
শোষণ, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, দখলদারত্ব ও দুঃশাসনের হাত থেকে মুক্তি পেতে আগামী ২৯ অক্টোবর ঠাকুরগাঁও-১ (ঠাকুরগাঁও সদর, রুহিয়া ও ভুল্লি) আসনে অনুষ্ঠিতব্য উপনির্বাচনে ভোটারদের দাঁড়িপাল্লায় ভোট দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ১১ দল মনোনীত প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন।
রোববার (১১ অক্টোবর) দুপুরে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার চিলারং ইউনিয়নের আরাজী পাহাড়ভাঙ্গা এলাকায় নির্বাচনী উঠান বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
দেলাওয়ার হোসেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি, ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি।
তিনি বলেন, সন্ত্রাস ও মাদক কারবারিদের নেতৃত্বে সমাজে শান্তি ও শৃঙ্খলা আসবে না। যারা সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজদের লালন-পালন করে এবং মাদক ও অস্ত্রের রাজনীতি করে, তাদের নেতৃত্বে জনগণ বারবার শোষিত ও নির্যাতিত হয়েছে। শোষণ থেকে মুক্তি পেতে ন্যায় ও ইনসাফের প্রতীক দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিয়ে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও মাদকমুক্ত ঠাকুরগাঁও গড়তে তিনি স্থানীয়দের সহযোগিতা, সমর্থন ও দোয়া কামনা করেন।
১১ দলের প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন বলেন, ‘সরকারি দলের প্রার্থী বা তার পক্ষে যারা ভোট চাইতে আসবে, তাদের কাছে তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও সারের সঙ্কটের জবাব নেবেন আগে। যারা নির্বাচিত হওয়ার পর বিদ্যুৎ, গ্যাস ও সারের সঙ্কট তৈরি করে মূল্য বৃদ্ধি করে জনগণের ভোগান্তি সৃষ্টি করেছে, তাদেরকে জনগণের কাছে কৈফিয়ত দিতে হবে। গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে তারা জনগণের জন্য কী কাজ করেছে—তা তাদের জিজ্ঞেস করবেন।’
নির্বাচনের পর সরকারি দল দুর্নীতি, অনিয়ম, চাঁদাবাজি ও দলীয়করণ ছাড়া কিছুই করতে পারেনি দাবি করে দেলাওয়ার হোসেন আরো বলেন, ‘আগামীতে ঠাকুরগাঁও-১ আসনে তারা নির্বাচিত হলে জনগণ তাদের দ্বারা আরো বেশি শোষিত ও নির্যাতিত হবে। তাদের দুর্নীতি, অনিয়ম, চাঁদাবাজি ও দলীয়করণ অনেক গুণ বেড়ে যাবে।’
এমপি নির্বাচিত হলে দল-মত, ধর্ম-বর্ণ ও জাতিগোষ্ঠী নির্বিশেষে সমাজের প্রতিটি মানুষ সমানভাবে সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাবে—এমন প্রতিশ্রুতি দিয়ে দেলাওয়ার হোসেন বলেন, ‘জনগণ তাদের খেদমতের জন্য নির্বাচিত করে সংসদে পাঠালে সরকারি বরাদ্দের একটি পয়সাও তছরুপ করতে দেয়া হবে না এবং কোনো বরাদ্দে দলীয়করণ করা হবে না। সর্বপ্রথম সুশাসন ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা হবে।’
জনগণ যাদের নির্বাচিত করেছে, তাদের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়েছে। তাদের আত্মীয়স্বজন ও দলীয় নেতাকর্মীরা ধনী হয়েছেন, আর জনগণ ক্রমেই গরিব হয়েছে। এই বৈষম্যের বিরুদ্ধে জামায়াতে ইসলামী বরাবরই আপসহীন ভূমিকা রেখে আসছে। জামায়াতে ইসলামী দল-মত, ধর্ম-বর্ণ ও জাতিগোষ্ঠী নির্বিশেষে বৈষম্যহীন মানবিক সমাজ গড়তে চায়। ঠাকুরগাঁও-১ আসনের জনগণ তাকে নির্বাচিত করলে ঠাকুরগাঁও থেকেই শুরু হবে বৈষম্যহীন বাংলাদেশ বিনির্মাণের যাত্রা।
নির্বাচনী সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহসভাপতি ও মুখপাত্র ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান বলেন, ‘আমার বাড়ি পঞ্চগড়, আপনাদের ঠাকুরগাঁও। এই এলাকার মানুষজন অত্যন্ত সচেতন ও শান্তিপ্রিয়। আগামীতে শান্তিতে থাকতে হলে, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, মাদক কারবার, লুটপাট, দুর্নীতি, দখলদারত্ব ও দলীয়করণের প্রতিবাদে আগামী ২৯ অক্টোবর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দিতে হবে। আপনারা ভাগ্যবান যে, দেলাওয়ার হোসেন ভাইয়ের মতো একজন যোগ্য নেতা আপনারা পেয়েছেন। তাকে এমপি নির্বাচিত করলে, তিনি সবসময় আপনাদের পাশে থেকে আপনাদের জন্য কাজ করবেন।’
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ওলামা বিভাগের ঠাকুরগাঁও জেলা সভাপতি মাওলানা ফজলে রাব্বি মোর্তজাবীর সভাপতিত্বে এবং চিলারং ইউনিয়নের সভাপতি মোজাম্মেল হকের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত নির্বাচনী সভায় আরো বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের ঠাকুরগাঁও শহর শাখার সভাপতি মাহমুদুল হাসানসহ অন্যান্য নেতারা।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








