রাজশাহীতে পরিবহন ভাড়া সমন্বয়
রাজশাহীতে পরিবহন ভাড়া সমন্বয় নয়া দিগন্ত গ্রাফিক্স

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় রাজশাহীতে যানবাহন পরিচালনার খরচ বাড়ছে। এর প্রভাব পড়েছে পরিবহন খাতেও। রাজশাহীতে পরিবহন ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ১৭ পয়সা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। আগে প্রতি কিলোমিটারে ভাড়া ছিল দুই টাকা ২৩ পয়সা। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তা বেড়ে দুই টাকা ৪০ পয়সা করা হয়েছে।

নতুন ভাড়া বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) থেকে কার্যকর হবে বলে জানিয়েছেন রাজশাহী পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি হেলাল উদ্দিন।

এদিকে জ্বালানি তেলের দাম বাড়লেও নগরীর পেট্রোল পাম্পগুলোতে সরবরাহ ও বিক্রি স্বাভাবিক রয়েছে।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে নগরীর বিভিন্ন পাম্পে মোটরসাইকেল, ব্যক্তিগত গাড়ি, অটোরিকশাসহ বিভিন্ন যানবাহনে আগের মতোই জ্বালানি নিতে দেখা গেছে। কোথাও জ্বালানি সঙ্কট বা দীর্ঘ লাইনের পরিস্থিতি দেখা যায়নি।

সরেজমিনে নগরীর গোলগোপুর পেট্রোলিয়াম পাম্পে দেখা যায়, স্বাভাবিক নিয়মে পেট্রোল, অকটেনসহ বিভিন্ন ধরনের জ্বালানি তেল বিক্রি হচ্ছে। ক্রেতাদের উপস্থিতিও ছিল স্বাভাবিক। তবে নতুন দাম নিয়ে তাদের মধ্যে অসন্তোষ লক্ষ্য করা গেছে।

পাম্প সংশ্লিষ্টরা জানান, দাম বৃদ্ধির কারণে কেউ কেউ আগের তুলনায় কম পরিমাণে জ্বালানি কিনছেন।

তেল কিনতে আসা মেহেদী হাসান বলেন, তেলের দাম বাড়ায় আমাদের মতো সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। প্রতিদিন যাতায়াতের জন্য যারা যানবাহন ব্যবহার করেন, তাদের খরচ আরো বেড়ে যাবে। আয় একই থাকলেও ব্যয় বাড়ায় সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়বে।

পবা উপজেলার খড়খড়ি এলাকার ক্রেতা ওমর ফারুক বলেন, তেলের দাম বাড়লে শুধু গাড়ির মালিক বা চালকদের খরচ বাড়ে না। পরিবহন ব্যয় বাড়ার কারণে ধীরে ধীরে বিভিন্ন পণ্য ও সেবার খরচও বাড়তে পারে। এতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরো বাড়বে।

গোলগোপুর পেট্রোলিয়াম পাম্পের কর্মচারী আব্দুল রাজ্জাক বলেন, তেলের দাম বাড়লেও বিক্রি স্বাভাবিক রয়েছে। প্রতিদিনের মতোই মানুষ তেল কিনতে আসছেন। তবে দাম বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের কষ্ট হচ্ছে।

নগরীর রুয়েটের সামনে নয়ান পেট্রোলিয়াম পাম্প অ্যাজেন্সির কর্মচারী সাফওয়ান বলেন, ‘সরকার নির্ধারিত দামেই পাম্পে জ্বালানি তেল বিক্রি হচ্ছে। তবে দাম বাড়ায় ক্রেতাদের মধ্যে কিছুটা ক্ষোভ দেখা যাচ্ছে। বেচা-কেনাও কিছুটা কমেছে। আগে যারা পাঁচ লিটার তেল নিতেন, তাদের কেউ কেউ এখন তিন লিটার করে নিচ্ছেন।’

তিনি আরো বলেন, ‘এখন পর্যন্ত তেল বিক্রি বা সরবরাহে কোনো অস্বাভাবিক পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। স্বাভাবিকভাবেই তেল বিক্রি হচ্ছে।’

পাম্প সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, দাম বাড়লেও নগরীর পাম্পগুলোতে জ্বালানি তেলের সঙ্কট বা দীর্ঘ লাইন তৈরি হয়নি। প্রয়োজন অনুযায়ী ক্রেতারা তেল কিনছেন। তবে বাড়তি দামের কারণে কেউ কেউ প্রয়োজনের তুলনায় কম পরিমাণে জ্বালানি নেয়ায় বিক্রির পরিমাণ কিছুটা কমেছে।

এদিকে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে পরিবহন খাতেও। রাজশাহী পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘মঙ্গলবার সভা করে প্রতি কিলোমিটারে ১৭ পয়সা করে ভাড়া বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। আগে প্রতি কিলোমিটারে ভাড়া ছিল দুই টাকা ২৩ পয়সা। এখন তা বাড়িয়ে দুই টাকা ৪০ পয়সা করা হয়েছে। প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে বুধবার থেকে বাড়তি ভাড়া কার্যকর হবে।’

জ্বালানি তেলের দাম ও পরিবহন ভাড়া বৃদ্ধির ফলে যাতায়াত ব্যয় বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন ক্রেতারা। তাদের মতে, পরিবহন ব্যয় বাড়লে এর প্রভাব ধীরে ধীরে বিভিন্ন পণ্য ও সেবার দামেও পড়তে পারে। এতে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন ব্যয় আরো বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।