মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, দিনাজপুর
মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, দিনাজপুর। সংগৃহীত

দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ও জিপিএ-৫ পাওয়ার দিক দিয়ে এবারো শীর্ষে রয়েছে রংপুর মহানগর ও জেলার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। অন্যদিকে সব থেকে নিচে রয়েছে গাইবান্ধা জেলা। এছাড়া সামগ্রিক ফলাফলে এবারো সব সূচকে এগিয়ে আছে ছাত্রীরা।
 
দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বোর্ডে এবার পাস করেছে ৪৫ দশমিক ৯৮ শতাংশ অর্থাৎ ৫১ হাজার ৩৯৮ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে ছাত্র পাসের হার ৪১ দশমিক ৩১ শতাংশ ও ছাত্রী পাসের হার ৫০ দশমিক ২৬ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে দুই হাজার ৯৫৩ জন। এর মধ্যে এক হাজার ৫৭০ জন ছাত্রী ও এক হাজার ৩৮৩ জন ছাত্র জিপিএ-৫ পেয়েছে।

Advertisement

এবার বোর্ডে বিজ্ঞান বিভাগে মোট পরীক্ষার্থী ছিল ২৬ হাজার ৩০৪ জন। এর মধ্যে পাস করেছে ১৭ হাজার ৫৬৩ জন এবং পাসের হার ৬৬ দশমিক ৭৭ শতাংশ। মানবিক বিভাগে মোট পরীক্ষার্থী ছিল ৭৮ হাজার ৩৪৮ জন। পাস করেছে ৩১ হাজার ২৮৬ জন এবং পাসের হার ৩৯ দশমিক ৯৩ শতাংশ। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে মোট পরীক্ষার্থী ছিল সাত হাজার ১৩৫ জন। পাস করেছে দুই হাজার ৫৪৯ জন, পাসের হার ৩৫ দশমিক ৭৩ শতাংশ।

বোর্ডে এবার পাসের হার ৪৫ দশমিক ৯৮ শতাংশ। যেখানে ২০২৫ সালে পাসের হার ছিল ৫৭ দশমিক ৪৯ শতাংশ, ২০২৪ সালে ৭৭ দশমিক ৫৬ শতাংশ, ২০২৩ সালে ৭৪ দশমিক ৪৮ শতাংশ, ২০২২ সালে ৭৯ দশমিক ০৮ শতাংশ, ২০২১ সালে ৯২ দশমিক ৪৩ শতাংশ এবং ২০২০ সালে শতভাগ পাস করেছিল।

বোর্ডে এবার ৪৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে কেউ পাস করতে পারেনি। বিপরীতে ছয়টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শতভাগ শিক্ষার্থী পাস করেছে।

এবারো রংপুর মহানগরীর কলেজগুলোতে ভালো ফলাফল হয়েছে। এর মধ্যে রংপুর ক্যান্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ৯৫৬ জন পরীক্ষা দিয়ে পাস করেছে ৯৪৯ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩১০ জন।

রংপুর সরকারি কলেজ থেকে এক হাজার ২৭১ জন পরীক্ষা দিয়ে পাস করেছে এক হাজার ২০৭ জন। জিএপি-৫ পেয়েছে ৪২৮ জন। রংপুর পুলিশ লাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ৭১৮ জন পরীক্ষা দিয়ে পাস করেছে ৬৯৩ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১২২ জন।

কারমাইকেল কলেজ থেকে এক হাজার ৩৬ জন পরীক্ষা দিয়ে পাস করেছে ৮৮২ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১১৬ জন। সৈয়দপুর বিজ্ঞান কলেজ থেকে ৩২৮ জন পরীক্ষা দিয়ে পাস করেছে ৩২৬ জন। এর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ২৫৭ জন। 

রংপুর ক্যাডেট কলেজে থেকে ৪৭ জন পরীক্ষা দিয়ে ৪৭ জন জিপিএ-৫ পেয়ে পাস করেছে। বেগম রোকেয়া সরকারি কলেজ থেকে ৯৯৬ জন পরীক্ষা দিয়ে পাস করেছে ৭৬১ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪৭ জন।

রংপুর সরকারি সিটি কলেজ থেকে ৭৭১ জন পরীক্ষা দিয়ে পাস করেছে ৫৩৮ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ২৯ জন। কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ৪৮৮ জন পরীক্ষা দিয়ে ৪৪৫ জন পাস করেছে। জিপিএ-৫ পেয়েছে ২৫ জন। 

এবারের ফলাফলে পাসের হারে রংপুর জেলা শীর্ষে রয়েছে। জেলায় পাসের হার ৫৬ দশমিক ১২ শতাংশ। বিভাগের মধ্যে গাইবান্ধা জেলায় পাসের হার সর্বনিম্ন। 

রংপুর জেলায় মোট পরীক্ষার্থী ছিল ২৩ হাজার ৭৫২ জন। এর মধ্যে পাস করেছে ১৩ হাজার ৩৩০ জন, জিপিএ-৫ পেয়েছে এক হাজার ২৭৬ জন।

নীলফামারীতে মোট পরীক্ষার্থী ছিল ১৩ হাজার ৫৭৯ জন, পাস করেছে ছয় হাজার ৭৭৯ জন। এর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫৬১ জন, পাসের হার ৪৯ দশমিক ৯২ শতাংশ।

লালমনিরহাট জেলায় মোট পরীক্ষার্থী সাত হাজার ৪৫৫ জন, পাস করেছে তিন হাজার ৪৮২ জন। এর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১০২ জন, পাসের হার ৪৬ দশমিক ৭১ শতাংশ। 

ঠাকুরগাঁও জেলায় মোট পরীক্ষার্থী নয় হাজার ৮৫৭ জন, পাস করেছে চার হাজার ৪৩৯ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৭৮ জন, পাসের হার ৪৫ দশতিক ০৩ শতাংশ।  

দিনাজপুর জেলায় মোট পরীক্ষার্থী ২২ হাজার ৯১০ জন, পাস করেছে ১০ হাজার ৪০ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪৭৬ জন, পাসের হার ৪৩ দশমিক ৮২ শতাংশ। 

কুড়িগ্রাম জেলায় মোট পরীক্ষার্থী ১১ হাজার ৭২২ জন, পাস করেছে চার হাজার ৭৭৩ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৩৬ জন, পাসের হার ৪০ দশমিক ৭২ শতাংশ। 

পঞ্চগড় জেলায় মোট পরীক্ষার্থী ছয় হাজার ৯৭৩ জন, পাস করেছে দুই হাজার ৫২৬ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫১ জন, পাসের হার ৩৬ দশমিক ২৩ শতাংশ।  

গাইবান্ধা জেলায় মোট পরীক্ষার্থী ছিল ১৫ হাজার ৫৩৯ জন, পাস করেছে ছয় হাজার ২৯ জন, জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৭৩। এই জেলায় পাসের হার ৩৮ দশমিক ৮০ শতাংশ।

রংপুর পুলিশ লাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজের উপাধ্যক্ষ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘বোর্ডের ফলাফল যেখানে ৪৫ শতাংশ, সেখানে আমাদের পাসের হার ৯৬ দশমিক ৫২ শতাংশ। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এই ফলাফল। এজন্য আল্লাহ তায়ালার কাছে শুকরিয়া আদায় করছি। আমাদের টার্গেট, যত কঠিন পরীক্ষাই হোক না কেন, যেন শতভাগ পাস ও শতভাগ জিপিএ নিশ্চিত করতে পারি।’