মেহেদী হাসান মিরাজ
মেহেদী হাসান মিরাজ। ফাইল ছবি

সাত বছর পর ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজে ফিরছে বাংলাদেশ। তবে প্রত্যাবর্তনের ম্যাচেই একাদশ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছে দল। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে জ্বরে ভুগছেন দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান মিরাজ।

Advertisement

তিনি খেলতে পারবেন কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। তবে ম্যাচের আগেই মিরাজ সুস্থ হয়ে উঠবেন, এমনটাই আশা অধিনায়ক লিটন দাসের। শুক্রবার সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘জ্বর আছে। আশা করি রিকভার করবে এবং খেলতে পারবে।’

মিরাজ শেষ পর্যন্ত খেলতে না পারলে বিকল্প হিসেবে ভাবা হচ্ছে মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতকে। এই অলরাউন্ডারকে ছয় নম্বরে ভালো বিকল্প মনে করছেন লিটন। মোসাদ্দেকের বিষয়ে তার বক্তব্য, ‘সে তো ভালো অপশন অবশ্যই। সে ৬ নম্বরের ব্যাটার।’

মিরাজের অনুপস্থিতি বাংলাদেশের জন্য বড় ধাক্কা হতে পারে। ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি অফস্পিনে অবদান রাখেন তিনি। ফলে তাকে না পেলে শুধু একজন খেলোয়াড়ের বদল নয়, দলের ব্যাটিং ও বোলিংয়ের ভারসাম্যও নতুন করে বিবেচনা করতে হবে। 

মোসাদ্দেক সেই ঘাটতি কতটা পূরণ করতে পারবেন, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তবে মিরাজের খেলার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করছে তার সর্বশেষ শারীরিক অবস্থার ওপর। মিরাজের জন্য ম্যাচ শুরুর আগ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে পারে দল।

আবুধাবিতে বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৫টায় জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। ২০১৯ সালে আয়ারল্যান্ডে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ফাইনালে হারিয়ে নিজেদের একমাত্র ওয়ানডে ত্রিদেশীয় সিরিজের শিরোপা জিতেছিল দলটি। 

এরপর সাত বছরের বেশি সময় কেটে গেলেও এই প্রতিযোগিতায় আর খেলা হয়নি বাংলাদেশের। দীর্ঘ বিরতির পর ফেরার ম্যাচে তাই ভালো শুরুর প্রত্যাশা থাকবে লিটনের দলের। তবে সাম্প্রতিক ফল বাংলাদেশের জন্য খুব একটা স্বস্তিদায়ক নয়। 

গত জুলাইয়ে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ ২-১ ব্যবধানে হেরেছিল বাংলাদেশ। আর গত বছরের অক্টোবরে সংযুক্ত আরব আমিরাতে আফগানিস্তানের কাছে তিন ম্যাচের সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে ধবলধোলাই হয়েছিল মেহেদী হাসান মিরাজের নেতৃত্বাধীন দল। 

তবে অতীতের ফল নিয়ে অবশ্য হতাশায় ডুবে থাকতে চান না লিটন। দলের সামর্থ্যের ওপর আস্থা রেখে বাংলাদেশ অধিনায়ক মনে করেন, নিজেদের সেরা ক্রিকেট খেলতে পারলে ভালো কিছু সম্ভব। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘এই দল অনেক ভালো সিরিজ খেলেছে। বিশেষ করে ঘরের মাঠে আমাদের খেলার প্যাটার্ন অনেক ভালো ছিল। এই দলে অনেক প্রতিভাবান প্লেয়ার আছে এবং পাশাপাশি যারা সিনিয়র আছি, আমরা যদি আমাদের সেরাটা খেলতে পারি সব কিছু করা সম্ভব।’

ম্যাচের আগে আলোচনায় আছে আবুধাবির উইকেটও। সম্প্রতি এই মাঠেই আফগানিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট খেলেছে বাংলাদেশ। সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগতে পারে বলে মনে করছেন লিটন। তার প্রত্যাশা, উইকেট হবে ব্যাটিং ও বোলিংয়ের জন্য ভারসাম্যপূর্ণ।

উইকেট নিয়ে লিটন বলেন, ‘খুব একটা আলাদা হওয়ার কথা না। দেখার কারণ ছিল, কী ধরনের উইকেট হবে। আমার ধারণা ছিল মাঝের উইকেটে খেলা হবে। আশা করি ভালো উইকেট হবে ও সমান (ব্যাট-বলে ভারসাম্যপূর্ণ) উইকেট হবে।’