শ্যালিকা, বিয়ে, কর্মস্থলে অবাঞ্ছিত, শ্বশুর, স্ত্রী, তালাক
যুবককে চুনকালি মাখিয়ে এবং গলায় জুতার মালা পরিয়ে এলাকাছাড়া করা হয়েছে। নয়া দিগন্ত

নওগাঁর বদলগাছীতে শরিয়া পরিপন্থীভাবে প্রথম স্ত্রী বেঁচে থাকার পরেও আপন শ্যালিকাকে বিয়ে করার ঘটনায় মাসুদ রানা নামে এক যুবককে মুখে চুনকালি মাখিয়ে এবং গলায় জুতার মালা পরিয়ে এলাকাছাড়া করার ঘটনা ঘটেছে। পরে তাকে কর্মস্থল থেকে অবাঞ্ছিত করা হয়।

Advertisement

সোমবার (২৬ অক্টোবর) নওগাঁর মহাদেবপুরের মাতাজি হাট এলাকার নারায়নপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, আইনজীবীর সহকারী (মহুরি) মাসুদ তার আপন শ্যালিকা পূর্ণিমার (২১) সাথে অবৈধ প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। পরে পূর্ণিমা অন্তঃসত্ত্বা হলে তড়িঘড়ি করে তারা বিয়ে করেন। এতে মাসুদের প্রথম স্ত্রী মৌসুমীর সম্মতি ছিল। তিনি স্থানীয় বিএনপি নেতা বলে কেউ কেউ দাবি করেছেন।

বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। এরপর ফেসবুক লাইভে এসে সমালোচনাকারীদের উদ্দেশ্যে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করেন মাসুদ। দুই বোনকে একসাথে বিয়ে করার ধর্মীয় নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি জানেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। 

এরপরই নওগাঁ জজ কোর্টের আইনজীবী শাহীন কাদির ডলার তাকে মহুরির কাজ থেকে অব্যাহতি দিয়ে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় তাদের বদলগাছী ছাড়তে তিন ঘণ্টা সময় দেন স্থানীয়রা। পরে ভাড়া বাসার আসবাবপত্রসহ স্ত্রী ও শ্যালিকাকে নিয়ে মহাদেবপুরের মাতাজি হাট এলাকার নারায়নপুর গ্রামে শ্বশুর বাড়িতে যান মাসুদ। তবে সেখানেও স্থানীয়দের ক্ষোভের মুখে পড়েন তিনি। একপর্যায়ে তাকে অবরুদ্ধ করে এবং মুখে কালি ও গলায় জুতার মালা পরিয়ে এলাকা থেকে তাড়িয়ে দেয়া হয়।

এদিকে এ ঘটনার সাথে জড়িত কাজী ও বিয়ে পড়ানো মৌলবীকেও আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানায় এলাকাবাসী। স্থানীয় মৌলবী আবদুল কুদ্দুস জানান, ইসলাম ধর্মের শরীয়তে একই সাথে আপন দুই বোনকে বিয়ে করার কোনো বিধান নেই। এটা সম্পূর্ণভাবেই হারাাম সম্পর্ক। বড় বোনকে তালাক দিতে হবে। না হয় এ বিয়ে ভেঙ্গে দিতে হবে।

পরে রাইগাঁ পুলিশ ফাঁড়ির সহযোগিতায় মাসুদকে উদ্ধার করা হয় এবং স্ত্রী ও শ্যালিকাকে শ্বশুর বাড়িতে রেখে তিনি চলে যায়। পরে ওই রাতে ১১টার দিকে বদলগাছীতে আবারো যান মাসুদ। এক সচেতন নাগরিক তাকে বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন করেন। পরে ভিডিও বার্তায় নিজের কাজের জন্য ক্ষমা চান তিনি। ভুল স্বীকার করে এক স্ত্রীকে তালাক দেয়ার ঘোষণা দেন ও ভবিষ্যতে ওই এলাকায় আর না যাওয়ার কথা জানান।

তবে তালাক দেয়ার ঘোষণা বাস্তবায়িত হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে জানতে মাসুদ রানার মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।