
অষ্টগ্রাম (কিশোরগঞ্জ) সংবাদদাতা
কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম উপজেলার কাস্তুল ইউনিয়নে দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতায় দুর্ভোগে পড়েছেন অর্ধশতাধিক পরিবারের শতাধিক মানুষ। স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি পুকুর ও পানি নিষ্কাশনের খাল লিজ নিয়ে ভরাট করে স্থাপনা নির্মাণের কারণে গত ছয় থেকে সাত মাস ধরে পানি আটকে রয়েছে। এতে বাড়িঘর, রান্নাঘর ও শৌচাগার পানিতে তলিয়ে গেছে এবং দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানির সঙ্কট।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কাস্তুল কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের দক্ষিণ পাশে হাজীপাড়া, মৈশানপাড়া ও মুসলিমপাড়ার মধ্যবর্তী এলাকায় একটি সরকারি পুকুর ও খাল ছিল। স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি ভূমি অফিস থেকে খালটি লিজ নেয়ার পর তা ভরাট করে বাড়িঘর নির্মাণ ও জমি বিক্রি করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পানি নিষ্কাশনের পথটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় প্রতি বছরই এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দেয় বলে জানান স্থানীয়রা।
সরেজমিন দেখা যায়, পুকুরের চারপাশের বিভিন্ন বাড়ির আঙিনা, রান্নাঘর, শৌচাগারসহ বসতঘরের ভেতরেও হাঁটুসমান পানি জমে আছে। অনেক টিউবওয়েল পানির নিচে তলিয়ে থাকায় খাবার পানির সঙ্কট দেখা দিয়েছে। দীর্ঘদিন পানি জমে থাকায় দুর্গন্ধের পাশাপাশি বিভিন্ন রোগব্যাধি ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
হাজীপাড়ার বাসিন্দা আব্দুল হামিদ বলেন, ছয় মাস ধরে তার বাড়ির নলকূপ, শৌচাগার ও রান্নাঘর পানিতে ডুবে আছে। পরিবারের সদস্যরা ঠাণ্ডা-কাশিসহ বিভিন্ন রোগে ভুগছেন।
রাকিব মিয়া জানান, দীর্ঘদিন পানি জমে থাকায় তার বসতবাড়ির একটি দেয়াল হেলে পড়েছে। যেকোনো সময় সেটি ধসে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। মজু মিয়া বলেন, ঘরের ভেতর হাঁটুপানি থাকায় বৃদ্ধা মাকে নিয়ে চরম দুর্ভোগে দিন কাটাতে হচ্ছে।
স্থায়ী পানি নিষ্কাশনের দাবিতে এলাকাবাসী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত আবেদন করেছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও ইউএনও সাথী দাস সম্প্রতি এলাকাটি পরিদর্শন করেন।
ইউএনও সাথী দাস বলেন, ‘জলাবদ্ধ এলাকাটি সরেজমিন পরিদর্শন করেছি। জনস্বার্থে দ্রুত পানি নিষ্কাশনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
এলাকাবাসীর দাবি, সাময়িকভাবে পানি সেচের পাশাপাশি সরকারি খালটি দখলমুক্ত করে পানি চলাচলের পথ স্থায়ীভাবে পুনরুদ্ধার করতে হবে।








