
কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে গভীর নলকূপ স্থাপনের সময় ভূগর্ভ থেকে বেরিয়ে আসা গ্যাসে সৃষ্ট আগুন চার দিন ধরে জ্বলছে। গ্যাসের উৎস, প্রকৃতি ও মজুতের পরিমাণ এখনো নিশ্চিত না হলেও প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে গ্যাসের সাথে তেলজাতীয় পদার্থ থাকার সম্ভাবনাও বিবেচনা করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের পর পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়ার পরিকল্পনা করেছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি (বাপেক্স) ও পেট্রোবাংলা। গ্যাসের প্রবাহ অব্যাহত থাকলে বিকল্প কূপ বা রিলিফ ওয়েল খননের বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।
ইনানীর এই ঘটনা বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে নতুন গ্যাসসম্পদের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনার সুযোগ সৃষ্টি করেছে। এর কাছাকাছি মিয়ানমারের রাখাইন উপকূলে শ্বে, শ্বে ফিউ ও মায়া গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কৃত হয়েছে। আবার ২০২৬ সালের জুনে মিয়ানমারের সরকারি তথ্যে আয়েয়াওয়াদি ও তানিনথারি সমুদ্রাঞ্চলে আরো বড় গ্যাসসম্পদের সম্ভাবনার কথা জানানো হয়েছে। এসব গ্যাসক্ষেত্রের মজুদ এবং ইনানীর ভূগর্ভস্থ গ্যাসের মধ্যে সরাসরি সম্পর্ক থাকতে পারে, যদিও এখনো সেটি কারিগরিভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইনানীতে গ্যাস নির্গমনের ঘটনাকে সম্ভাব্য অনুসন্ধানের সূত্র হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে। কিন্তু এটিকে নতুন গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার কিংবা বাণিজ্যিকভাবে উত্তোলনযোগ্য মজুদের প্রমাণ বলতে নমুনা পরীক্ষা, ভূতাত্ত্বিক জরিপ ও অনুসন্ধানী কূপের মাধ্যমে আরো তথ্য সংগ্রহ করতে হবে।
চার দিন ধরে জ্বলছে আগুন, ২০০ মিটারে নিষেধাজ্ঞা
গত ২৭ অক্টোবর সকাল ৭টার দিকে উখিয়ার জালিয়াপালং ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডে ইনানী ছোটখাল সেতুসংলগ্ন একটি বাড়িতে গভীর নলকূপ স্থাপনের কাজ চলছিল। প্রায় এক হাজার ফুট গভীরে খননকাজের সময় গ্যাস বেরিয়ে আসে। পরে সেই গ্যাসে আগুন ধরে যায়। ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত আগুন নেভানো সম্ভব হয়নি।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন বাপেক্স ও পেট্রোবাংলার উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা। তারা গ্যাস নির্গমনের ধরন, অগ্নিশিখার বৈশিষ্ট্য এবং আশপাশের ভূতাত্ত্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। প্রাথমিকভাবে গ্যাসের উৎস অগভীর কোনো ভূগর্ভস্থ স্তরে হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে উৎসের গভীরতা, বিস্তৃতি ও মজুদ সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
জননিরাপত্তার স্বার্থে ২৯ অক্টোবর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের জরুরি সভার পর ঘটনাস্থলের ২০০ মিটারের মধ্যে সাধারণ মানুষের প্রবেশ ও অবস্থানে নিষেধাজ্ঞা জারি করে উপজেলা প্রশাসন। ধূমপান, আগুন জ্বালানো, দিয়াশলাই বা লাইটার ব্যবহারসহ স্ফুলিঙ্গ সৃষ্টি করতে পারে এমন কর্মকাণ্ডও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
কিন্তু আগুন দেখতে প্রতিদিনই মানুষের ভিড় জমছে। এতে নিরাপত্তাব্যবস্থা কার্যকর রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে। গ্যাসের নির্গমন অব্যাহত থাকায় সম্ভাব্য বিস্ফোরণ, নতুন স্থানে আগুন ছড়িয়ে পড়া এবং আশপাশের বসতবাড়ি ও অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।
গ্যাসের সাথে তেলের উপস্থিতি কী?
পেট্রোবাংলার পরিচালক (অপারেশন অ্যান্ড মাইনস) প্রকৌশলী মোহাম্মদ শোয়েব জানিয়েছেন, প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে গ্যাসটি থার্মোজেনিক অথবা বায়োজেনিক উৎসের হতে পারে। অগ্নিশিখার রং ও বৈশিষ্ট্য দেখে গ্যাসের সাথে তেল বা কনডেনসেট থাকার সম্ভাবনাও বিবেচনা করা হচ্ছে।
থার্মোজেনিক গ্যাস সাধারণত ভূগর্ভের গভীর স্তরে তাপ ও চাপের প্রভাবে জৈব পদার্থ থেকে তৈরি হয়। অন্য দিকে বায়োজেনিক গ্যাস অপেক্ষাকৃত অগভীর স্তরে অণুজীবের কার্যক্রমের মাধ্যমে সৃষ্টি হতে পারে। এই দুই ধরনের গ্যাসের উৎপত্তি, ভূতাত্ত্বিক পরিবেশ ও সম্ভাব্য মজুদের বৈশিষ্ট্য আলাদা।
তবে ইনানীর গ্যাস কোন ধরনের, তা শুধু আগুনের রঙ দেখে নিশ্চিত করা যাবে না। এর জন্য গ্যাসের রাসায়নিক গঠন ও আইসোটোপ বিশ্লেষণসহ প্রয়োজনীয় পরীক্ষা দরকার। একইভাবে, গ্যাসের সাথে তেলজাতীয় পদার্থ থাকার সম্ভাবনা দেখা দিলেও সেখানে বাণিজ্যিকভাবে উত্তোলনযোগ্য তেলের মজুদ রয়েছে- এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।
বাপেক্সের ভূতত্ত্ব বিভাগের মহাব্যবস্থাপক শামসিয়া মুকতাদির বলেছেন, এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রতিষ্ঠানটির অভিজ্ঞতা ও কারিগরি সক্ষমতা রয়েছে। তবে যেকোনো পদক্ষেপ নেয়ার ক্ষেত্রে নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।
কেন ১৫ দিন পর্যবেক্ষণ?
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, আপাতত গ্যাসের নির্গমনপথ জোর করে বন্ধ করা বা আগুন নিভিয়ে ফেলার চেষ্টা না করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। আশঙ্কা রয়েছে, গ্যাসের প্রবাহ হঠাৎ বন্ধ করে দিলে ভূগর্ভে চাপ তৈরি হতে পারে এবং অন্য কোনো দুর্বল স্তর দিয়ে গ্যাস বেরিয়ে নতুন বিপজ্জনক পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে।
আগামী ১৫ দিন গ্যাসের প্রবাহ, অগ্নিশিখার উচ্চতা এবং আশপাশের স্তর থেকে নতুন করে গ্যাস নির্গত হচ্ছে কি না, তা পর্যবেক্ষণ করা হবে। গ্যাসের প্রবাহ কমে গেলে বা স্বাভাবিকভাবে বন্ধ হয়ে গেলে পরিস্থিতি অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে। আর প্রবাহ অব্যাহত থাকলে বিকল্প কূপ খননের পরিকল্পনা বিবেচনা করা হতে পারে।
রিলিফ ওয়েল পদ্ধতিতে মূল নির্গমনস্থলের কাছাকাছি আরেকটি কূপ খনন করে ভূগর্ভস্থ গ্যাসের প্রবাহ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হয়। প্রয়োজনে সাইড-ট্র্যাকিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে নির্দিষ্ট ভূগর্ভস্থ স্তরে পৌঁছানোর পরিকল্পনাও নেয়া যেতে পারে। তবে ইনানীতে ঠিক কোন পদ্ধতি প্রয়োগ করা হবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
মিয়ানমারের রাখাইন উপকূলে বড় গ্যাসসম্পদ
ইনানীর সম্ভাবনা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে আঞ্চলিক ভূতত্ত্ব গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলের কাছাকাছি মিয়ানমারের রাখাইন উপকূলসংলগ্ন সমুদ্রাঞ্চলে শ্বে, শ্বে ফিউ ও মায়া গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কৃত হয়েছে। এসব ক্ষেত্রের অনুসন্ধান শুরু হয় ২০০৪-২০০৬ সালের মধ্যে। ত্রিমাত্রিক ভূকম্পন জরিপ ও অনুসন্ধানী কূপের তথ্যের ভিত্তিতে ক্ষেত্রগুলো মূল্যায়ন করা হয়। ২০১৩ সালে শ্বে প্রকল্প থেকে বাণিজ্যিক গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়।
জ্বালানি খাতের গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও শিল্পবিষয়ক প্রকাশনায় এসব ক্ষেত্রের সম্মিলিত উত্তোলনযোগ্য মজুদ ছয় ট্রিলিয়ন ঘনফুটের বেশি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। গ্যাসের একটি বড় অংশ পাইপলাইনের মাধ্যমে চীনে সরবরাহ করা হয়। অর্থাৎ বাংলাদেশের কাছাকাছি সমুদ্রাঞ্চলে বড় গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার ও বাণিজ্যিক উৎপাদনের বাস্তব নজির রয়েছে।
এ অঞ্চলে গ্যাসের উপস্থিতি বাংলাদেশের সংলগ্ন উপকূল ও সমুদ্রাঞ্চলের ভূতাত্ত্বিক সম্ভাবনা যাচাইয়ের গুরুত্ব বাড়ায়। তবে রাখাইনে গ্যাস পাওয়া গেছে বলে ইনানী বা বাংলাদেশের উপকূলের নিচে একই ধরনের কিংবা সমপরিমাণ মজুদ রয়েছে- এমন সিদ্ধান্ত নেয়া যাবে না। গ্যাসক্ষেত্রের অবস্থান নির্ভর করে স্থানীয় উৎসশিলা, শিলাস্তরের গঠন, গ্যাস চলাচলের পথ এবং তা আটকে রাখার ভূতাত্ত্বিক কাঠামোর ওপর।
মিয়ানমারের নতুন গভীর সমুদ্র প্রকল্পে ১০৯ ট্রিলিয়ন ঘনফুটের দাবি
মিয়ানমারের সরকারি সংবাদমাধ্যম ২০২৬ সালের ১৫ জুন আয়েয়াওয়াদি ও তানিনথারি সমুদ্রাঞ্চলে নতুন গ্যাসসম্পদের তথ্য প্রকাশ করে। সরকারি হিসাবে, আয়েয়াওয়াদি গভীর সমুদ্র প্রকল্পে সর্বোচ্চ ১৪ ট্রিলিয়ন ঘনফুট প্রমাণিত গ্যাস মজুত থাকার কথা বলা হয়েছে। সেখানে বাণিজ্যিক উৎপাদনের প্রস্তুতি চলছে বলে জানানো হয়েছে।
অন্য দিকে তানিনথারি সমুদ্রাঞ্চলে প্রায় ৯৫ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের সম্ভাব্য মজুদের কথা বলা হয়েছে। এই হিসাব পি৯০ সম্ভাব্যতার স্তরে উপস্থাপিত হয়েছে এবং মজুদের পরিমাণ আরো নির্ভুলভাবে নির্ধারণের জন্য অতিরিক্ত অনুসন্ধানী কূপ খননের প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করা হয়েছে।
দু’টি প্রকল্পের ঘোষিত হিসাব যোগ করলে দাঁড়ায় ১০৯ ট্রিলিয়ন ঘনফুট। তবে এই সংখ্যাকে ১০৯ ট্রিলিয়ন ঘনফুট নিশ্চিত, প্রমাণিত ও বাণিজ্যিকভাবে উত্তোলনযোগ্য গ্যাস হিসেবে উপস্থাপন করা ঠিক হবে না। আয়েয়াওয়াদির ঘোষিত প্রমাণিত মজুদ এবং তানিনথারির পি৯০ পর্যায়ের অনুমানের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। স্বাধীন কারিগরি মূল্যায়ন, কূপের তথ্য ও বাণিজ্যিক উত্তোলনযোগ্যতার যাচাইও গুরুত্বপূর্ণ।
এই পার্থক্যটি বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ গ্যাসের সম্ভাব্য ভূতাত্ত্বিক পরিমাণ, প্রমাণিত মজুদ এবং বাস্তবে উত্তোলনযোগ্য মজুদ এক বিষয় নয়। অনুসন্ধানের প্রাথমিক পর্যায়ে বড় সংখ্যা সামনে এলেও তা থেকে তাৎক্ষণিক উৎপাদন কিংবা অর্থনৈতিক লাভের নিশ্চয়তা পাওয়া যায় না।
বাংলাদেশের জন্য কী শিক্ষা?
মিয়ানমারের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের জন্য অন্তত তিনটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা সামনে আনে।প্রথমত. উপকূল ও সমুদ্রাঞ্চলে গ্যাস অনুসন্ধানে ধারাবাহিক ভূতাত্ত্বিক জরিপ, আধুনিক ত্রিমাত্রিক সিসমিক প্রযুক্তি ও অনুসন্ধানী কূপ খননের বিকল্প নেই। ইনানীর ঘটনাস্থলে বাপেক্সের পরিকল্পিত থ্রিডি সিসমিক জরিপ এই দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তবে জরিপের ফল বিশ্লেষণ করেই নির্ধারণ করতে হবে সেখানে নতুন অনুসন্ধানী কূপ প্রয়োজন কিনা।
দ্বিতীয়ত. বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য নিজস্ব গ্যাসসম্পদ আবিষ্কার ও উৎপাদন বাড়ানো গুরুত্বপূর্ণ। দেশে বাণিজ্যিকভাবে নতুন গ্যাসক্ষেত্র পাওয়া গেলে বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্পকারখানা ও সার উৎপাদনে সরবরাহ বাড়ানোর সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। একই সাথে আমদানিনির্ভর তরলিকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের ওপর চাপ কমানোর সম্ভাবনাও সৃষ্টি হবে। তবে সম্ভাব্য মজুদকে উৎপাদনে রূপান্তর করতে সময়, বিনিয়োগ, অবকাঠামো ও কারিগরি সক্ষমতা প্রয়োজন।
তৃতীয়ত. আঞ্চলিক জ্বালানি ভূরাজনীতিতে বাংলাদেশের নিজস্ব অনুসন্ধান সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি। মিয়ানমার ইতোমধ্যে চীন ও থাইল্যান্ডে গ্যাস সরবরাহের অবকাঠামো গড়ে তুলেছে। বাংলাদেশকে তার নিজস্ব সমুদ্রসম্পদ অনুসন্ধানের অগ্রগতি, বিদেশী বিনিয়োগের শর্ত, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং জাতীয় স্বার্থের মধ্যে ভারসাম্য রাখতে হবে।
ইনানী কি দেশের ৩১তম গ্যাসক্ষেত্র হতে পারে?
প্রাথমিক পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে ইনানীতে গ্যাসক্ষেত্র থাকার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। কিন্তু সেখানে দেশের ৩১তম গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কৃত হয়েছে- এমন ঘোষণা দেয়ার আগে প্রথমে নির্ধারণ করতে হবে গ্যাসের প্রকৃত উৎস, ভূগর্ভস্থ স্তরের বিস্তৃতি, চাপ, গ্যাসের গুণগত মান এবং উত্তোলনযোগ্য মজুদের পরিমাণ।
বাপেক্সের থ্রিডি সিসমিক জরিপ এবং প্রয়োজনীয় অনুসন্ধানী কূপের তথ্য পাওয়া গেলে ইনানীর ভূতাত্ত্বিক সম্ভাবনা সম্পর্কে আরো নির্ভরযোগ্য সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হবে। গ্যাসের সাথে তেলজাতীয় পদার্থ থাকার ইঙ্গিত সত্য প্রমাণিত হলেও তা বাণিজ্যিক তেলক্ষেত্রের নিশ্চয়তা দেয় না, তবে সম্ভাবনার ইঙ্গিত দেয়।
এ মুহূর্তে সবচেয়ে জরুরি হলো আগুনের ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ, আশপাশের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে গ্যাসের উৎস নির্ধারণ। একই সাথে ঘটনাটিকে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদি অনুসন্ধান পরিকল্পনা পর্যালোচনার সুযোগ হিসেবে দেখা যেতে পারে।
ইনানীর আগুন তাই একই সাথে সতর্কবার্তা ও অনুসন্ধানের নতুন সূত্র। তবে জাতীয় জ্বালানি সম্পদের নতুন অধ্যায় শুরু হবে তখনই, যখন ভূতাত্ত্বিক সম্ভাবনা পরীক্ষিত মজুদ ও নিরাপদ, অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক উৎপাদনে রূপ নেবে।
বাপেক্সের অবসরপ্রাপ্ত ড্রিলিং সুপারিনটেনডেন্ট ও প্রজেক্ট ডিরেক্টর আতাউর রহমান নয়া দিগন্তকে বলেন, ইনানীতে যে গ্যাসে আগুন লেগে গেছে প্রাথমিকভাবে এটা পকেট গ্যাস বলেই ধারণা করা হচ্ছে। এ ধরনের গ্যাস সাধারণত ৩০০ ফুট গভীরতায় জমা হয়ে থাকে। সেখানে আরো গভীরে হয়তো কোনো গ্যাসের স্তর থেকে গ্যাস এসে ফাঁদে জমা পড়েছে। আদৌ উত্তোলনযোগ্য গ্যাসের স্ট্রাকচার সেখানে আছে কি না সেজন্যে সিসমিক সার্ভে করে নিশ্চিত হতে হবে, ফিজিবিলিটি স্টাডিরও প্রয়োজন রয়েছে। তবে ইনানিতে এত কম গভীরে গ্যাসের উপস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে তা উত্তোলনযোগ্য নয়।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








