
সুপারি উৎপাদন ও বাণিজ্য ঘিরে লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে প্রতিবছরই তৈরি হয় বড় অর্থনৈতিক কর্মযজ্ঞ। উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজারে এখন চলছে সুপারির জমজমাট কেনাবেচা। এ বছর ফলন কিছুটা কম হওয়ায় গত বছরের তুলনায় প্রতি পোন সুপারির দাম বেড়েছে ২০ থেকে ৫০ টাকা। বর্তমানে আকার ও মানভেদে প্রতি পোন (৮০টি) সুপারি বিক্রি হচ্ছে ১৬০ থেকে ২২০ টাকায়। উপজেলা কৃষি বিভাগের প্রাক্কলন অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে পাকা, শুকনা ও ভেজানো সুপারি মিলিয়ে প্রায় ৪০০ কোটি টাকার বাণিজ্যের সম্ভাবনা রয়েছে।
উপজেলার মীরগঞ্জ, রাখালিয়া, মোল্লার হাট, বাসাবাড়ি, মিতালি বাজার, বাবুর হাট ও হায়দরগঞ্জ হাটে সুপারির বড় বাজার রয়েছে। এর মধ্যে মীরগঞ্জ ও হায়দরগঞ্জ অন্যতম প্রধান বাজার। মৌসুমে এসব বাজারে কৃষক, পাইকার, মজুতদার ও খুচরা ব্যবসায়ীদের পদচারণে মুখর হয়ে ওঠে।
রায়পুরে উৎপাদিত সুপারি স্থানীয় চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হচ্ছে। পাইকার ও ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে এসব সুপারি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বাজারে পৌঁছে যাচ্ছে। ফলে স্থানীয় চাহিদা পূরণের পাশাপাশি জাতীয় পর্যায়েও সুপারি বাণিজ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে রায়পুর।
স্থানীয় কৃষক ও ব্যবসায়ীরা জানায়, সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসে বাগানের সুপারি পেকে ওঠে। নভেম্বরে পুরোপুরি পেকে যায়। এ সময় কৃষকেরা বাগান থেকে সুপারি সংগ্রহ করে বাজারে বিক্রি করেন। পাইকার ও মজুতদারেরা এসব সুপারি কিনে একাংশ পানিতে ভিজিয়ে রাখেন, অন্য অংশ শুকিয়ে সংরক্ষণ করেন। পরবর্তী সময়ে বাজারের চাহিদা ও দাম অনুযায়ী সেগুলো বিক্রি করা হয়।
উপজেলার বামনী ইউনিয়নের সুপারি পাইকার জামাল হোসেন বলেন, ‘সেপ্টেম্বর-অক্টোবর-নভেম্বর মাসে সুপারি কেনাবেচার মূল মৌসুম। এ সময় ভেজানো সুপারির মজুতদারেরা বিভিন্ন বাজার থেকে দলবদ্ধভাবে সুপারি কেনেন। জানুয়ারি থেকে মার্চ মাসে বাজারে সুপারির দাম বাড়তে থাকে। তখন ভেজানো সুপারির চাহিদা ও বিক্রি বেশি থাকে।’
এ বছর ফলন কম হলেও দাম বাড়ায় কিছুটা স্বস্তিতে রয়েছেন কৃষকরা। তবে উৎপাদন খরচ, শ্রমিকের মজুরি, সুপারি সংগ্রহ ও পরিবহন ব্যয় বাদ দিলে তাদের প্রকৃত লাভের পরিমাণ বাগানভেদে ভিন্ন হচ্ছে।
কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, রায়পুর উপজেলায় প্রায় ১৩ হাজার হেক্টর জমিতে বিভিন্ন ধরনের ফসল আবাদ হয়। তবে আবাদি জমির বাইরে বাড়ির আঙিনা, উঁচু জমি ও বসতভিটাসহ বিভিন্ন স্থানে রয়েছে সুপারির বাগান। এসব বাগান উপজেলার কৃষি অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
শুধু সুপারি নয়, নারিকেল ও ডাব উৎপাদনেও রায়পুরের রয়েছে উল্লেখযোগ্য সম্ভাবনা। এসব কৃষিপণ্য উৎপাদন, সংগ্রহ, পরিবহন ও বাজারজাতকরণকে কেন্দ্র করে স্থানীয়ভাবে বহু মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মাজেদুল ইসলাম বলেন, ‘লক্ষ্মীপুর জেলায় উৎপাদিত সুপারির অর্ধেকের বেশি আসে রায়পুর উপজেলা থেকে। কৃষি বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছর পাকা, শুকনা ও ভেজানো সুপারি মিলিয়ে প্রায় ৪০০ কোটি টাকার সুপারি বিক্রির সম্ভাবনা রয়েছে। এ ছাড়া নারিকেল ও ডাব বিক্রি থেকেও বড়ো অংকের আয়ের সম্ভাবনা রয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘সুপারি, নারিকেল ও ডাবের মতো কৃষিপণ্যের উৎপাদন ও বিপণনব্যবস্থা আরও উন্নত করা গেলে রায়পুরের অর্থনীতিতে এর অবদান বাড়বে। বিশেষ করে আধুনিক সংরক্ষণব্যবস্থা গড়ে তোলা গেলে এ খাতের বাণিজ্যিক সম্ভাবনা আরও বাড়বে।’
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








