জব্দকৃত পাথর ও ট্রাক
জব্দকৃত পাথর ও ট্রাক। নয়া দিগন্ত

নদী ও পরিবেশ ধ্বংস করে তিস্তা থেকে অবৈধভাবে পাথর ও বালু উত্তোলনের বিষয়ে দৈনিক নয়া দিগন্তে ধারাবাহিকভাবে একাধিক অনুসন্ধানী সংবাদ প্রকাশের পর অবশেষে নড়েচড়ে বসেছে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলা প্রশাসন। তিস্তায় পরিবেশ ও নদীখেকো চক্রের তাণ্ডব বন্ধে উপজেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে মাঠে নেমেছে যৌথ টাস্কফোর্স।

Advertisement

বুধবার (১৪ অক্টোবর) সন্ধ্যায় ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো: ইমরানুজ্জামানের নেতৃত্বে সাঁড়াশি অভিযান পরিচালিত হয়।

অভিযানকালে শুটিবাড়ী বাজার সংলগ্ন এলাকায় স্তূপ করে রাখা পাঁচটি অবৈধ পাথর সাইট ও পাঁচটি পাথর ভাঙার ক্রাশার মেশিন জব্দ করা হয়। একইসাথে ঘটনাস্থল থেকে পাথরবোঝাই একটি ট্রাক জব্দ করে টাস্কফোর্স।

জানা গেছে, জব্দকৃত পাথরের পরিমাণ আনুমানিক ৩০ হাজার ঘনফুট (সিএফটি)। স্থানীয় বাজারে প্রতি ঘনফুট পাথর ১২০ থেকে ১২৫ টাকা দরে বিক্রি হয়। সেই হিসেবে জব্দকৃত এসব পাথরের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৩৬ থেকে ৩৭ লাখ টাকা।

অভিযানে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), পুলিশ ও আনসার বাহিনীর সদস্যরা সার্বিক সহযোগিতা করেন।

স্থানীয়দের তথ্য ও পূর্বের অনুসন্ধানে দেখা যায়, দীর্ঘদিন ধরে তিস্তা নদীর বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে ড্রেজার ও অবৈধ পন্থায় পাথর ও বালু উত্তোলন করে একটি প্রভাবশালী চক্র শুটিবাড়ীসহ আশপাশের এলাকায় মজুদ করছিল। পরে তা ক্রাশার মেশিনে প্রক্রিয়াজাত করে দেশের বিভিন্ন স্থানে চড়া দামে সরবরাহ করা হতো।

অভিযান শেষে ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো: ইমরানুজ্জামান নয়া দিগন্তকে বলেন, ‘অবৈধভাবে পাথর উত্তোলনের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসন জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। পরিবেশ ও তিস্তা নদীকে ধ্বংস করে যারা আইনের ব্যত্যয় ঘটাবে, তাদের কাউকেই ছাড় দেয়া হবে না। তারা যত প্রভাবশালীই হোক না কেন, কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘আগামীকাল লোক পাঠিয়ে পাথরের সঠিক পরিমাপ নির্ধারণ করা হবে এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে তা প্রকাশ্যে নিলামের ব্যবস্থা করা হবে।’

ডিমলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘টাস্কফোর্সের অভিযানে পাথরবোঝাই একটি ট্রাক থানা হেফাজতে রয়েছে। সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা প্রক্রিয়াধীন।’