অস্ট্রেলিয়া, নারী ক্রিকেট
অনুশীলনে নারী ক্রিকেটাররা। সংগৃহীত

আগামীকাল শুক্রবার অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথমবারের মতো দ্বিপক্ষীয় সিরিজ খেলতে নামছে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ খেলবে টাইগ্রেসরা। এর আগে অস্ট্রেলিয়া মাটিতে কখনো দ্বিপক্ষীয় সিরিজ খেলেনি বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়া বিশ্ব সেরা দল হলেও সিরিজে ভালো ফলাফল করার লক্ষ্য থাকবে নিগার সুলতানার দলের। 

Advertisement

ব্রিজবেনের অ্যালান বোর্ডার ফিল্ডে বাংলাদেশ সময় সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে শুরু হবে সিরিজের প্রথম ওয়ানডে। এবারের সিরিজ আইসিসি নারী চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ। এই চক্রে এখন পর্যন্ত একটি সিরিজ খেলেছে বাংলাদেশ। 

চলতি বছরের এপ্রিলে ঘরের মাঠে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ ২-১ ব্যবধানে হেরেছিল টাইগ্রেসরা। 

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা আছে বাংলাদেশ নারী দলের। তবে সেটি টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে। ২০২০ সালে অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে স্বাগতিকদের কাছে ৮ উইকেটে হেরেছিল বাংলাদেশ। 

দীর্ঘ ছয় বছর আবারো অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে খেলতে নামবে বাংলাদেশ। তাই এখানকার কন্ডিশন-উইকেট বাংলাদেশের জন্য চ্যালেঞ্জিং হবে। তবে সিরিজ শুরুর আগে প্রস্তুতি ম্যাচ এখানকার কন্ডিশনের সাথে মানিয়ে নিতে সুবিধা হয়েছে বলে জানান সরোয়ার ইমরানের জায়গায় সদ্য প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব পাওয়া বারমুডার সাবেক খেলোয়াড় ও কোচ ডেভিড হেম্প। 

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ শুরুর আগে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পাঠানো এক ভিডিও বার্তায় প্রধান কোচ হেম্প বলেন, ‘আমরা একটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার সুযোগ পেয়েছি। সেই সাথে এখানকার উইকেটে অনুশীলনও করেছি। এখানে মানিয়ে নেয়া খেলোয়াড়দের জন্য কিছুটা চ্যালেঞ্জের ছিল। কারণ, খেলোয়াড়রা যে ধরনের কন্ডিশনে খেলে অভ্যস্ত, তার চেয়ে এখানকার উইকেটগুলো একটু বেশি গতি ও বাউন্স ছিল।’

কন্ডিশন ও উইকেট অপরিচিত হলেও ক্রিকেটাররা দ্রুতই মানিয়ে নিয়েছে বলে জানান হেম্প। তিনি বলেন, ‘খেলোয়াড়রা দারুণভাবে এখানকার কন্ডিশনের সাথে মানিয়ে নিয়েছে এবং কন্ডিশনের সাথে মানিয়ে নিতে নিজেদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে তারা। এই কন্ডিশনগুলো আমাদের জন্য নতুন ও ভিন্ন। সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত প্রস্তুতির প্রথম চার-পাঁচ দিন আমাদের ভালো কেটেছে।’

আইসিসি ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি র‌্যাংকিংয়ের এক নম্বর দল অস্ট্রেলিয়া। বিশ্ব সেরা দলের বিপক্ষে ক্রিকেটারদের ইতিবাচক থাকার আহ্বান হেম্পের। তিনি বলেন, ‘আমরা বিশ্ব সেরা দলের বিপক্ষে খেলবো, এটা অস্বীকার করার কোন উপায় নেই। ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি দুই ফরম্যাটেই এক নম্বর দল অস্ট্রেলিয়া। মানসিকভাবে চাঙ্গা থাকাটাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে। দলের কাছ থেকে আমার প্রত্যাশা থাকবে, ম্যাচের মধ্যে মাঠে ইতিবাচক থাকা।’

সিরিজ শেষে দেশে ফিরে নিজেদের পারফরমেন্স নিয়ে খেলোয়াড়রা যেন আফসোস না করে সেদিকে লক্ষ্য রাখতে বললেন হেম্প। তিনি বলেন, ‘আমি চাই না এক সপ্তাহ পর বাংলাদেশে ফিরে খেলোয়াড়রা বলবে- আমরা যদি এভাবে খেলতাম বা ওভাবে খেলতাম। খেলার পরিকল্পনা ও মাঠের নামার মানসিকতা- সব ক্ষেত্রেই ইতিবাচক হতে হবে। আমরা যদি সেটা করতে পারি, তাহলে আমরা সামনে এগোতে পারব।’ 

গত সাড়ে তিন বছর ধরে বাংলাদেশের ক্রিকেটের সাথে জড়িত হেম্প। কখনো হাই পারফরমেন্স (এইচপি) ইউনিটের সাথে, কখনো জাতীয় দলের কোচিং প্যানেলে আবার কখনো নারী দলে ব্যাটিং কোচ হিসেবে কাজ করেছেন তিনি।

তাই নারী দলের ক্রিকেটারদের ভালোভাবেই চিনেন হেম্প। এজন্য টাইগ্রেসদের সাথে কাজ করতে সুবিধা হবে বলে জানান তিনি। ‘এর আগে বিশ্বকাপ বাছাই পর্বে এই দলের সাথে কাজ করেছি। এই দলের সাথে আমার কাজ করার অভিজ্ঞতা আছে। এই দলের ক্রিকেটারদের আমি ভালোভাবেই চিনি। তারা অনেক পরিশ্রম করছে এবং আমরা মাঠে কিভাবে খেলতে চাই- সেটা নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।’

দ্বিপক্ষীয় সিরিজের আগে একমাত্র প্রস্তুতি ম্যাচে কুইন্সল্যান্ড নারী দলের কাছে বৃষ্টি আইনে ৭২ রানে হারে বাংলাদেশ। ওই ম্যাচে বল হাতে হাবিবা ইসলাম ৪টি ও মারুফা আক্তার ২টি উইকেট নেন। ৬৮ রানের ইনিংসে ব্যাটিং অনুশীলন সাড়েন শারমিন আক্তার। এ ছাড়া সোবহানা মোস্তারি ৪৯ ও শারমিন সুলতানা ২৮ রান করেন। 

ওয়ানডেতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে পাঁচবার মুখোমুখি হয়ে সবগুলোতেই হেরেছে বাংলাদেশ। এমনকি টি-টোয়েন্টিতেও ছয়বারের দেখায় কোন জয় পায়নি টাইগ্রেসরা।