
মেহেরপুরে চাঁদাবাজি, অপহরণ ও নির্যাতনের অভিযোগে জেলা ছাত্রদলের সহসভাপতি নাহিদ মাহবুব সানি এবং যুবদলের ৫ নেতাসহ মোট ছয়জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে মেহেরপুর বিজ্ঞ আমলি আদালতে মামলাটি দায়ের করেন মেহেরপুরের চাঁদপুর গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে এবং ‘চাঁদপুর ট্রান্সপোর্ট’-এর মালিক তারিকুল ইসলাম (২৮)।
মামলার নথি অনুযায়ী, এর আগে গত ৩০ অক্টোবর মেহেরপুর জেলা জামায়াতে ইসলামির পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলনে রাজনৈতিক চাঁদাবাজির যে অভিযোগ তোলা হয়েছিল, তার তিন দিনের মাথায় আদালতে এই আইনি পদক্ষেপ নেয়ার ঘটনা ঘটল।
ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানে চাঁদা দাবি ও নির্যাতনের অভিযোগ
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, বাদী তারিকুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে ‘চাঁদপুর ট্রান্সপোর্ট’ নামের একটি সবজি লোডিংয়ের ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। আসামিরা দীর্ঘদিন ধরে তার কাছে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তার ট্রাক আটকে দেয়া হয়। একপর্যায়ে বাধ্য হয়ে তিনি দুই দফায় ৩০ হাজার টাকা দেন। এরপরও বাকি ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা আদায়ের জন্য তাঁকে বিভিন্ন সময় হুমকি দেওয়া হয়।
এজাহারে আরো অভিযোগ করা হয়েছে, গত ২৭ অক্টোবর দুপুর ১২টার দিকে বাদী মেহেরপুর শহরের বিএডিসি অফিসের সামনে গেলে আসামিরা তাকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে একটি চায়ের দোকানের ভেতরের কক্ষে নিয়ে যান। সেখানে বাকি চাঁদার টাকা দাবি করা হয়। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে জিআই পাইপ ও লোহার রড দিয়ে তাঁকে মারধর করা হয়। এ সময় অন্য আসামিরাও কিল-ঘুষি ও লাথি মেরে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
হাসপাতালে চিকিৎসা ও হুমকি
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, প্রায় পাঁচ ঘণ্টা নির্যাতনের পর বাদী জ্ঞান হারিয়ে ফেললে তাকে দোকানের পাশে ফেলে রেখে চলে যান অভিযুক্তরা। পরে এক পথচারী তাকে উদ্ধার করে মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। ২৭ থেকে ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। এ সময় মামলা না করার জন্য হুমকি দেয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন বাদী।
আসামিদের পরিচয় ও মামলার ধারা
মামলায় জেলা ছাত্রদলের সহসভাপতি নাহিদ মাহবুব সানি ছাড়াও অন্য অভিযুক্তরা হলেন যুবদল নেতা মিঠুন আলী, শাকিল, রবি, তারিক ও শফি।
দণ্ডবিধির ৩২৩, ৩২৪, ৩২৫, ৩২৬, ৩৬৭, ৩৬৮, ৩৮৫, ৫০৬(২) ও ১০৯ ধারায় দায়ের করা এই সিআর মামলার নম্বর ১৩০৪/২৬।
তদন্তের নির্দেশ ডিবি পুলিশকে
এদিকে চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলে গত ৩০ অক্টোবর বিকেলে মেহেরপুর জেলা জামায়াতের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলন করার তিন দিন পর আদালতে এ মামলা দায়েরের ঘটনা মেহেরপুরের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
আদালতের বিজ্ঞ বিচারক মামলাটি আমলে নিয়ে মেহেরপুর জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ওসিকে বিষয়টি তদন্ত করে দেখার নির্দেশ দিয়েছেন।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








