
শরীয়তপুরের ডামুড্যায় মাদক সেবনে বাধা ও পারিবারিক কলহের জেরে লামিয়া বৃষ্টি (২১) নামে এক গৃহবধূকে গলা কেটে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে। ঘটনার পর অভিযুক্ত স্বামী রবিউল ছৈয়ালকে আটক করেছে পুলিশ।
সোমবার (২ নভেম্বর) রাত ৮টার দিকে উপজেলার কনেশ্বর ইউনিয়নের কনেশ্বর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় নিহতের বাবা আল আমিন মাদবর রবিউল ছৈয়ালকে আসামি করে ডামুড্যা থানায় একটি হত্যা মামলা করেছেন।
ডামুড্যা থানা ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ছয় বছর আগে উপজেলার কনেশ্বর গ্রামের আলী আজগর ছৈয়ালের ছেলে রবিউল ছৈয়ালের (২৪) সাথে একই এলাকার সুতলকাঠি গ্রামের আল আমিন মাদবরের মেয়ে লামিয়ার সাথে প্রেমের সম্পর্কে বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে রবিউল মাদক সেবন ও ব্যবসার সাথে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ নিহতের স্বজনদের।
এ নিয়ে লামিয়ার সাথে প্রায়ই ঝগড়া হতো। এক সপ্তাহ আগে মাদক সেবন ও বিক্রি বন্ধ না করলে রবিউলকে তালাক দেয়ার কথা জানিয়ে বাবার বাড়ি চলে যান লামিয়া। পরে সোমবার দুই পরিবার ও স্থানীয় সালিশের মাধ্যমে স্বামী-স্ত্রীকে মিলিয়ে দেয়া হয়। সালিশের পর লামিয়ার সাথে ফের কথা কাটাকাটি শুরু হয় রবিউলের। একপর্যায়ে লামিয়াকে পাশের বাড়ির একটি ডোবার কাছে নিয়ে যান রবিউল। সেখানে দু’জনের মধ্যে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে লামিয়ার গলায় ও শরীরে আঘাত করে পালিয়ে যান রবিউল।
পরে লামিয়ার ছোট ভাই ওবায়দুল মাদবর তাকে খুঁজতে গিয়ে ডোবায় পড়ে থাকতে দেখেন। স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাকে উদ্ধার করে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত স্বামী রবিউলকে আটক করে ডামুড্যা থানা পুলিশ।
নিহতের মা শাহিদা আক্তার বলেন, ‘বিয়ের পর থেকে রবিউল মাদক সেবন ও বিক্রির সাথে জড়িত ছিল। এ নিয়ে কথা বললে প্রায়ই আমার মেয়েকে মারধর করতো। গত সপ্তাহে রবিউলকে ডিভোর্স (তালাক) দেয়ার কথা বলে আমার মেয়ে চলে আসে। সোমবার স্থানীয় সালিশের মাধ্যমে দু’জনের ঝগড়া মিমাংসা করে চলে আসার কিছুক্ষণ পরেই শুনি আমার মেয়ের গলা কেটে রবিউল পালিয়ে গেছে। আমি আমার মেয়ের হত্যাকারীর বিচার চাই।’
এ বিষয়ে ডামুড্যা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘আমরা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি, মাদক সেবন ও পারিবারিক কলহের কারণেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। ঘটনার পরপরই মোবাইল ট্র্যাকিং করে আমরা অভিযুক্ত রবিউলকে গ্রেফতার করেছি। নিহতের বাবা রবিউলকে আসামি করে মামলা করেছে। মামলার তদন্তসাপেক্ষে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








