
চুয়াডাঙ্গার জীবননগর টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজে ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে বিপর্যয় ঘটেছে। এ বছর প্রতিষ্ঠানটি থেকে পরীক্ষায় অংশ নেয়া ১৭ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন মাত্র একজন। পাসের হার ৫ দশমিক ৮৮ শতাংশ। অথচ কলেজ শাখায় কর্মরত রয়েছেন ১৫ জন শিক্ষক। এছাড়া প্রতিষ্ঠানটিতে কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন আরো সাতজন।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকাল ১১টার দিকে দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর প্রতিষ্ঠানটির এমন ফলাফলের চিত্র সামনে আসে।
উপজেলা পর্যায়ের ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, জীবননগর উপজেলার চারটি সাধারণ কলেজে এবার সম্মিলিত পাসের হার ৫২ দশমিক ৬৪ শতাংশ। এসব প্রতিষ্ঠানে মোট ৮০৪ জন পরীক্ষার্থী নিবন্ধিত থাকলেও পরীক্ষায় অংশ নেয় ৭৭৭ জন। তাদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৪০৯ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৮ জন।
অন্যদিকে উপজেলার একমাত্র কারিগরি কলেজ জীবননগর টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ১৭ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছেন মাত্র একজন। অকৃতকার্য হয়েছেন ১৬ জন। প্রতিষ্ঠানটি থেকে কেউ জিপিএ-৫ পায়নি। সব মিলিয়ে উপজেলার পাঁচটি প্রতিষ্ঠানে পাস করেছে ৪১০ জন শিক্ষার্থী।
সবচেয়ে বেশি আলোচনা তৈরি হয়েছে পরীক্ষার্থীর তুলনায় শিক্ষকসংখ্যার বিষয়টি নিয়ে। মাত্র ১৭ জন পরীক্ষার্থীর বিপরীতে কলেজ শাখায় ১৫ জন শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন। পাশাপাশি রয়েছেন ২২ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী। এতসংখ্যক শিক্ষক থাকার পরও কেন শিক্ষার্থীদের ফলাফল এতটা হতাশাজনক, তা নিয়ে স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহলে প্রশ্ন উঠেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত পাঠদান না হওয়া, শিক্ষার্থীদের প্রতি শিক্ষকদের উদাসীনতা এবং যথাযথ অ্যাকাডেমিক তদারকির অভাবে শিক্ষার মান ক্রমেই নিম্নমুখী হচ্ছে। তারা প্রতিষ্ঠানের পাঠদান কার্যক্রম, শিক্ষকদের উপস্থিতি, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্লাসে অংশ নেয়া ও সার্বিক শিক্ষা ব্যবস্থাপনা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন।
এক অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সন্তানদের ভালো ফলাফলের আশায় কলেজে ভর্তি করাই। কিন্তু এতো শিক্ষক থাকার পরও যদি শিক্ষার্থীরা পাস করতে না পারে, তাহলে আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ কোথায়? শুধু শিক্ষক নিয়োগ দিলেই হবে না, নিয়মিত ক্লাস নেয়া এবং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার প্রতি নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে।
এ বিষয়ে কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ প্রকৌশলী মো: ইমরুল কাদির বলেন, ‘এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় আমাদের কলেজের ফলাফল প্রত্যাশা অনুযায়ী হয়নি। বিষয়টি আমাদের জন্য হতাশাজনক। শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিত না থাকা, পড়াশোনায় অমনোযোগিতা এবং পরীক্ষার প্রস্তুতির ঘাটতি ফলাফলে প্রভাব ফেলেছে।’
তিনি আরো বলেন, শ্রেণিকক্ষে শিক্ষক সঙ্কটও রয়েছে। উচ্চতর গণিত, ইংরেজি এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ে শিক্ষার্থীরা দুর্বল ছিল। আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সাথে পর্যালোচনা করছি। আগামীতে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করা, দুর্বল শিক্ষার্থীদের বিশেষ পাঠদান ও শিক্ষার মানোন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে। ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ফলাফল না হয়, সে বিষয়ে আমরা সচেষ্ট থাকব।’
তবে শিক্ষকসংখ্যার তুলনায় শিক্ষার্থীদের এমন ফলাফলের পেছনে প্রকৃত কারণ কী, তা নির্ধারণে প্রতিষ্ঠানের পাঠদান কার্যক্রম ও অ্যাকাডেমিক ব্যবস্থাপনা পর্যালোচনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








