
ওয়ানডে ক্রিকেটে ৪৩০ রানের লক্ষ্য! এমন পাহাড়সম রান তাড়া করে জেতা যে কতটা কঠিন, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। কিন্তু সেই অসম্ভবকেই সম্ভব করেছে শ্রীলঙ্কা। উত্তেজনা আর রোমাঞ্চ ছড়িয়ে লঙ্কান সিংহরা গড়েছে নয়া ইতিহাস।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাওয়ালপিন্ডিতে আগে ব্যাট করে ৪ উইকেটে ৪২৯ রান তোলে ইংল্যান্ড। জবাবে ৪৯.৫ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ৪৩০ রান করে শ্রীলঙ্কা। ২ উইকেটের এই জয় ওয়ানডে ক্রিকেটে সর্বোচ্চ রান তাড়ার নতুন রেকর্ড। এই ম্যাচে রেকর্ড হয়েছে আরো অনেকগুলো।
ইতিহাসে এর চেয়ে বড় লক্ষ্য তাড়া করে জয়ের নজির আছে মাত্র একবার। ওয়ানডে ইতিহাসে এর চেয়ে বড় রান তাড়া হয়েছে মাত্র একবার। ২০০৬ সালে চার শ’ রানের প্রথম ওয়ানডেতে অস্ট্রেলিয়ার ৪৩৪ টপকে গিয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা।
আর এই জয়ে নিজেদের ওয়ানডে ইতিহাসে সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জেতার রেকর্ড গড়েছে শ্রীলঙ্কা। এছাড়া দুই দলের সম্মিলিত সংগ্রহ ছিল ৮৫৯ রান, ওয়ানডে ইতিহাসে যা এক ম্যাচে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। ২০০৬ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা ও অস্ট্রেলিয়ার ম্যাচে উঠেছিল ৮৭২ রান।
এদিন ম্যাচে ইংল্যান্ডের ইনিংসের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ ছিলেন অধিনায়ক হ্যারি ব্রুক। মাত্র ১১৪ বলে ডাবল সেঞ্চুরি পূর্ণ করে ওয়ানডে ইতিহাসে দ্রুততম দ্বিশতকের বিশ্ব রেকর্ড গড়েন তিনি। শেষ পর্যন্ত ১১৬ বলে ২০২ রান করেন ব্রুক।
ওয়ানডেতে ইংল্যান্ডের প্রথম ব্যাটার হিসেবে দ্বিশতক করার পাশাপাশি দেশের হয়ে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংসের রেকর্ডও গড়েন তিনি। তার ইনিংসে ছিল ২১টি চার ও ১০টি ছক্কা। তাতেই রেকর্ড রানের সংগ্রহ পায় থ্রি লায়ন্সরা, যা তাদের চতুর্থ সেরা স্কোর।
ব্রুকের সাথে বড় সংগ্রহ গড়তে অবদান রাখেন জো রুট ও উইল জ্যাকস। রুট করেন ৬৬ বলে ৬৯ রান। শেষ দিকে মাত্র ৩০ বলে ৬৬ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন জ্যাকস। চতুর্থ উইকেটে ব্রুক ও জ্যাকসের ৭৭ বলে ১৮৫ রানের জুটিতে চার শ’ পেরিয়ে যায় ইংল্যান্ডের সংগ্রহ।
এমন বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই চাপে পড়ে শ্রীলঙ্কা। অধিনায়ক কুশল মেন্ডিস ফিরেছেন শূন্য রানে। তবে আভিস্কা ফার্নান্দো ও পাভান রথনায়েকে দলের ইনিংস সামলে পাল্টা লড়াইয়ের ভিত গড়ে দেন। আভিস্কা ৮৩ বলে ৯৭ রান করে আউট হন।
অন্যদিকে, ১০৬ বলে ১৩০ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন রথনায়েকে। তার ব্যাটেই জয়ের ভিত পেয়ে যায় শ্রীলঙ্কা। ম্যাচসেরার পুরস্কারও উঠেছে তার হাতে। এছাড়া দাসুন শানাকার ব্যাটে জয়ের আশা আরো জোরালো হয়। মাত্র ৫০ বলে ৯৭ রান করেন তিনি।
সেঞ্চুরি থেকে মাত্র তিন রান দূরে থামলেও শানাকার ঝোড়ো ইনিংস শ্রীলঙ্কাকে লক্ষ্যের খুব কাছে নিয়ে যায়। তবে শেষ দিকে আসল কাজটা করে দেন জানিথ লিয়ানাগে। সব উত্তেজনা সামলে মাত্র ২৭ বলে অপরাজিত ৬১ রানের ইনিংস খেলে তিনিই হয়ে ওঠেন জয়ের নায়ক।
অবশ্য শেষ ওভারে ম্যাচে উত্তেজনা ছড়ায় বেশ। শেষ ওভারে শ্রীলঙ্কার প্রয়োজন ছিল ৮ রান। জশ টাংয়ের দ্বিতীয় ও তৃতীয় বলে পরপর দুই উইকেট তুলে নিয়ে ইংল্যান্ডকে জয়ের স্বপ্ন দেখান এই পেসার। কিন্তু শেষ দুই বলে সমীকরণ দাঁড়ায় ৬ রানে। তখন আর ভুল করেননি লিয়ানগে।
টাংয়ের করা পঞ্চন বলটি সোজা লং অফ দিয়ে সীমানার বাইরে পাঠিয়ে শ্রীলঙ্কার জয় নিশ্চিত করেন লিয়ানাগে। এদিকে এই ম্যাচে স্যাম কারান ওয়ানডেতে ইংল্যান্ডের হয়ে সবচেয়ে বেশি রান খরচ করা বোলারের রেকর্ড গড়েছেন। তিনি ৯ ওভারে ১০৩ রান দিয়ে নিয়েছেন ২ উইকেট।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








