বক্তব্য রাখছেন সিলেট সিটি প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী
বক্তব্য রাখছেন সিলেট সিটি প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী। নয়া দিগন্ত

ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির সুবিধা যাতে প্রকৃত উপযুক্ত পরিবারগুলোর কাছে পৌঁছায়, তা নিশ্চিত করতে তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে নির্ভুলতা, নিরপেক্ষতা ও দায়িত্বশীলতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী।

Advertisement

তিনি বলেছেন, ‘রাজনৈতিক পরিচয় কিংবা দল-মত বিবেচনা না করে যোগ্য পরিবারগুলোকে চিহ্নিত করতে হবে। তথ্য সংগ্রহ ও যাচাইয়ে ভুলভ্রান্তি সর্বনিম্ন পর্যায়ে নামিয়ে আনতে হবে, যাতে সরকারি অর্থে পরিচালিত এ কর্মসূচির সুফল প্রকৃত উপযুক্ত ব্যক্তিদের কাছে পৌঁছায়।’

রোববার (১১ অক্টোবর) দুপুরে সিলেট নগরীর শেখঘাটে সমাজসেবা কমপ্লেক্সে ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নের লক্ষ্যে মাঠপর্যায়ের তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজারদের প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। শহর সমাজসেবা কার্যালয় এই প্রশিক্ষণের আয়োজন করে।

সিসিক প্রশাসক বলেন, ‘ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে দেয়া প্রতিশ্রুতির অংশ। নির্বাচনের আগে বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করা হয়েছিল। জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে সরকার গঠনের পর সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। দেশের বিভিন্ন জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে ইতোমধ্যে এ কর্মসূচির কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সিলেটে কিছুটা দেরিতে কার্যক্রম শুরু হলেও তা সুষ্ঠু ও সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে।’

তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘উপযুক্ত ব্যক্তি ও পরিবারকে চিহ্নিত করে তাদের কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেয়াই এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য। এজন্য মাঠপর্যায়ে দায়িত্বপ্রাপ্তদের সম্পূর্ণ নিরপেক্ষতা ও নিষ্ঠার সাথে কাজ করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ফ্যামিলি কার্ড বিতরণে তথ্যের নির্ভুলতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। তাই তথ্য সংগ্রহ, যাচাই-বাছাই ও তালিকা প্রণয়নের প্রতিটি ধাপে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘এই কর্মসূচি বাস্তবায়নে সরকার উল্লেখযোগ্য অর্থ ব্যয় করছে। প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে নির্বাচিত হয়ে তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজাররা এই দায়িত্ব পেয়েছেন। কয়েক শ’ প্রার্থীর মধ্য থেকে বাছাই হয়ে আসা এসব কর্মীকে মাঠপর্যায়ের কাজে নিজেদের মেধা, যোগ্যতা ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে।’

নারীর ক্ষমতায়নের ওপর গুরুত্ব দিয়ে সিসিক প্রশাসক বলেন, ‘ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচিতে নারীদের বিশেষভাবে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে নারীরা পরিবার ও সমাজে আরো কার্যকর ভূমিকা রাখার সুযোগ পাবেন।’

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো: আব্দুর রফিক। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন শহর সমাজসেবা কর্মকর্তা মো: শাহিনুর আলম। 
সমাজসেবা কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও প্রশিক্ষকরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।