
ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (আইপিএল) আবারো ম্যাচ ফিক্সিং। এবার এ অভিযোগে অভিযুক্ত ভারতের সাবেক অধিনায়ক মাহেন্দ্র সিং ধোনির দল চেন্নাই সুপার কিংস (সিএসকে)।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টম্বর) একাধিক ভারতীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, গোপন স্টিং অপারেশনে এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ সামনে এসেছে।
জানা গেছে, ম্যাচ ফিক্সিংয়ের অভিযোগ এসেছে রনজি ট্রফির এক সাবেক খেলোয়াড়ের ওপর চালানো গোপন অভিযানের মাধ্যমে। তিনি স্বীকার করেছেন চেন্নাই সুপার কিংস এবং দিল্লি (ডিপিএল) ম্যাচ-ফিক্সিংয়ে জড়িত।
‘তেহেলকা’-র একটি প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, নাগাল্যান্ডের হয়ে ছয়টি প্রথম-শ্রেণির ম্যাচ ও দুটি টি-টোয়েন্টি খেলা সাবেক রনজি ক্রিকেটার রচিত ভাটিয়া এক সাংবাদিককে জানান, তিনি ২০২৫ সালের আইপিএল মৌসুমে পাঁচটি ম্যাচ ‘ফিক্স’ করেছিলেন। ওই সাংবাদিক বুকি (এমন ব্যক্তি যিনি জুয়া বা বাজি ধরেন এবং পরিচালনা করেন) সেজে তার সাথে কথা বলছিলেন।
রচিত ভাটিয়া ম্যাচের অফিসিয়াল ঘোষণার আগেই স্ন্যাপচ্যাটের মাধ্যমে লন্ডনের বুকিদের কাছে সিএসকের ‘প্লেয়িং ইলেভেন’ বা চূড়ান্ত একাদশের তথ্য পৌঁছে দিতেন।
সাধারণত, খেলা শুরুর আগে টসের সময়—অর্থাৎ প্রথম বল করার আধা ঘণ্টা আগে—এই একাদশ বা প্লেয়িং ইলেভেন প্রকাশ করা হয়ে থাকে।
ভাটিয়া দাবি করেন যে, ওই তথ্যের বিনিময়ে তাকে প্রতি ম্যাচে ৬০ লাখ টাকা করে—অর্থাৎ পাঁচটি ম্যাচ মিলিয়ে মোট ৩ কোটি টাকা দেয়া হয়েছিল এবং তথ্যটি সিএসকে দলেরই এক খেলোয়াড়ের কাছ থেকে পাওয়া যেত।
তিনি আরো দাবি করেন যে, ওই তথ্যের ওপর ভিত্তি করে নিজে বাজি ধরে তিনি ব্যক্তিগতভাবেও লাভবান হয়েছিলেন।
ভাটিয়া ছদ্মবেশী সাংবাদিককে জানান, ২০২৬ মৌসুমের জন্য নিলামের মাধ্যমে তার পরিচিত কোনো খেলোয়াড় যদি সিএসকের মূল একাদশে জায়গা করে নেন, তবে তিনি দলের সেই একাদশ সম্পর্কে আগাম তথ্য পাওয়ার ব্যবস্থা করে দিতে পারবেন। এ জন্য তিনি ম্যাচ প্রতি মূল একাদশের তথ্যের বিনিময়ে ৬০ লাখ টাকা এবং স্পট-ফিক্সিংয়ের জন্য ১ কোটি টাকা দাবি করেন; স্পট-ফিক্সিংয়ের ক্ষেত্রে তিনি ৯০ শতাংশ নিশ্চয়তার কথাও উল্লেখ করেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভাটিয়া পরে ওই সাংবাদিককে জানান যে, চোটের কারণে তার পরিচিত ব্যক্তিটি ২০২৬ সালের আইপিএল মৌসুমের জন্য নির্বাচিত হননি, যার ফলে এ বছরের জন্য সিএসকে’কে কেন্দ্র করে করা পরিকল্পনাটি ভেস্তে যায়। এরপর তিনি ডিপিএল’র দিকে মনোযোগ দেন।
তিনি জানান যে, ওই একই ব্যক্তি সেখানেও খেলবেন এবং ম্যাচ-সংক্রান্ত তথ্য ফাঁস করার ক্ষেত্রে তিনি সেখানে আরো বেশি আত্মবিশ্বাসী।
ডিপিএল সংক্রান্ত অভিযোগ ছিল অনেক বেশি গুরুতর; এমনকি ছদ্মবেশী বুকির হয়ে ম্যাচ ফিক্সিংয়ের উপায় হিসেবে ভাটিয়া রান-আউট হওয়া কিংবা তার পরিচিত খেলোয়াড়টির ধীরগতিতে ব্যাটিং করার মতো বিষয়গুলোর প্রস্তাবও দিয়েছিলেন।
প্রতিবেদনে ভাটিয়ার উল্লেখ করা সেই সিএসকে খেলোয়াড়ের নাম প্রকাশ করা হয়নি, তাকে কেবল দিল্লির ২৩ বছর বয়সী এক রনজি ক্রিকেটার হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে, যার সাথে ভাটিয়ার পরিচয় সেই খেলোয়াড়ের ১৮ বছর বয়স থেকেই।








