সাংবাদিক, হত্যাকারী
সাংবাদিক আলিফ ফকির ও অভিযুক্ত সাজিবুল ইসলাম ওরফে অপূর্ব। সংগৃহীত

চাঞ্চল্যকর সাংবাদিক আলিফ ফকির হত্যা মামলার গ্রেফতার হওয়া আসামি সাজিবুল ইসলাম ওরফে অপূর্বকে (২৮) আরো অধিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ফের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন সংশ্লিষ্ট আদালত। 

Advertisement

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুরে এক দিনের রিমান্ড শেষে দুর্গাপুর চৌকি আদালতে অপূর্বকে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করা হলে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নূরুল আমিন ভূইয়া চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।   

সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান ফকির আলিফ ছিলেন সেনাবাহিনীর একজন সাবেক সদস্য। বেসরকারি আইপি টিভি রূপসী বাংলার নেত্রকোনা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এছাড়া ডিটেকটিভ আর্টিকেল নামে একটি ফেসবুক পেজ পরিচালনা করতেন। এই পেজের মাধ্যমে তিনি সীমান্তের কালোবাজারী, চোরাচালান মাফিয়া চক্রের নানান অপরাধ নিয়ে লেখালেখি ও ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ করেন। যে কারণে তিনি মাফিয়া চক্রের চক্ষুশূলে পরিণত হন। 

আলিফের গ্রামের বাড়ি সীমান্তের কলমাকান্দা উপজেলার পোগলা ইউনিয়নের শুনই গামে। তিনি ওই গ্রামের মহব্বত আলী ফকিরের ছেলে। বৈবাহিক কারণে তিনি বিরিশিরি তেলুঞ্জিয়া এলাকার শ্বশুরবাড়িতে স্ত্রী ও শিশুসন্তান নিয়ে বসবাস করতেন। 

আলিফকে হত্যার জন্য ওই চক্রটি গত দুই মাস আগে দুর্গাপুর বালুঘাটে সশস্ত্র হামলা চালায়। কিন্তু ঘটনাস্থলে লোকজন এসে পড়ায় তখনকার মতো তিনি প্রাণে বেঁচে যান। 

গত বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে বিরিশিরিতে শ্বশুরবাড়ি সংলগ্ন তেলুঞ্জিয়া বাজারের একটি মুদির দোকানে বসা ছিলেন আলিফ। এমন সময় মোটরসাইকেলে আসা দুই দুর্বৃত্ত পিস্তল দিয়ে পর পর পাঁচ রাউন্ড গুলি ছুঁড়ে পালিয়ে যায়। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। 

পরদিন আলিফের স্ত্রী আনন্দিতা বাদি হয়ে আটজনকে আসামি করে দুর্গাপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাত ১২টার দিকে দুর্গাপুর পৌর এলাকার মধ্যবাজার থেকে আটক করা হয় ঘাতক অপূর্বকে। তিনি পৌর এলাকার উকিল পাড়ার শমশের আলীর ছেলে। 

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ৯ জানুয়ারি দুর্গাপুরে ছুটিতে আসা এসআই শাফিকুল ইসলামকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ রয়েছে অপূর্বের বিরুদ্ধে। 

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আসাদুল ইসলাম জানান, আলিফ হত্যা মামলার আসামি অপূর্বের এক দিনের রিমান্ড শেষে মঙ্গলবার দুপুরে সংশ্লিষ্ট আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদনের প্রেক্ষিতে চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়। 

তিনি জানান, হত্যকাণ্ডের সময় অন্যদের সাথে ঘটনাস্থলে অপূর্ব উপস্থিত ছিলেন। অস্ত্র রাখার ব্যাগটি অপূর্বের কাছেই গচ্ছিত ছিল। 

দুর্গাপুর থানার ওসি খন্দকার শাকের আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘জিজ্ঞাসাবাদে অপূর্ব গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন, কিন্তু তদন্তের স্বার্থে এই মুহূর্তে প্রকাশ করা যাচ্ছে না। আশা করছি আরো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানা যাবে।’