
অদম্য ইচ্ছাশক্তির কাছে বাধা হতে পারেনি বয়স। ৫২ বছর বয়সে এইচএসসি পাস করে সেটাই প্রমাণ করেছেন নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার পশ্চিম ছাতনাই ইউনিয়নের কালীগঞ্জ এলাকার গৃহবধূ শেফালী বেগম।
৫২ বছর বয়সে বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ২০২৬ সালের এইচএসসি (বিজনেস ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড টেকনোলজি) পরীক্ষায় জিপিএ ৪.২১ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন তিনি।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) প্রকাশিত এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলে তার এই সাফল্যের তথ্য জানা যায়।
গৃহবধূ শেফালী ডোমার উপজেলার গোমনাতি টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন। তার মূল জিপিএ ৩.৯৬ ও ঐচ্ছিক বিষয়সহ জিপিএ ৪.২১।
ছোটবেলায় বাবাকে হারিয়ে পারিবারিক সঙ্কটে পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যায় শেফালীর। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে মেধাতালিকায় স্থান পেলেও পরিস্থিতির কারণে এক সময় বই-খাতা ছেড়ে সংসারের দায়িত্ব নিতে হয় তাকে।
দীর্ঘ বিরতির পর ৪৮ বছর বয়সে আবার পড়াশোনা শুরু করেন গৃহবধূ শেফালী। স্বামী-সন্তানদের উৎসাহে চার বছর পর এইচএসসি পাসের মাধ্যমে পূরণ করলেন দীর্ঘদিনের স্বপ্ন।
শেফালীর তিন সন্তানের মধ্যে ছোট ছেলে আব্দুর রাজ শাফি দক্ষিণ কোরিয়ার কিয়াংসাং বিশ্ববিদ্যালয়ে তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ে পড়াশোনা করছেন। মেয়ে মাকছুরা খানম নাসমুন রংপুর সরকারি কলেজে স্নাতকোত্তরে অধ্যয়নরত। বড় ছেলে আব্দুল রাজ্জাক (বিবাহিত) ডিমলায় ব্যবসা করেন।
গৃহবধূ শেফালীর স্বামী মকছেদুল আলম মজনু পেশায় একজন কৃষক। তিনি বলেন, পরিবারের জন্য শেফালী নিজের অনেক স্বপ্ন ত্যাগ করেছে। দীর্ঘদিন পর তার পড়াশোনার স্বপ্ন পূরণ করতে পেরেছে, এটাই তাদের সবচেয়ে বড় আনন্দ।
শেফালী বেগম জানান, ছোটবেলায় বাবাকে হারিয়ে ও সংসারের কারণে তার লেখাপড়া বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের পরীক্ষায় বরাবরই মেধাতালিকায় ছিলেন তিনি। কিন্তু পরিস্থিতির কারণে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারেননি। পরে স্বামী ও সন্তানদের উৎসাহে আবার পড়াশোনা শুরু করেন। ৪.২১ জিপিএ নিয়ে এইচএসসি পাস করতে পেরে জীবনের বড় একটি স্বপ্ন পূরণ হয়েছে বলে মনে করছেন তিনি।
গোমনাতি টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজের অধ্যক্ষ দিলীপ রায় জানান, দীর্ঘ শিকক্ষতা জীবনে এমন সংগ্রামী শিক্ষার্থী খুব কম দেখেছেন তিনি। শেফালী বেগম প্রমাণ করেছেন, শিক্ষা বয়সের কাছে নয়, ইচ্ছাশক্তির কাছে হার মানে। তার সাফল্য অন্যদেরও নতুন করে স্বপ্ন দেখতে অনুপ্রাণিত করবে।
নীলফামারী জেলা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো: হাফিজুর রহমান বলেন, শিক্ষার কোনো নির্দিষ্ট বয়স নেই। শেফালী বেগমের অর্জন অত্যন্ত প্রশংসনীয়। ইচ্ছাশক্তি ও অধ্যবসায় থাকলে যেকোনো বয়সেই শিক্ষার পথে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








