বাংলাদেশ ক্রিকেট, মোহাম্মদ আশরাফুল, ব্যাটিং পরিকল্পনা, এশিয়ান গেমস
মোহাম্মদ আশরাফুল, নাজমুল হোসেন শান্ত, মেহেদী হাসান মিরাজ ও লিটন দাস সংগৃহীত

জাপানের উইকেট কেমন হবে, তা নিয়ে নিশ্চিত কোনো ধারণা নেই বাংলাদেশের। তবে প্রতিপক্ষ ও কন্ডিশন অনুযায়ী নিজেদের ব্যাটিং পরিকল্পনা ঠিক করে ফেলেছে দল। উইকেট ভালো হলে ২০০ রানের বেশি করার লক্ষ্য, আর ব্যাটিং সহায়ক না হলে ১৪০ থেকে ১৬০ রান করে ম্যাচ জেতার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা—জানালেন ব্যাটিং কোচ মোহাম্মদ আশরাফুল।

মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে প্রায় ১০ দিন ধরে চলছে জাতীয় দলের অনুশীলন। সামনে দুইটি ভিন্ন অভিযানের প্রস্তুতি হওয়ায় ব্যস্ততা দুই রকম। লিটন দাস ও নাজমুল হোসেন শান্তরা প্রস্তুতি নিচ্ছেন এশিয়ান গেমসের জন্য, আর মুশফিকুর রহিম ও মমিনুল হকরা কাজ করছেন আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টকে সামনে রেখে। দুই দলের ব্যাটসম্যানদের নিয়েই কাজ করছেন আশরাফুল।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) অনুশীলন শেষে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বাংলাদেশের ব্যাটিং কোচ জানান, জাপানের কন্ডিশন সম্পর্কে সরাসরি কোনো অভিজ্ঞতা না থাকলেও মেয়েদের ক্রিকেট দেখে সেখানকার উইকেট সম্পর্কে ধারণা নেয়ার চেষ্টা করেছে দল।

‘জাপানে আমরা মেয়েদের ক্রিকেটটা দেখলাম, সেখানে হাই-স্কোরিং ম্যাচ হচ্ছে। উইকেট সুন্দর, ব্যাটে বল আসছে এবং আউটফিল্ডও ভালো। মেয়েদের মাঠটা একটু ছোট যদিও, ছেলেদেরটা হয়তো একটু বড় হবে। আশা করি, সেখানে ভালো উইকেট হবে এবং সেভাবেই আমাদের ব্যাটসম্যানরা প্রস্তুতি নিচ্ছেন।’

কন্ডিশন অনুযায়ী ব্যাটিংয়ের ধরনও ঠিক করে রেখেছে বাংলাদেশ। আশরাফুল বলেন, ‘ভালো উইকেট হলে কীভাবে আমরা ২০০-এর বেশি করতে পারি ও যদি খারাপ উইকেটও হয়, সেখানে কীভাবে ১৪০ থেকে ১৬০ করে ম্যাচ জেতা যায়, ওইসব পরিকল্পনা করেই আমরা কিছুদিন ধরে অনুশীলন করেছি।’

গতকাল মঙ্গলবার নারী ক্রিকেটের ফাইনালের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে এশিয়ান গেমসের মেয়েদের ইভেন্ট। ছেলেদের ক্রিকেট শুরু হবে আগামীকাল বৃহস্পতিবার। র‍্যাঙ্কিংয়ের ভিত্তিতে সরাসরি কোয়ার্টার ফাইনালে খেলবে বাংলাদেশ। সেখানে সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ হংকং অথবা ওমান।

এশিয়ান গেমসের প্রস্তুতি হিসেবে নিজেদের মধ্যে একটি ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ। দেশ ছাড়ার আগে আরো একটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার কথা রয়েছে। সেটিতেই ক্রিকেটারদের নিজেদের সেরা ছন্দে ফেরার প্রত্যাশা আশরাফুলের।

এশিয়ান গেমস শেষ করে বাংলাদেশের পরবর্তী গন্তব্য সংযুক্ত আরব আমিরাত। সেখানে আফগানিস্তানের বিপক্ষে একটি টেস্টের পর ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজ খেলবে বাংলাদেশ। টেস্টের জন্য ইতোমধ্যে দল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। এশিয়ান গেমসের স্কোয়াডে না থাকা টেস্ট দলের ক্রিকেটাররা এরই মধ্যে লাল বলের অনুশীলন শুরু করেছেন।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের কোন মাঠে টেস্টটি হবে, তা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়নি আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড। তবে প্রতিপক্ষ আফগানিস্তানের সম্ভাব্য স্পিননির্ভর কন্ডিশন মাথায় রেখেই প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ। একাডেমি মাঠে লাল বলের প্রথম দিনের অনুশীলনে স্পিন বোলিং মেশিনও ব্যবহার করতে দেখা গেছে।

আশরাফুল বলেন, ‘আজকে থেকে আমরা টেস্ট দলের স্কিল অনুশীলন শুরু করেছি। আরো পাঁচ দিন করব। সেই জায়গায় সবগুলো অপশনই রাখার চেষ্টা করছি, যেহেতু আফগানিস্তানের সাথে হয়তো তারা স্পিন উইকেটও রাখতে পারে। আমরা সেই ধরনের অনুশীলনগুলোও করছি।’

টেস্টের ধরন অনুযায়ী ব্যাটসম্যান ও বোলারদের দীর্ঘ সময়ের অনুশীলনেও জোর দিচ্ছে বাংলাদেশ। আশরাফুলের ভাষায়, ‘ব্যাটসম্যানরা যেন লম্বা সময় ব্যাটিং করতে পারে ও বোলাররাও যেন লম্বা স্পেল বল করতে পারে, সেই অনুশীলনটা আমরা করেছি। কালকেও হয়তো আমাদের একই পরিকল্পনা থাকবে।’