
নকল সার, বীজ ও কীটনাশক বিক্রি বন্ধ এবং সিলগালা করা ভুট্টাবীজের সুষ্ঠু তদন্তের দাবিতে লালমনিরহাটের পাটগ্রামে মানববন্ধন করেছেন কৃষকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বেলা ১১টায় পাটগ্রাম পৌর শহরের ব্যস্ততম চৌরাস্তা মোড়ে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
উপজেলার সর্বস্তরের কৃষকের আহ্বানে আয়োজিত মানববন্ধনে স্থানীয় কৃষক, রাজনৈতিক দলের নেতা, ব্যবসায়ী, সাংবাদিক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও বিভিন্ন পেশার মানুষ অংশ নেয়। কর্মসূচি থেকে বিজেতা কোম্পানির গোডাউনে সিলগালা করা ভুট্টাবীজের সঠিক তদন্ত, বাজারে নকল ও নিম্নমানের সার-বীজ-কীটনাশক বিক্রি বন্ধ এবং এসব অনিয়মের সাথে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানানো হয়।
মানববন্ধনে দহগ্রামের কৃষক জহির উদ্দিন বলেন, “বীজ ডুপ্লিকেট করা মানে একজন কৃষককে হত্যা করার শামিল। এদের মাফ করা যায় না। যারা মাফ করে, তারা লোভী। এদের কারণে শত শত কৃষকের জমি নষ্ট হবে, পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হবে—তা কৃষকরা মেনে নেবেন না।”
আরেক কৃষক অভিযোগ করেন, কিছু ব্যবসায়ী নিম্নমানের খোলা বীজ কিনে প্যাকেটজাত করে কৃষকদের কাছে বিক্রি করছেন। এসব বীজ বেশি দামে কিনেও অনেক সময় চারা গজায় না। এতে কৃষকেরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন। সার ও বীজের বাজারে অনিয়ম, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, এসবের ভুক্তভোগী হচ্ছেন সাধারণ কৃষকেরা।
পাটগ্রাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি অধ্যাপক ইফতেখার আহমেদের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামী লালমনিরহাট জেলা শাখার সাবেক আমির অধ্যাপক আতাউর রহমান, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ওয়ালিউর রহমান সোহেল, পৌর বিএনপির সভাপতি মোস্তফা সালাউজ্জামান ওপেল, জামায়াত নেতা মাসুদ আলম, ব্যবসায়ী নেতা আলীনুর রহমান লাইজু, প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম সবুজ, বিসমিল্লাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আব্দুল আকবার বিন আফসার, এনসিপি নেতা আনজুম রাজা প্রমুখ।
বক্তব্যে বিএনপি নেতা মোস্তফা সালাউজ্জামান ওপেল বলেন, কয়েক দিন আগে গোডাউনে সিলগালা করা আড়াই থেকে তিন কোটি টাকার ভুট্টাবীজের ব্যবসার সাথে জড়িত ব্যক্তিদের খুঁজে বের করতে হবে। তারা কোন রাজনৈতিক দলের সাথে যুক্ত, তা বিবেচনায় না নিয়ে বীজের ব্যবসার উৎস ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিচয় তদন্ত করা প্রয়োজন।
জামায়াত নেতা অধ্যাপক আতাউর রহমান বলেন, পরীক্ষাগারে পাঠানো ভুট্টাবীজের নমুনা আসল না নকল, তা জনগণকে জানাতে হবে। কৃষকেরা ১ হাজার ৩০০ টাকার সার ২ হাজার টাকায় কিনছেন, আর বীজ কিনতে হচ্ছে দ্বিগুণ দামে। এ অবস্থা চলতে পারে না।
তিনি আরো বলেন, গত বছর ভুট্টা আবাদ করে উৎপাদিত ফসল বিক্রির অর্থ দিয়ে অনেক কৃষক তাদের চাষাবাদের খরচও তুলতে পারেননি। এর মধ্যে সার-বীজের বাড়তি দাম ও নিম্নমানের বীজের কারণে কৃষকদের লোকসানের ঝুঁকি আরো বাড়ছে।
মানববন্ধন থেকে সিলগালা করা ভুট্টাবীজের বিষয়ে তদন্তের ফল জনসমক্ষে প্রকাশ, দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বাজারে মানসম্মত কৃষি উপকরণ সরবরাহ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








