তুরস্ক, কানাডা
আঙ্কারায় প্রেসিডেন্সিয়াল প্রাসাদে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নিকে (বাঁয়ে) স্বাগত জানান তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগান। রয়টার্স

দুই ন্যাটো মিত্র কানাডা ও তুরস্কের মধ্যে ‘কৌশলগত অংশীদারিত্ব’ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমানোর প্রচেষ্টা হিসেবে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি এমন উদ্যোগ নিলেন। 

Advertisement

বৃহস্পতিবার তার প্রথম তুরস্ক সফরের সময় চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়। 

কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি ও তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগানের মধ্যে স্বাক্ষরিত এই চুক্তিটি দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য উষ্ণতা বয়ে এনেছে। এর আগে মানবাধিকার বিষয়ে কানাডার উদ্বেগ এবং অতীতে তুরস্কে অস্ত্র পাঠানোর ওপর কানাডার নিষেধাজ্ঞা আরোপের কারণে দুই দেশের সম্পর্ক দীর্ঘ সময় ধরে শীতল ছিল।

আঙ্কারায় স্বাক্ষরিত নতুন অংশীদারিত্ব চুক্তিটির বিশেষ দিকগুলো হলো- বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা, জ্বালানি এবং সামাজিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদার। এর লক্ষ্য হলো কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা এবং কানাডীয় ও তুর্কি কোম্পানিগুলোর জন্য পারস্পরিক ব্যবসায়িক কার্যক্রম বাড়ানোর সুযোগ তৈরি করা।

মার্ক কার্নি বর্তমানে বিশ্বব্যাপী বাণিজ্য প্রসারের এক বিশেষ উদ্যোগ নিয়ে কাজ করছেন। তিনি আশা করছেন, এটি কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাণিজ্য যুদ্ধের প্রভাব থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করবে। 

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রতিবেশী দেশটির ওপর ব্যাপক শুল্ক আরোপ করেছেন এবং দেশটির সার্বভৌমত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

তুরস্কের প্রেসিডেন্সিয়াল প্রাসাদে এরদোগানের পাশে দাঁড়িয়ে কার্নি জানান, এই কৌশলগত অংশীদারিত্বটি চারটি স্তম্ভের ওপর ভিত্তি করে গঠিত হবে এবং এতে তিন বছর মেয়াদি একটি কর্মপরিকল্পনা অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

‘আমরা নতুন কিছুর বীজ বপন করেছি। একটি কৌশলগত অংশীদারিত্ব, যা আমাদের কর্মী ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে এবং উভয় দেশের জনগণের জন্য আরো বেশি নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধি বয়ে আনবে। যত্ন ও নিষ্ঠার সাথে পরিচর্যা করলে এটি আগামী প্রজন্মের জন্য বিকশিত হতে থাকবে,’ বলেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী কার্নি।

অনুষ্ঠানে কানাডা ও তুরস্কের মন্ত্রীরা জ্বালানি, প্রতিরক্ষা ও বিমান পরিবহন খাতে সহযোগিতামূলক চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

‘দীর্ঘদিনের বিচ্ছিন্নতা’
গুরুত্বপূর্ণ উদীয়মান বাজার অর্থনীতি ও আঞ্চলিক সামরিক শক্তির তুরস্ক তাদের দ্রুত বর্ধনশীল প্রতিরক্ষা শিল্প, নতুন পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও খনি খাতের জন্য নতুন বিনিয়োগ ও সহযোগিতা খুঁজছে।

কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নিকে একজন ‘বিচক্ষণ ও দূরদর্শী’ নেতা হিসেবে উল্লেখ করে ২৩ বছর ধরে তুরস্ককে নেতৃত্ব দেয়া এরদোগান বলেন, ‘আজ আমরা তুরস্ক ও কানাডার মধ্যকার দীর্ঘদিনের বিচ্ছিন্নতা দূর করেছি। এখন আমরা তুরস্ক ও কানাডার সম্পর্কের এক নতুন যুগের সূচনা করছি।’ 

তিনি আরো জানান, উভয় পক্ষই তাদের বাণিজ্য পরিমাণ ৩ বিলিয়ন ডলার থেকে বাড়িয়ে প্রথমে ৫ বিলিয়ন এবং পরবর্তী সময়ে ১০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার প্রত্যাশা করছে। তবে তিনি এর জন্য কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা উল্লেখ করেননি।

দুই দেশের মধ্যে যেসব আমদানি-রফতানি হয়
কানাডা তুরস্কের ওপর আরোপিত অস্ত্র রফতানি নিয়ন্ত্রণ ২০২৪ সালে তুলে নিয়েছে। এর আওতায় রয়েছে ড্রোনে ব্যবহৃত অপটিক্যাল প্রযুক্তি, যা তুরস্ক বিশ্বের বহু দেশে রফতানি করে থাকে। 

অপরদিকে, কানাডা মূলত তুরস্কের কাছে মসুর ডাল, উড়োজাহাজ ও ইলেকট্রনিক পণ্য রফতানি করে এবং তুরস্ক থেকে চিকিৎসা সরঞ্জাম, মাছ ধরার নৌযান, উড়োজাহাজের ইঞ্জিন ও গহনা আমদানি করে।

সূত্র : রয়টার্স