
‘দোয়া কইরো মা, কাল বিকেলে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযানে যাব’। মায়ের কাছে দোয়া চেয়ে ফোন রেখেছিলেন সেনাসদস্য তিতাস শেখ। কে জানত, ছেলের মুখে শোনা সেই কথাই হবে মায়ের সাথে শেষ কথা! এখন সেই ছেলের ছবি বুকে জড়িয়ে বুকফাটা আহাজারি করছেন মা। কান্নায় ভেঙে পড়েছেন স্ত্রী, বাকরুদ্ধ বাবা।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সকালে নিহত সেনাসদস্য তিতাস শেখের বাড়ি ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার লস্করদিয়া গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, শোকে স্তব্ধ পুরো পরিবার। ছেলের ছবি বুকে নিয়ে বারবার কান্নায় ভেঙে পড়ছেন মা রেখা বেগম। স্বামীকে হারিয়ে আহাজারি করছেন স্ত্রী সুমাইয়া আক্তার। আর সন্তান হারানোর শোকে নির্বাক বাবা আফজাল শেখ।
নিহত সেনাসদস্যের পরিবার সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালে সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়েছিলেন তিতাস। আগামী ডিসেম্বর মাসে স্ত্রীকে নিজের কর্মস্থলে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল তার। কিন্তু সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না। দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে সবার বড় তিতাসের এমন মৃত্যুতে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
নগরকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজওয়ানা আরফিন জানান, সেনাবাহিনীর আনুষ্ঠানিকতা শেষে বিকেল ৪টার মধ্যে তিতাসকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার দেয়া হবে। পরে গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।
দেশের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গিয়ে প্রাণ হারানো তিতাস শেখের মৃত্যুতে শোকাহত পরিবার, স্বজন ও এলাকাবাসী। একদিকে দেশের জন্য জীবন উৎসর্গ করা এক বীর সেনাসদস্যের গর্ব, অন্যদিকে সন্তান, স্বামী ও ভাইকে হারানো গভীর বেদনা। এই দুই অনুভূতিতে স্তব্ধ হয়ে আছে তিতাস শেখের গ্রামের বাড়ি।
এদিকে সেনাসদস্য তিতাস শেখের মৃত্যুতে গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন ফরিদপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম রিঙ্কু।
উল্লেখ্য, ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার লস্করদিয়া গ্রামের তিতাস শেখ (২৮) সেনাবাহিনীর সদস্য হিসেবে কর্মরত ছিলেন টেকনাফের রঙ্গীখালী আর্মি ক্যাম্পে। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিকেলে মানবপাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে যৌথ বাহিনীর অভিযানে পাহাড়ি সন্ত্রাসীদের গুলিতে আহত হন তিনি। পরে রামু সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ৮টা ৪৮ মিনিটে তার মৃত্যু হয়।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








