
সাফল্যের ধারাবাহিকতায় এবারো এইচএসসির ফলাফলে দেশসেরা হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে নরসিংদীর আবদুল কাদির মোল্লা সিটি কলেজ। মোট এক হাজার ৫৫২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে এক হাজার ৫৫১ জন পাসের পাশাপাশি জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫৬১ জন। একজন অসুস্থতার জন্য অংশ নিতে না পারায় পাশের হার দাড়িয়েছে ৯৯ দশমিক ৯৪ শতাংশ।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) প্রকাশিত ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফলে উচ্ছ্বসিত কলেজের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকরা।
সারাদেশের নামি-দামী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে পেছনে ফেলে বরাবরের মতোই চমক দেখানো ফলাফল করেছে নরসিংদীর আব্দুল কাদির মোল্লা সিটি কলেজ। তবে পাসের হার কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে থাকলেও জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সংখ্যা।
কলেজের প্রশাসনিক বিভাগ সূত্রে জানা যায়, আবদুল কাদির মোল্লা সিটি কলেজ ২০১২ সাল থেকে টানা তিন বছর ঢাকা বোর্ডে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে। গত ২০১৫ সাল থেকে বোর্ড কর্তৃক সেরাদের তালিকা না হলেও নিজেদের ধারাবাহিকতা অক্ষুণ্ন রেখেছে।
এ বছর উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় মোট এক হাজার ৫৫২ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। একজন শিক্ষার্থী পরীক্ষা চলাকালে অসুস্থ হয়ে পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারায় একজন অকৃতকার্য হয়েছে। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫৬১ জন।
এর মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এক হাজার ৫৮ জন অংশ নিয়ে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩৯৪ জন। ব্যবসায় শিক্ষা শাখা থেকে ১৮০ জন অংশ নিয়ে শতভাগ পাসসহ জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬৯ জন এবং মানবিক শাখা থেকে ৩১১ জন অংশ নিয়ে শতভাগ পাসসহ জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯৮জন।
শিক্ষার্থীরা জানায়, শিক্ষক, অভিভাবকরা যে পরিমাণ অক্লান্ত পরিশ্রম করে সার্বক্ষণিক মনিটরিংয়ে রেখেছেন তাতে ভালো ফলাফল না করে উপায় নেই। সাফল্যের ধারাবাহিকতায় এ বছরও আমাদের কলেজ দেশসেরা হয়েছে, সেজন্য আমরা নিজেরাও খুশি।
কলেজের অধ্যক্ষ হেরেম উল্লাহ আহসান বলেন, আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি। আমাদের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান আবদুল কাদির মোল্লার সরাসরি নির্দেশনায় নিয়মিত ক্লাস, বিশেষ ক্লাস, হোম ভিজিট, টিউটেরিয়াল, মাসিক পরীক্ষা, গাইড টিচারের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক তত্ত্বাবধানসহ শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি আমরাও কঠোর পরিশ্রম করেছি।
তিনি আরো বলেন, একজন শিক্ষার্থী পরীক্ষা চলাকালে অসুস্থ হয়ে পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারায় একজন অকৃতকার্য হয়েছে। যার কারণে শতভাগ পাস থেকে বঞ্চিত হয়েছি।
কলেজের প্রতিষ্ঠাতা ও গভর্নিং বডির সভাপতি আবদুল কাদির মোল্লা বলেন, প্রথমেই আল্লাহ তায়ালার কাছে শুকরিয়া আদায় করছি। এটি নরসিংদীবাসীর অর্জন। সাফল্যের ধারাবাহিকতায় সকল অংশিজনদের শুভেচ্ছা ও কৃতজ্ঞতা।
উল্লেখ্য, প্রতিষ্ঠানটি ২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠার পর ২০০৮ সালে প্রথম ফলাফলে পাসের হার ৯৯ শতাংশ, ২০০৯ সালে শতভাগ পাসসহ ঢাকা বোর্ডে পঞ্চম ও সমগ্র বাংলাদেশে ষষ্ঠ স্থান অর্জন করে। এরপর ২০১০ সালে শতভাগ পাসসহ ঢাকা বোর্ডে চতুর্থ স্থান, ২০১১ সালে ঢাকা বোর্ডে সপ্তম, ২০১২, ২০১৩ ও ২০১৪ সালে ঢাকা বোর্ড তথা সমগ্র বাংলাদেশে শতভাগ পাসসহ দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে।
পরে শিক্ষাবোর্ড থেকে সেরাদের তালিকা প্রকাশ বন্ধ হলেও সকল ক্যাটাগরিতে ২০১৫, ২০১৬, ২০১৭, ২০১৮, ২০১৯, ২০২০, ২০২১, ২০২২, ২০২৩, ২০২৪ ও ২০২৫ সালেও দেশসেরা ফলাফলের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রেখেছে।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








