 

এরপর আভিষ্কা ৫০ বলে ৪৮ রান করে ফিরলেও কুশল ও পবন রত্নায়েকে মিলে যোগ করেন আরো ৮০ রান। কুশল ৭১ বলে ৮৯ রান করে আউট হন। দ্রুত ফেরেন দাসুন শানাকাও (৪)। ২৯.২ ওভারে ১৮৬ রানে ৪ উইকেট হারায় লঙ্কানরা।

এরপর দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন পবন রত্নায়েকে। তার দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে আবারো জয়ের স্বপ্ন দেখতে শুরু করে শ্রীলঙ্কা। ৭৭ বলে ১৫টি চার ও ১ ছক্কায় ১১৮ রান করেন রত্নায়েকে। এটি তার ওয়ানডে ক্যারিয়ারের তৃতীয় সেঞ্চুরি ও চলতি সিরিজে দ্বিতীয়।

মাঝে জানিথ লিয়ানাগে ১৭ বলে ২৭ করে ফিরলেও ৪২ ওভার শেষে ৫ উইকেটে ৩১০ রান তুলে ফেলেছিল শ্রীলঙ্কা। জয়ের জন্য দরকার ছিল ৪৬ বলে ৭৭ রান। হাতে পাঁচ উইকেট থাকায় বেশ ভালোভাবেই ম্যাচে ছিল তারা।

কিন্তু দলীয় ৩১৫ রানে সাহান আরাচ্চিগে ৩০ রান করে ফিরতেই শুরু হয় পতন। এরপর দুনিত ভেল্লালাগে রানআউট হন। পরের ওভারে লিয়াম ডসনের বলে সেঞ্চুরিয়ান রত্নায়েকে ও আশিতা ফার্নান্ডোও ফিরে যান। 

শেষ ধাক্কাটি দেন স্যাম কারান—পরের ওভারের প্রথম বলেই ঈশান মালিঙ্গাকে বোল্ড করে শ্রীলঙ্কার ইনিংস শেষ করে দেন। শেষ পর্যন্ত ৪৫.১ ওভারে ৩৩১ রানে অলআউট হয় শ্রীলঙ্কা। মাত্র ১৬ রানে শেষ ৫ উইকেট হারায় তারা।

লিয়াম ডসন ক্যারিয়ারসেরা বোলিংয়ে ১০ ওভারে ৪৯ রান দিয়ে নেন ৪ উইকেট। সনি বেকার পান ২ উইকেট। 

দারুণ জয় পেলেও ইংল্যান্ডের লাভ তেমন একটা হয়নি। ত্রিদেশীয় সিরিজে টানা তিন ম্যাচ হেরে আগেই ফাইনালের দৌড় থেকে ছিটকে গিয়েছিল ইংল্যান্ড। তাই এই জয় তাদের জন্য সান্ত্বনারই বলা যায়।