
খুলনায় এসএসসি, দাখিল ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের খুলনা মহানগর শাখা।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) খুলনা প্রেসক্লাবের ব্যাংকুয়েট হলে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ বলেন, ‘আমাদের তরুণরা ঐক্যবদ্ধভাবে দেশ গড়ার স্বপ্ন দেখলেই বিশ্বের বুকে বাংলাদেশ মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারবে। এজন্য তরুণদের মেধাবী হওয়ার পাশাপাশি সৎ, দক্ষ ও নৈতিক মানুষ হতে হবে। অ্যাকাডেমিক পড়াশোনায় কৃতিত্বের ছাপ রাখার পাশাপাশি সর্বক্ষেত্রে মেধা, সততা ও দেশপ্রেমের স্বাক্ষর রাখতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘প্রতিযোগিতার মাধ্যমে নিজেকে সেরা হিসেবে তুলে ধরার জন্য অধ্যবসায় ও পরিশ্রমের বিকল্প নাই। তাই এই মেধার লড়াইয়ে সবাইকে এসএসসি পরীক্ষার চেয়েও কঠোর সাধনায় মগ্ন হতে হবে। তবেই সফলতার এ ধারা অব্যাহত থাকবে।’
দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার সমালোচনা করে সিবগাতুল্লাহ বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সবচেয়ে বেশি বেকার হওয়ার পেছনে মূল কারণ পর্যাপ্ত বরাদ্দ না পাওয়া। যার ফলে গবেষণাক্ষেত্রে ব্যাপক ঘাটতির বিষয়টি লক্ষণীয়। দেশে বেকারত্বের সংখ্যা দিনদিন বেড়েই চলেছে। ১৯৬৫ সালে সিঙ্গাপুর স্বাধীন হয়। সিঙ্গাপুরকে স্বাধীনতা অর্জনের জন্য কান্নাকাটি করতে হয়নি। সিঙ্গাপুর থেকে কেউ বিদেশে পড়তে গেলে তারা পুনরায় দেশে ফিরে আসে। আর আমাদের দেশের শিক্ষার্থীরা বিদেশে পড়তে গিয়ে আর ফিরে আসে না। পৃথিবীর সবচেয়ে হাই টেকিং ইন্ডাস্ট্রি রয়েছে সিঙ্গাপুরে। তাদের অর্থনীতি, শিক্ষাব্যবস্থা, রাষ্ট্রব্যবস্থা আমাদের চেয়ে অনেক বেশি উন্নত। আমাদের পিছিয়ে থাকার অন্যতম কারণ দুর্নীতি।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশে সরকারি চাকরির জন্য পলিটিক্যাল ব্যাকগ্রাউন্ড থাকতে হয়। কিন্তু পৃথিবীর অন্য দেশে কোয়ালিটি দেখে চাকরি দেয়া হয়। ফলে সর্বত্র দলীয়করণের ফলে প্রকৃত মেধাবীরা কাঙ্ক্ষিত জায়গায় পৌঁছাতে পারে না।’
সরকারি চাকরিতে মৌখিক পরীক্ষায় নম্বর বৃদ্ধির সমালোচনা করে শিবির সেক্রেটারি বলেন, ‘জুলাই অভ্যুত্থানের লক্ষ্য ছিল বৈষম্যহীন বাংলাদেশ বিনির্মাণ করা। ‘কোটা না মেধা’ স্লোগানের মধ্য দিয়ে আমরা নতুন বাংলাদেশ পেয়েছি। কিন্তু ফ্যাসিস্টের সেই পথ ধরে প্রকৃত মেধাবীদের মূল্যায়ন না করে দলীয়করণের লক্ষ্যে মৌখিক পরীক্ষায় ৪০০% নম্বর বৃদ্ধির ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় নিয়োগের বিষয়টি ম্যানেজিং কমিটির হাতে তুলে দেয়া হচ্ছে। এতে করে আজকের জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কৃতি শিক্ষার্থী ভবিষ্যতে তার কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখার বাধাপ্রাপ্ত হবে।’
জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদ আনাসের চিঠির উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, ‘জুলাইয়ের শহীদ আবু সাঈদ থেকে শুরু করে সকল শহীদরা আমাদের প্রেরণা। দেশের ক্রান্তিলগ্নে শহীদ আনাস যেমন সকল পিছুটানকে দূরে ঠেলে দেশের প্রয়োজনে জীবন বিলিয়ে দিয়েছিল, ঠিক আজকের মেধাবীদেরও দেশের অগ্রযাত্রায় যে কোনো প্রয়োজনে ভূমিকা রাখতে হবে।’
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর খুলনা মহানগর আমির মাহফুজুর রহমান, ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কলেজ কার্যক্রম সম্পাদক হাফেজ ইউসুফ ইসলাহী, সাবেক মহানগর সভাপতি প্রিন্সিপাল জাহাঙ্গীর আলম, মিয়া মুজাহিদুল ইসলাম, জাহিদুর রহমান নাঈম ও অ্যাডভোকেট শেখ জাকিরুল ইসলাম।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ক্যারিয়ার সেশন, সাংস্কৃতিক পরিবেশনার পাশাপাশি অংশ নেয়া শিক্ষার্থীদের ক্রেস্ট, ফুল, সংবর্ধনা গিফট প্যাকেজ ও বইসহ বিভিন্ন উপহার সামগ্রী দেয়া হয়।







