সংবাদ সম্মেলন
১১ দলের সংবাদ সম্মেলন। নয়া দিগন্ত

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ বলেছেন, ‘গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচারসহ সাত দফা দাবি আদায়ে সরকারকে বাধ্য করতে ধারাবাহিক কর্মসূচী ঘোষণা করেছে ১১-দলীয় জোট। সংসদে দাবি আদায়ের চেষ্টা করা হবে জানিয়ে জোটের নেতারা বলেছেন, প্রয়োজনে রাজপথে আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। জনগণকে সাথে নিয়ে গণ-আন্দোলনের মাধ্যমে দাবি আদায় করা হবে।’ 

Advertisement

শনিবার (১৭ অক্টোবর) দুপুরে কুষ্টিয়া জেলা জামায়াত কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি। 

মতিউর রহমান আকন্দ বলেন, ‘গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন একই দিনে আয়োজন করায় সংবিধান সংস্কারের যে সুযোগ তৈরি হয়েছিল, তা নষ্ট হয়েছে। তাদের দাবি ছিল, আগে গণভোটের মাধ্যমে জনগণের মতামত নিতে হবে, এরপর সংস্কারের ভিত্তিতে নির্বাচন আয়োজন করতে হবে। কিন্তু সরকার সেই প্রস্তাবে সাড়া দেয়নি।’

তিনি বলেন, ‘সংসদে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছিল। বিরোধী দলের নেতারাও বিষয়টির সমাধানে প্রায় দুই ঘণ্টা আলোচনা করেন। তবে কোনো নীতিগত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। রাষ্ট্রপতির আদেশের ভিত্তিতে গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন একই দিনে অনুষ্ঠিত হওয়ায় একটিকে মেনে নিয়ে অন্যটিকে অস্বীকার করার সুযোগ নেই। কিন্তু এ প্রক্রিয়ায় সংবিধান সংস্কারের মূল লক্ষ্য উপেক্ষিত হয়েছে বলে তারা মনে করেন।’

তিনি আরো বলেন, ‘জনগণের দাবি আদায়ে সংসদের ভেতরে লড়াই করা হবে। সেখানে দাবি আদায় সম্ভব না হলে প্রয়োজনে সংসদ থেকে বেরিয়ে সরকার পতনের আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণহত্যার সাথে জড়িতদের বিচারের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।’

দেশের জ্বালানি ও কৃষি খাতের সঙ্কট তুলে ধরে জামায়াতের এই নেতা বলেন, ‘বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সারের সংকট মানুষের দুর্ভোগ বাড়াচ্ছে। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে কৃষি ও অর্থনীতিতে। এসব সংকট নিরসনে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। জনগণের ন্যায্য দাবি আদায়ে তারা ধারাবাহিক কর্মসূচী পালন করবেন।’
 
সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য মোবারক হোসেন বলেন, ‘নির্বাচনের সময় জনগণের কাছে দেয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা সরকারের দায়িত্ব। সাত দফা দাবি শুধু ১১-দলীয় জোটের নয়, বরং জাতির কাছে দেয়া প্রতিশ্রুতির অংশ। তাই জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।’

কুষ্টিয়ার জনসভা প্রসঙ্গে মোবারক হোসেন বলেন, ‘জেলা স্কুল মাঠে ১১-দলীয় জোটের ঐতিহাসিক জনসভা অনুষ্ঠিত হবে। এতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বক্তব্য দেবেন। জনসভাকে জনসমুদ্রে পরিণত করতে ইতোমধ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে।’ 

তিনি জানান, দাবিগুলো আদায়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে জনসভা ও মহাসমাবেশের কর্মসূচী পালন করা হবে। আগামী ৩১ অক্টোবর সকালে বায়তুল মোকাররম মসজিদ থেকে লংমার্চ শুরু হবে। পরে মুন্সিগঞ্জে পদ্মা সেতুর আগে নাওডোবায় একটি জনসভা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর বাগেরহাট, খুলনার পাওয়ার হাউজ মোড়, ফুলতলা, যশোরের মুরলী মোড় ও ঝিনাইদহ হয়ে চুয়াডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড অতিক্রম করে কুষ্টিয়া জেলা স্কুল প্রাঙ্গণে কর্মসূচী শেষ হবে।

কর্মসূচী সফল করতে তিনি নেতাকর্মীসহ সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা কামনা করেন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ একেএম খন্দকার আলী মুহসিন, কুষ্টিয়া-২ আসনের এমপি আব্দুল গফুর, কুষ্টিয়া- ৪আসনের এমপি আফজাল হোসেন জেলা সেক্রেটারি এনামুলহকসহ নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।